বৃহস্পতিবার

৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশদিন পার হলেও রাজশাহী জেলা বিএনপির নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না কেন?

Paris
Update : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা বিএনপির পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু অজানা কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এতে দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজশাহী জেলা বিএনপির নতুন কমিটির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেই বৈঠকে পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে তারেক রহমান নতুন কমিটি অনুমোদনও দেন। তবে ১০ দিন পার হলেও এখনো নতুন কমিটি ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়াচ্ছে সমালোচনার উত্তাপ।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও জনপ্রিয় ব্লগার ড. কনক সারওয়ার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনাও করেন। ড. কনক সারওয়ার লিখেছেন- “কেন্দ্রীয় দুই-তিন জন নেতার অযাচিত হস্তক্ষেপে ভেঙে পড়েছে রাজশাহী বিএনপির কার্যক্রম। তিন মাসের জন্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে ৬ বছর ধরে চলছে রাজশাহী বিএনপি! নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই প্রবীন নেতা; যাদের বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজী আর যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। সরেজমিন জরিপ অনুসন্ধান করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন কমিটি পাঠালেও তা কেন্দ্রীয় দুই-তিন জন নেতা আটকে রেখেছেন! বর্তমান আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের নাম অনাকাঙ্খিতভাবে জড়িয়ে গেছে কমিটি বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির কয়েকটি ঘটনায়। আর সদস্যসচিব বাবু বিশ্বনাথ সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রত্না খাতুন যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন! ব্লগার ড. কনক সারওয়ার আরো লিখেছেন, বছরের পর বছর ধরে দলের দায়িত্বে থেকে চাঁদ এবং বিশ্বনাথ নিজেদেরই প্রতিষ্ঠিত করছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে। যার ফলে রাজশাহী জেলার রাজনীতিতে বিএনপি কর্মীশক্তি হারাচ্ছে। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত। রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলায় যদি শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালিত না হয় তাহলে সামনের নির্বাচনে তার একটি মারাত্মক বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন রাজশাহী বিএনপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।’’
রাজশাহী বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, নতুন কমিটি অনুমোদন হলেও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দের লোক আনতে চাপ অব্যাহত রেখেছেন। এতে দলের ভিতরে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে। নেতারা জানান, দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠের নেতাদের মূল্যায়ন না করলে সামনের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা এখন প্রক্রিয়াধীন। দ্রুতই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে এটি প্রকাশিত হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন কমিটি পাঠালেও তা কেন্দ্রীয় দুই-তিন জন নেতা আটকে রেখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও জনপ্রিয় ব্লগার ড. কনক সারওয়ারের এমন মন্তব্যের বিষয় জানতে চাইলে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘‘দলীয় সব সিদ্ধান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। রাজশাহী জেলা বিএনপির কমিটির বিষয়টিও প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। এর আগে কোথাও কোন মন্তব্য লেখা ঠিক না।’’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris