স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় চারটি দোকানঘর ও জায়গা জোরপূর্বক দখলে নেবার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আলী হোসেন নিজের ক্রয়কৃত জমি ও দোকানঘর রক্ষার্থে গত ১৩ নভেম্বর রাজশাহীর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মোট ৯ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ফৌ:কা: বিধির ১৪৫ ধারায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত নালিশী/বিবদমান জমির উপর ১৩ নভেম্বর একটি অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে (আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত) বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দেন। কিন্তু অভিযুক্তরা তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নালিশী সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নেবার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন বলে অভিযোগ বাদীর। অভিযুক্তরা হলেন, সাহেব বাজার গুড়পট্টি এলাকার কাশেম’র ছেলে শমসের আলী ও ইয়াসিন, জমসেদ আলীর ছেলে মো. ভারত ও নুরুল ইসলাম, মৃত আব্দুর করিমের ছেলে সাইদ, সেন্টু, সাইদুর রহমান, ইজু, রিয়াজ হোসেন। থানায় দেয়া অভিযোগ ও আদালতের মামলার কপি থেকে জানা গেছে, গত ১০-১১-২০২৪ ইং তারিখ রাত্রি ১০:০০ টায় অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে সাহেব বাজার গুড়পট্টিতে আলী হোসেনের চারটি দোকান জোরপূর্বক দখলে নিতে যায়। তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা আলী হোসেনের উপর চড়াও হয়ে উচ্চস্বরে বলতে থাকে, এই চারটা দোকানে তোকে ব্যবসা করতে দিবোনা; তুই দোকান থেকে বেড়িয়ে যা। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা মারমুখি আচরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও পথচারিদের প্রতিরোধের মুখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, জায়গাটির মূল মালিক ছিলেন শ্রী প্রশান্ত নাথ দাস। তিনি ১৯৮২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মোঃ সাদেক আলীর কাছে ১.৬২ শতক (দোকানঘর) জায়গা বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ৬৯৪৬/২০২১ বিক্রয় কবলা দলিলমূলে চারটি দোকান ঘর আমি (আলী হোসেন) ক্রয় করি। ক্রয়কৃত জমিসহ দোকানঘর নিজ নামে খারিজপূর্বক নিয়মিতভাবে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছি। উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী মালিক (দ্বিতীয় মালিক) সাদেক আলীও উক্ত নালিশী সম্পত্তি মূল মালিকের কাছ থেকে হস্তান্তর নেবার পর দখলপূর্বক নিজ নামজারিপূর্বক নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু, বিগত কয়েকবছর ধরে অভিযুক্তরা ভুয়া দলিল বানিয়ে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেবার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের লম্ফজম্ফ আর ভয়ভীতি প্রদর্শণের মাত্রা ও পরিধি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
অভিযুক্তদের এই ধরণের অসৎ অভিপ্রায়ের কারণে সমাজ ও ব্যবসা মন্ডলে আমার আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও সম্মানহানী ঘটছে। আমি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। অভিযুক্তদের অত্যাচার ও রোষানল থেকে রক্ষার পাবার আশায় গত ৪ নভেম্বর বোয়ালিয়া থানায় লিখিত একটি অভিযোগ করলেও প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ভূমিকা আজ অবদি নেয়নি। উপরন্তু, বিজ্ঞ আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপপূর্বক থানাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিলেও থানা-পুলিশের ‘নামকাওয়াস্থে’ দায়িত্বপালনের কারণে সার্বক্ষণিক ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবসা করতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলী হোসেন।
উল্লেখ্য, বিবদমান জমিটি (দোকানঘর) বোয়ালিয়া মৌজার অন্তর্গত। যার সি.এস খতিয়ান নং: ১৯২, এস.এ খতিয়ান নং: ১৯৩৫, আর.এস খতিয়ান নং: ২৪৪৫, হোল্ডিং নং: ২৬৪৬, সিএস দাগ নং: ৩৩৮৬, এস,এ দাগ নং: ৬৭৮৭, আর.এস দাগ নং: ৫৮৭৫, রকম: দোকানঘর, পরিমাণ: ১.৬২ শতক।