সোমবার

৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি

রাজশাহীর চার পৌরসভায় মেয়র হলেন যারা

Paris
Update : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল রোববার রাজশাহীর তাহেরপুর, গোদাগাড়ী, তানোর ও নওহাটা পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটগনণা শেষে তাহেরপুরে নৗকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, গোদাগাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাবু, তানোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরুল হক ও নওহাটা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

মচমইল থেকে সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভায় টানা তিন বারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল রোববার চতুর্থ ধাপে তাহেরপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ১০৮৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পেয়েছেন ৯০৩ ভোট। আবুল কালাম আজাদ এ নিয়ে তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করলেন। এর আগে গত ২০১০ ও ২০১৫ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন উপলক্ষে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল। সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদেরও ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়। অনেক বয়স্ক ভোটারদের স্বজনদের কাধে ভর করে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন।

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাবু বিজয়ী হয়েছেন। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক। মনিরুল ইসলাম বাবু ভোট পেয়েছেন ৮৮৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মনোনিত গোলাম কিবরিয়া রুলু তার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৩৯১ ভোট।

আর আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস তার নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩৬৫০ ভোট। এ পৌলসভায় ইভিএমএর মাধ্যমে ভোট গ্রহন করা হয়। গোদাগাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চারজন। এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাবেক শিবির নেতা ড. ওবায়দুল্লাহ।

তানোর প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১২৬৩২ ভোট। প্রথমবার তিনি মেয়র নির্বাচিত হলেন। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি বর্তমান মেয়র ও বিএনপির মনোনিত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান তার ধানের শীষ প্রতিকে ভোট পেয়েছেন ৭২১৭ ভোট। এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক নারিকেল গাছ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৪৫ ভোট। এ পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রার্থী ছিলেন।

এদিকে, রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় মেয়র পদে হাফিজুর রহমান হাফিজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। রাত ১০টার পর ভোটের ফলাফলে হাফিজকে নতুন মেয়র ঘোষণা করে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, হাফিজুর রহমান হাফিজ তার নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৮৬ ভোট। এছাড়াও এ পৌরসভায় বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোকবুল হোসেন তার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭৯ ভোট।

জানা গেছে, পৌরসভার বাগধানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শেষ হলে কেন্দ্রে হামলা করে ঘটনা ঘটে। এর পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যালট বাক্সগুলো নিয়ে যায়। পরে ভোট গনণা করা হয়। এ কারণে ভোটের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হয়।

এ পৌরসভায় একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে হাতবোমার বিস্ফোরণসহ আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাংচুরের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন করা হয়। আহত হয়েছেন এক সাংবাদিক। রোববার বেলা ১১টার দিকে নওহাটা পৌরসভার বাগধানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। এতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।

বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল বারী খান অভিযোগ করেন, নৌকার সমর্থকেরা বহিরাগতদের নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল নিতে এসেছিলেন। প্রথমে তাঁরা কেন্দ্রের বাইরে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এরপর ইটপাটকেল মারতে থাকেন। রামদা দিয়ে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রদ্যুৎকুমার প্রামাণিক বলেন, বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ কিছু লোক কেন্দ্রের বাইরে আসেন। তাঁরা কেন্দ্রের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করেন। এলাকাবাসী এতে প্রতিরোধ করেন। পুলিশ প্রশাসনও চলে আসে। এ ঘটনায় ৪০ মিনিটের মতো ভোট বন্ধ ছিল। বেলা ২টা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৯৫ ভোটের মধ্যে ৫৫ শতাংশের মতো ভোট গ্রহণ হয়েছে। লোকজন ভয়ে চলে গেলেও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আবার ভোট দিতে চলে আসেন। কেন্দ্রের বাইরে একটু ঝামেলা হয় বলে জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কারও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি জানেন না। এ ঘটনায় কেউ আটকও হননি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris