রাজধানীর প্রগতি সরণি থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়লেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (০৩ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৫টায় দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চলে যান তারা। এর আগে দুপুর ১টার দিকে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জড়ো হয়ে বসুন্ধরা মেইন গেট দিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রগতি সরণি রাস্তা দখল করেন। এতে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাড্ডা সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তবে আন্দোলনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য থাকলেও তাদের বাধা দেওয়া হয়নি। বিকাল পৌনে ৫টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাশরুর বলেন, আমাদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর হিসাব সরকারকে দিতে হবে। প্রতিটি হত্যার বিচার করতে হবে। পুলিশ দিয়ে আমাদের ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল রোববার থেকে আমরা একযোগে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মাশরুর আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দিয়েছে। তারাও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। আমরা চাই আমাদের অসহযোগ আন্দোলনে সবাই সহযোগিতা করবে। পুলিশ ভাইরাও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা জানাবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষকদের যুক্ত হতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নর্দা ফুটওভার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ দখল করে। আন্দোলনকারীদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনে নর্থসাউথ, ইনডিপেনডেন্ট, আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল, ইউল্যাব, ইউআইটিইউ, নর্দান, প্রেসিডেন্সিসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ছাত্রসমাজের যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা সমর্থন জানাতে রাস্তায় নেমেছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর থেকে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকাল ৫টা থেকে সড়ক স্বাভাবিক হয়ে যায়। যান চলাচল স্বাভাবিকের পাশাপাশি দোকানপাট খোলেন ব্যবসায়ীরা।-এফএনএস