শাহানুর রহমান রানা : দেশের চলমান অস্থিরতা, লুটপাট ও নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিয়ময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামীম, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানসহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তারা। রাবির সমন্বয়কারিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু, মাসুদ রানা, মেহেদী হাসান মুন্না, নওসাজ হাসান মুন্না, তানভীর আহমেদ রিদম, মেহেদী সজীব, আকিল বিন তারেব। সভাতে রাজশাহীর সমন্বয়করা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ যথাযথ পালন করার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়াও প্রশাসন ও সেনাবাহিনী নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনস্বার্থে যেনো কাজ করে যান যে বিষয়টির প্রতিও গুরুত্ব দেন তারা। রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে বিভিন্ন ধরণের দাবি তুলে ধরেণ সমন্বয়করা। সভায় সমন্বয়করা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোঠা ভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ হলেও, দেশের চলমান অরাজকতা, লুটপাট ও দুস্কৃতিকারিদের অপকর্ম প্রতিহত করতে এখনো রাতদিন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারবাহিকতায় দেশের সরকারি স্থাপনা, মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্নস্থানে তারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এছাড়াও লুটপাট হওয়া সরকারি সম্পদগুলো রিকাভার (ফিরিয়ে আনা) করতে মাঠে কাজ করছে শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রযন্ত্র মেরামত ও সরকারের সকল সেক্টর থেকে দুর্নীতি দূরিভূত করতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে সেটি যেনো বৃথা না যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সহোযোগিতা চেয়েছে সমন্বয়করা। সমন্বয়করা আরো বলেন, রাষ্ট্রের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি ও লেজুরভিত্তিক দায়িত্ব পালন রিমুভ করতে না পারলে এই রাষ্ট্র কখনোই ঠিক হবেনা। রাষ্ট্রের প্রতিটি পার্ট (অংশ) মেরামত করতে হবে। তারা আরো বলেন, আমার শুধু দুর্নীতি নির্মুল করতেই না, প্রতিটি সেক্টরে ‘ইললিগ্যাল’ বা অবৈধ কাজকেও দূরিভুত করতে চায়। প্রতিটি জায়গায় আমরা সৎ ও নিষ্ঠাবন ব্যক্তিকে বসাতে চায়। কোনো সিস্টেম যেনো সরকারি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে করাপ্ট বা দুর্নীতিগ্রস্থ করতে না পারে সেদিকে আপনারা সচেষ্ট থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সমন্বয়করা। সমন্বয়করা আরো বলেন, আমরা বিগত ৫৩ বছরের জঞ্জাল নিয়ে চলতে চাই না। আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট গঠণে মাঠে নেমেছি। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লেজুর বৃত্তিক প্রথা পরিহার করে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক করার এই আন্দোলন আজ ছাত্র-জনতার। তাই এই আন্দোলন যেনো রাজনৈতিক মোড় না নেয় সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান সমন্বয়কদের।
সমন্বয়করা নরবারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, রাজনীতি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তাবেদারি বাদ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করুণ। তবেই দেশবাসি পাবে প্রকৃত সেবা। শিক্ষার্থীদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম যেনো নিষ্ফল না হয় সেজন্য সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেশ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের সকলকে অগ্রসর হতে হবে।
এছাড়াও উক্ত সভায় সমন্বয়করা দাবি তোলেন প্রশাসনের যেসকল কর্তা ও সদস্যরা নিজেদের হাত শিক্ষার্থীদের রক্তে রাঙিয়েছেন তারা যেনো কোন প্রকার শাস্তি ব্যতীরেকে পুণরায় দায়িত্ব পালনে মাঠে নামতে না পারেন। যারা সরাসরি অপরাধ করেছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, তথ্য, প্রমাণ ও উপাত্ত যাচাই বাছাই করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিসি আরো বলেন, সকলে মিলে একসাথে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আসা রাজশাহীর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামীম নিজ বক্তব্যে বলেন, আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করবো। ‘ব্রেন এন্ড হার্ট’ এই দুটোর সমন্বয়ে কাজ করতে পারলে যে কোন কাজেই সফলতা আসকে শতভাগ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সর্বদাই ছিল, এখনো আছে এবং থাকবে সর্বদাই বলে আশ^াস দেন সেনাবহিনীর ‘সিও’ শামীম। তিনি আরো বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা আমাদের কাজ ও দায়িত্বকে বেশ সহজ করে দিয়েছে। তাই সকলে মিলেই একত্রে কাজ করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।