স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজশাহী শাহমখদুম থানা শাখার কর্মী সম্মেলন। এতোদিন আহবায়ক কমিটি দিয়ে দলটির কার্যকলাপ পরিচালিত হলেও নির্বাহী কমিটি গঠনের লক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কর্মী সম্মেলন। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশের বর্তমান জটিল রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নির্দেশ মোতাবেক স্বচ্ছরাজনীতির তকমাযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত করার যে নির্দেশনা এসেছে, তারই অগ্রভাগে অবস্থান করছে শাহমখদুম থানার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব নাসিম খাঁন। প্রায় ৩২ বছরের রাজনীতির পরিমন্ডলে নিজেকে নিট এ্যান্ড ক্লিন ইমেজের একজন স্বচ্ছকর্মী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন সকলের কাছেই।
প্রায় ৩২ বছরের লম্বা রাজনীতির জীবনে নাসিম খাঁনের বিরুদ্ধে নেই কোন চাঁদাবাজি কিংবা দখল দারিত্বের অভিযোগ। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীদের সাথে চলাফেরা কিংবা সুবিধা নেবার নেই কোন অভিযোগ। নিজ দল বিএনপিকে তিনি সর্বদাই সর্বোচ্চ স্থানে রেখেছিলেন নাসিম। তাই অনেকের মতো তিনি কখনোই নিজের আখের গোছাতে পারেননি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেক ভয়ভীতি, হামলা-মামলা আর হুমকি ধামকিকে উপেক্ষা করে দল ও দেশের স্বার্থে চালিয়েগেছেন সাংগঠণিক কর্মকান্ড। ফেয়ার রাজনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম ও চাহিদা রয়েছে তৃণমূল থেকে স্থানীয় রাজনীতির সকল পর্যায়েই। সাংগঠণিক দক্ষতা আর তীক্ষèজ্ঞানের অধিকারি নাসিম খান ছাত্রদল থেকে যুবদল, অতঃপর যুবদল থেকে মূল দলে এসেছেন অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে। দলের প্রতি অগাত ভালবাসা আর সাংগঠণিক কর্মকান্ডে সর্বদাই ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে রাজনীতি করছেন ১৯৯৩ সাল থেকে এখন অবদি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা খেয়েছেন তিনি। প্রায় অর্ধশত মামলা নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি এখন বেশ পাঁকাপোক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরকে পেরেছেন। মোট ৪৮টি মামলার মধ্যে অধিকাংশ মামলা থেকে পরিত্রাণ মিললেও এখনো পাঁচটি রাজনৈতিক মামলা নিজের মাথার উপরে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর অন্যগুলো থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
নাসিম খাঁন বলেন রাজনীতি করতে এসে কখনোই অর্থ-সম্পদ কিংবা পদপদবীর পাবার পেছনে দৌড়ঝাপ করিনি। আমার পরিশ্রম, দক্ষতা, ন্যায়নীতি আর দলের হয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রেক্ষিতেই আমি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ পদপদবী আর দায়িত্বভার পেয়েছি। আসন্ন শাহমখদুম থানার কর্মীসম্মেলনে সভাপতি পদে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে আমি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরো বেশি সুসংগঠিত করার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিবো। নাসিমের রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের ওয়ার্ড কমিটির মধ্য দিয়ে। দলের প্রতি একনিষ্ঠ ভালবাসা আর সাংগঠণিক কাজে সর্বদাই অগ্রগামী ভূমিকা পালনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে শাহমখদুম থানা ছাত্রদল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পান নাসিম। সুনামের সাথে ছাত্র রাজনীতির গন্ডি পেরিয়ে যোগদেন যুবদলে। ২০০১ সালে ১৭ নং ওয়ার্ড কমিটিতে যুবদলের সেক্রেটারি হিসেবে হাল ধরেন নাসিম। প্রায় ৫ বছর ওয়ার্ড যুবদলের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালে রাজশাহী মহানগর যুবদলে সদস্য হিসেবে নাম লেখান। সুনাম আর দক্ষতার সাথে মহানগর যুবদলে দীর্ঘ সময় অতিক্রম শেষে ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভঙ্গুর প্রায় থানা কমিটিকে পুণঃজীবিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেন শাহমখদুম থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্যাডারবাহিনী আর পুলিশের চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করে হামলা মামলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শাহমখদুম থানার প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় যুবদলের রাজনীতিকে সুসংগঠিত করে ২০২১-২২ সালের দিকে আবারো দায়িত্বে আসেন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। গত ৮ জানুয়ারী’২০২৫ তারিখে শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন নাসিম। রাজনীতিতে বিভিন্ন ধরণের হামলা মামলা আর নির্যাতনকে জয় করে তিনি এখন যুবসমাজ সহ বিএনপির নেতাকর্মী আর সমর্থকদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে। আসন্ন কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শাহমখদুম থানার সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রথম পছন্দের তালিকায় আছেন বলে জানান বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।