শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

বাগমারায় রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিলেন কলেজ শিক্ষক, চলাচলে ভোগান্তি, ঝুঁকিতে মৎস প্রকল্প

Paris
Update : শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বাগমারা থানাধীন ১১নং গণিপুর ইউনিয়নের হাসনীপুর গ্রামের মৎস ব্যবসায়ী মাহাতাব হোসেন ডালিমের পুকুর সংলগ্ন যাতায়াতের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও মৎস ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অংকের চাঁদার দাবিতে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করার অভিযোগও উঠেছে। গত ২১-০৫-২০২৫ ইং তারিখে ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী বাগমারা থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, বাগমারা থানাধীন দক্ষিণ জামালপুর গ্রামের মৃত সাহারাফতুল্যার ছেলে আইয়ূব আলী (কলেজ শিক্ষক), মৃত আঃ সামাদ মন্ডলের ছেলে শাহরিয়ার সুলতান বাবু, মৃত আঃ খালেক শাহ’র ছেলে কামাল হোসেন ও মৃত মোজাহার প্রাং এর ছেলে শহিদ।
বাগমারার ইউএনও এবং থানায় দেয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্যের সূত্র মতে, মৎস ব্যবসায়ী ডালিমসহ তার ব্যবসায়ীক অংশীদারগণ যৌথভাবে দক্ষিণ জামালপুর মৌজার অন্তর্গত ১০০ বিঘার পুকুর ১০ বছরের জন্য লীজ নেন। লীজের শর্তানুযায়ী মাত্র পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়েছে। পুকুরটিতে প্রায় পাঁচ কোটি সমমূল্যের মাছ চাষাবাদ অব্যাহত আছে। পুকুরের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য পুকুর সংলগ্ন জমি রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কাগজে-কলমে লীজ নিয়ে সেখানে রাস্তা তৈরি করেন ডালিমসহ তার ব্যবসায়ীক পার্টনাররা। দক্ষিণ জামালপুর মৌজার অন্তর্গত জমিটিরি জে.এল নং-১০৬। রাস্তা তৈরির নিমিত্তে জোত সম্পত্তির লিজ চুক্তিনামায় মোট ১৪ জন ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হওয়া লিজ বন্দোবস্তে প্রদানকৃত জমির পরিমাণ ওই ১৪ জন ব্যক্তির অংশ আলাদা আলাদাভাবে চুক্তিপত্রে উল্লেখ্য করা আছে। রাস্তা তৈরির নিমিত্তে লিজ নেয়া পুকুর ও নির্মিত রাস্তাটির মেয়াদকাল ২০১৯ সাল থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা উল্লেখ্য থাকলেও ঐগ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি আইয়ূব আলী তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে জোরপূর্বক পুকুর সংলগ্ন রাস্তাটির উভয়প্রান্ত বন্ধ করে দেন। অভিযুক্ত আইয়ুব আলী পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক।
ভুক্তভোগী মৎস ব্যবসায়ী ডালিম ও তার ব্যবসায়িক অংশীদাররা বলেন, অভিযুক্তরা ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। তাদের চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে লীজ নেয়া পুকুরে আমাকে আর মাছ চাষ করতে দিবেনা বলে হুমকি দেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতি সাধন করবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এছাড়াও, পুকুরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেবারও হুমকি দেয়। অভিযুক্তদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে আমি কর্ণপাত না করার কারণে গত, ২১/০৫/২০২৫ তারিখে সকল বিবাদীগণ হাতে লাঠি-সোটা নিয়ে আমার লীজকৃত পুকুরের একমাত্র রাস্তাটির উপর বাঁশের খুঁটি পুতে সর্বদিক দিয়ে বেড়া স্থাপন করে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেন। পুকুরে চাষাবাদকৃত মাছের খাবার দিতে যেনো না পারি সে উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা এই ধরণের প্রতিবন্ধকা তৈরি করেছে। ডালিম জানান, তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমাকে আমার লীজকৃত পুকুরে মাছ চাষ করতে দিবেনা এবং ভাড়াকৃত যাতায়াতের রাস্তা দিয়ে পুকুরের খাবার সহবরাহসহ করিতে দিবেনা মর্মে হুমকি প্রদান করছে। তাদের এই ধরণের অমানবিক ও বেআইনী কর্মকান্ডের কারণে বর্তমানে তিনি লীজকৃত পুকুরে খাবার সরবরাহ করতে পারছেন না। এভাবে কয়েকদিন অকিবাহিত হলে পুকুরে চাষকৃত মাছগুলো খাবারের অভাবে মারা যাবে। পুকুরটিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ চাষ করা হচ্ছে। গ্রামের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা সেটি প্রত্যাখান করেন। তাই অবশেষে ন্যায় বিচারের দাবিতে থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আইয়ুব আলীর কাছে জানতে চাইলে বলেন, এবিষয়ে আমি তো আপনার সাথে কথা বলবোনা। গ্রামের বিষয়, গ্রামেই সমাধান হবে। রাস্তায় গ্রামের লোকজন বেড়া দিয়েছে। তারা চিটারি করেছে। আপনি বেড়া দেননি? জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোনে তিনি অসদাচরণ করেন। জানতে চাইলে, বাগমারা উপজেলা নিবাহী অফিসার (ইউএনও) মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, আমি এখনো অভিযোগটি হাতে পায়নি। অভিযোগপত্রটি আপনার দপ্তরের সীল ও স্বাক্ষরসহ রিসিভ করা হয়েছে বলার পর তিনি বলেন, আমার দপ্তরের নিচতলার ডেস্ক-এ জমা হতে পারে। সেটি এখনো আমার টেবিলে আসেনি। আমি হাতে পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য বাগমারা থাকার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris