শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

দিনমজুরদের কাজ নেই শহরে সপ্তাহখানেক ধরে উপার্জন শূণ্য

Paris
Update : শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও নগরীর পাশর্^বর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের খোঁজে প্রতিদিন কয়েকশ দিনমজুর শহরে প্রবেশ করে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন পেশার শ্রমিক পাওয়া যায় নগরীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে। এরমধ্যে অন্যতম হলো, রেলগেট কামারুজ্জামান চত্বরের উত্তর ও দক্ষিণ কোণে, শালবাগান পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন ফুটপাতে, ভদ্রা ও তালাইমারি মোড়। গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে কারফিউয়ের কারণে এই স্থানগুলোতে শ্রমিকের পড়েছে ভাটা। কাজের সন্ধানে যারা প্রতিদিন আসছেন, তাদের অধিকাংশই ফিরে যাচ্ছেন কাজ না পেয়ে। রাজশাহী নগরীর পাশ^বর্তী বানেশ^র, সারদা, কাঁটাখালি, চারঘাট, পুঠিয়া, মহিষালবাড়ি এলাকা ছাড়াও মহানগরের আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে প্রতিদিন কাজের খোঁজে শহরে আসে কয়েকশ শ্রমিক (দিনমজুর)।
গত শুক্র ও শনিবার (২৬ ও ২৭ জুলাই) ভোর ছয়টা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত নগরীর রেলগেট, শালবাগান, ভদ্রা ও তালাইমারি এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শহরে আসা শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, সপ্তাহখানেক ধরে নেই কোন উপার্জন। অনেক চেষ্টা করেও কাজের কোন সন্ধান পায়নি। খুব কষ্টে কাঁটছে প্রাত্যহিক জীবন। কারফিউ শিথিলতার সময়ে কাজ পাবেন সেই আশায় তারা আসলেও দেখা নেই কোন কাজের বলে জানান শ্রমিকরা।
কাজের সন্ধানে পুঠিয়া শিবপুর গ্রাম থেকে আসা মোমিন জানায়, ভোরে স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে ইজিবাইকে রাজশাহী শহরে এসেছি। ভোর ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বসে আছি। কিন্তু আজও কেউ কোন কাজ দিতে পারলো না। কোনভাবে কোন কাজের ব্যবস্থাও করতে পারলাম না। আজ নিয়ে পাঁচদিন হলো কোন কাজ নেই। এখন বাড়ি ফেরার টাকা পকেটে নাই। কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে বাজার করে কোন রকমে ৪ জনের পরিবারের সংসার চালায়। আজও খালি পকেটে বাড়ি ফিরতে হবে।
হলিদাগাছি গ্রামের তজুল ইসলাম ও চামটা গ্রামের শফিকুল বলেন, বিগত সপ্তাহখানেক ধরে কোন ধরনের কাজ নেই। আগে মাটি কাটার কাজ মাঝেমধ্যেই পেতাম। কিন্তু প্রায় সাতদিন হলো কাজ নেই। কারফিউ চলাবস্থায় সাইকেল চালিয়ে শহরে আসতাম। ভেবে ছিলাম কারফিউ শিথিল হবার পর থেকে কাজ হয়েতো পাবো। কিন্তু এখনও কাজ নেই। সংসার চালানো তো দূরের কথা, এক কাপ চা খেতেও ভয় লাগে।
বানেশ^র এলাকা থেকে আসা একবৃদ্ধ দিনমজুর বলেন, বিগত দুই যুগের বেশি সময় ধরে আমি শ্রমিকের কাজ করছি। করোনার সময় যেমনটা হয়েছিল, এখন ঠিক তেমনটাই হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে কোন কাজ নেই। ছেলে মানুষরাও কাজ পাচ্ছেনা। আর আমি তো বুড়ো। ত্রিশ টাকা নিয়ে শহরে এসেছিলাম। এখন পকেট শূণ্য। কাজ না পেলে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হবে।
বানেশ^র এলকার আনারুল, চারঘাট উপজেলার ইয়াসিন সহ অন্যান্য শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে ক্ষোপের শুরে বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন, গন্ডগোল আর কারফিউ এর কারণে গেল দুই সপ্তাহ ধরে কাজ নেই বললেই চলে। চলতি মাসের প্রথম দিকে অধিকাংশ শ্রমিকরা কোন না কোন কাজ পেতো। কিন্তু এখন কাজ নেই বললেই চলে।
কোন ধরনের কাজ আপনারা বেশি পান প্রশ্নের জবাবে শ্রমিকরা জানান, মাটি কাটার কাজটাই আমরা বেশি পায়। এছাড়াও, বালু তোলা, রাজমিস্ত্রির কাজে লেবার হিসেবে সহায়তা করা, কিংবা কখনো কখনো ইট পাথর আপলোড-আনলোড করা। আবার কখনোবা ইটের সুড়কি ও খোয়া একস্থানে থেকে স্থানে সরানোর মতো কাজ আমরা পেয়ে থাকি। বানেশ^র এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধ দিনমজুর রমজান আলী বলেন, বয়স্ক মানুষকে এমনিতেই কাজ দিতে চায় না। এর মধ্যে সারা দেশে কারফিউর কারণে কাজের খুবই সংকট হয়ে পড়েছে। ছেলে মানুষরাও কাজ খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকে কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। পকেটে ২০ টাকা আছে। কিন্তু বাড়ি ফিরতে লাগবে ৩০ টাকা। আবার কোন শাক-সবজি না নিয়ে গেলে তো বাড়ীতে রান্নাও হবে না। কাজ না পেলে হেটে হেটে বাড়ি ফিরতে হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris