শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

পবায় কাগজে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই, এতিমদের নামে তোলা টাকা!

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলার ৮নং বড়গাছী ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড অন্তর্গত ইটাঘাটী প্রথমপাড়া গ্রামে জান্নাতুল ফেরদাউস মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা (লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানা) কাগজে কলমে থাকলেও নেই কোন পাঠদানের ব্যবস্থা। পাঠদানের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও মাদ্রাসা ও এতিম বাচ্চাদের নাম ভাঙ্গিয়ে তোলা হয় হাজার হাজার টাকা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন সকাল হলেই তিনটি ইজিবাইক বেড়িয়ে পড়ে দানের অর্থ সংগ্রহের কাজে। ঐ এলাকার স্থানীয় এক সাংবাদিক সহ গ্রামের অধিকাংশ ব্যক্তি জানান, মাদ্রাসায় কখনোই তারা কোন শিক্ষার্থী দেখে নাই। কাগজে কলমে মাদ্রাসার একটি কমিটি থাকলেও সেখানেও আছে ছলচাতুরি আর মিথ্যাচারের ছড়াছড়ি। কোনকিছু না থাকলেও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আর এতিম বাচ্চাদের কথা বলে বছরজুড়েই রাজুর চলে সহায়তার নামে নিজের পকেট ভারি করার পায়তারা। এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে গ্রামের কেউ কথা বলতে গেলে রাজু ও তার ক্যাডার বাহিনী হেনস্তা করে। স্থানীয়রা মাদ্রাসাটির নাম দিয়েছে ‘টাকা চাল তোলা মাদ্রাসা’।
মাদ্রাসার পরিচালক (মালিক) রাজু আহমেদ একটি মাদক মামলায় বেশকয়েক মাস জেলে ছিলেন। রাজু ঐ গ্রামের মোঃ তফেজউদ্দিন এর ছেলে। গত ২০-০১-২০২৯ তারিখে রাজু আহমেদের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়। যার জিআর মামলা নং ২১/২০১৯ (পবা থানা)। ঐ মামলায় তিনি কয়েকমাস কারাগারে ছিলেন।
ইটাঘাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোইবর আলী বলেন, রাজু আহমেদ অনুমতি না নিয়ে আমার স্বাক্ষর নকল করে আমাকে মাদ্রাসার সভাপতি বানিয়ে ছিল। বিষয়টি আমি অবগত হবার পর সভাপতির পদ থেকে আমার নাম কর্তন করতে বলেছি। শুনলাম কয়েকদিন আগে সে নাকি কাগজে কলমে নতুন একটি কমিটি গঠণ করেছে। তার মাদ্রাসায় কখনোই কোন শিক্ষার্থী চোখে পড়েনি বলেও জানান তিনি। স্থানীয়রা বলেন, সারাবছর এই মাদ্রাসার একাধিক ব্যানারে ভর্তি চলছে লিখা থাকলেও কখনোই কোন ছাত্রী আমাদের চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের কাছ থেকে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঐ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, রাস্তার ধারে প্রায় তিন কাঠার একটা জায়গা সীমানা প্রাচীর ও টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভেতরে রয়েছে ইটের বেশ কয়েকটি ঘর। ঘরের ভেতরে শিক্ষার্থী ও এতিমদের জন্য নেই কোন বিছানাপত্র ও শিক্ষার উপকরণ। আছে শুধু পর্যাপ্ত আলু পেয়াজ আর চালের স্তুপ। দেখেই বোঝা যায় সেগুলো সংগ্রহের। মাদ্রার্সা পরিচালক রাজু আহমেদ না থাকায় মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটিও সম্ভব হয়নি। তবে, মাদ্রাসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজে ভাড়ায় চালিত একটি অটোরিক্সা (ইজি) দেখতে পেয়ে সেটিকে থামানোর পর মাদ্রাসার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অটোচালক প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। অটোচালক গ্রামের লোকজনের সামনেই ঐ গ্রামের একাধিক ব্যক্তিসহ কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সাথে হুমকি ধামকি দেয় এবং মারমুখী আচরণ করে। সমস্ত রাজশাহী জেলাতেই তাদের প্রভাব আছে বলেও জানান। বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও চেয়ারম্যানের কথা উল্লেখ করে প্রাণনামের হুমকিও দেয় মাদ্রাসার সেই অটো চালক। মাদ্রাসা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে অনেককিছু ঘটে যাবে বলেও হুমকি দেয়। সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়া সাংবাদিকদের চেহারা চিনে রাখা ও পরে এর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকি দেয় মাদ্রাসার মালিক রাজুর সেই অটোচালক।
স্থানীয়রা জানান, রাজু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় ৩ থেকে ৪ অটোরিক্সা ব্যবহার করে মাদ্রাসার নামে ভুয়া রশিদ ছাপিয়ে টাকা, চাল-ডাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অনুদানের টাকা আত্মসাত করছে। ধর্মকে ঢাল করে মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর নামে অর্থ উত্তোলন করে পেট পুঁজি ব্যবসা বন্ধ করা হোক বলে দাবি স্থানীয়দের। তা না হলে, ফেয়ার মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে মানুষের দান-অনুদান ও সাহায্য সহোযোগিতা করার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে। রাজু একাধারে ঐ মাদ্রাসার সভাপতি-মহাপরিচালক ও ক্যাশিয়ার বলেও জানান স্থানীয়রা। অনেক চেষ্টার পর রাজু আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে যতসামন্য কথা হয়। জানতে চাইলে তিনি কর্কষ ভাষায় বলেন, মাদ্রাসার কাজ চলছে। তাই আগামী কয়েকমাস মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই। কিন্তু সরেজমিনে তো অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কোন ধরনের কাজ চোঁখে পড়লোনা বলা মাত্রই তিনি বলেন, আগামীকাল সরাসরি দেখা করেন। আপনার সাথে সরাসরি কথা বললো!


আরোও অন্যান্য খবর
Paris