স্টাফ রিপোর্টার : জান্নাতুল ফেরদৌস ও জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা নামের দুই সহদর বোন নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ দাবি করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নিয়েছেন আইনী সহায়তাও। করেছেন উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন। সরকারি প্রজেক্টের(আরডিএ’র প্রান্তিক প্রজেক্ট) জন্য জমি অধিগ্রহণকালে হারানো জমির বিপরীতে দুটো প্লট পাবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকার পরেও অবশেষে দাপ্তরিক নানা জটিলতায় সেটিও এখন প্রায় অলীকের পথে। কর্তৃপক্ষের অসহোযোগিতা ও মানবিক দৃষ্টিভোঙ্গির অভাবকেই দুষছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
গত ৫ জানুয়ারি-২০২৫ প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের অধিকারকে অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়াও আবেদনপত্র জমা না নেয়াসহ উচ্চ আদালতে মামলা চলমানবস্থায় প্লট বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত না করে উপরন্তু প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া চলমান রাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ফেরদৌস ও মুক্তা। প্লট বরাদ্দের বিপরীতে আবেদন জমা নেয়াসহ বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার অভিপ্রায় নিয়ে গত ১০-১২-২০২৪ তারিখে উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন দাখিল করেন তারা। যার রীট পিটিশন নং: ৯৭৩৩/২০২৪ এবং যার ‘আরডিএস’ স্মারক নং- ২৫.৪০.০০০০.০০৬.৬৫.০০১.১৪.১৪৯১। অধিগ্রহণের চেক হাতে পাবার পর; দুইবোন নিজেদের নামে প্লট বরাদ্দ পেতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)’র চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। আবেদন বলা হয়েছে, আমরা দুই বোন গত ৩১-৮-১৯৯৮ তারিখে পবা উপজেলার গোয়ালপাড়া মৌজায় আরএস-২১০ নং দাগে সরকারি পাকা রাস্তার ধারে ০.১৮ শতক জমি একত্রে কবলা দলিল মূলে ক্রয় করি। উক্ত জমি প্রান্তিক আবাসিক প্রজেক্টের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করে। জমি অধিগ্রহণ বিষয়ক ‘এলএ’ অফিসের একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছিলাম অনেক দেরিতে। চিঠি পেয়ে গত ২৫-০১-২০২৪ তারিখে অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পাবার আশায় যাবতীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন দুই বোন। যার ডকেট এলএ কেস নং-১/২২-২৩।
জান্নাতুল ফেরদৌস আরো বলেন, প্রান্তিক প্রজেক্টের কারনে আমরা দুইদিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। একদিকে নষ্ট হয়েছে আমাদের ক্রয়কৃত জমি, তো অন্যদিকে, হাতছাড়া হলো আরডিএ’র প্লট। উক্ত প্রজেক্টে আমাদের জমি থাকা সত্বেও ‘এলএ (ভূমি)’ অফিস থেকে অধিগ্রহণের চেক যথাসময়ে হাতে না পাবার কারনে, আরডিএ’র নিয়মানুযায়ী যথাসময়ে প্লটের বিপরীতে আমরা আবেদন ও টাকা জমা দিতে পারিনি। জমি অধিগ্রহণের চেক হাতে পাবার পর ০.০৫ শতকের দুটো প্লটের জন্য আবেদন করতে চাইলে আরডিএ কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন জমা নেয়নি। আরডিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের আবেদন জমা নিতে না চাওয়ায় আমরা সুবিচার পাবার আশায় উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দাখিল করি। আরডিএ’র সেই প্রান্তিক প্রজেক্টে সর্বমোট ২০৪টি প্লট ছিল।
উক্ত রীট পিটিশনের কপি আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছানোর পরেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়নি আরডিএ কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু, রীট পিটিশনটি মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা সত্বেও আরডিএ কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রজেক্টের প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম চলমান রেখেছে। যেটি কিনা আইন ও আদালদকে অসম্মান করার শামিল বলে মন্তব্য জান্নাতুল ফেরদৌস ও জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা। রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের বিচার কার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্লট বরাদ্দের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দাবিদার দুই বোন আরডিএ’র চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন বলে জানান তারা। জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এস্টেট অফিসার বদরুজ্জামানন বলেন, অভিযোগকারিরা প্লট বরাদ্দের বিপরীতে আবেদন করেছেন সয়ম উত্তীর্ণ হবার পর। সময়ের মধ্যে আবেদন করলে সে আবেদন করলে সেটি আমরা অবশ্যই গ্ৰহণ করতাম। উচ্চ আদালতে বরাদ্দ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার জন্য দুইবোন একটি রীট পিটিশন দাখিল করেছেন। সে বিষয়ে আপনাদের মন্তব্য কি, জানতে চাইলে এস্টেট কর্মকর্তা কর্মকর্তা বলেন, আদালত থেকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ আমরা পেয়েছি, আমরা সেটির যৌতিক ও বস্তুনিষ্ঠ উত্তর অবশ্যই দেবো। এদিকে আরডিএ সূত্র বলছে, উক্ত প্রজেক্টে সর্বমোট ২০৪টি প্লট আছে। প্রতি কাঠা প্লটে দাম ১৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা। উক্ষ প্রজেক্টে ৫, ৬, ৭, ৮ ও ১০ শতকের প্লট আছে। জানতে চাইলে এস্টেট কর্মকর্তা বলেন, সর্বমোট ৪০৫ টি আবেদন জমা পরেছিল। নিয়মমাফিক আবেদনগুলো যাচাই বাছাই শেষে লটারির মাধ্যমে মোট ১৭৪টি প্লট আবেদকারিরদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০টি প্লট কোটার অন্তর্ভূক্ত আছে। তবে, সরকার থেকে নেই কোটা বাতিল হতে পারে। অবশিষ্ট ৩০টি প্লট বরাদ্দের সার্কুলার/নোটিশ দেবার পর নির্দিষ্ট নিয়মে যদি তারা আবেদন করেন তবে তাদের আবেদন আমরা অব্যশই গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ এবং নিয়মানুযায়ী লটারির মাধ্যমে সেগুলো বরাদ্দ দেয়া হবে।