স্টাফ রিপোর্টার
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) গোদাগাড়ী জোন-২ এর আওতাধীন কাকনহাট পৌরসভার আব্দুলপুর তালাই মৌজার অন্তর্গত গভীর নলকূপের মেশিনটি বিকল হয়ে পরে আছে। বিগত পনেরদিন ধরে বিকল হয়ে পরে থাকা ডীপ মেশিনটি মেরামত না করার কারণে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ আছে। সেচের অভাবে বোরো ধান আবাদসহ অন্যান্য ফসল হুমকির মুখে পরেছে। আব্দুলপুর তালাই মৌজার জেএল নং-১৫০ ও দাগ নং-২৪ এর অপারেটর সালেহা বেগমসহ ভুক্তভোগী ত্রিশজন কৃষকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন বিএমডিএ গোদাগাড়ী জোন-২ এর সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসানের দপ্তরে জমা দিলেও এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন মেকানিক জহুরুল।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বোরো ধানের জমিতে সেচের পানি না পেয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই কৃষক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঐসময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অভিনাথ মারান্ডি (৩৬) ও তাঁর চাচাত ভাই রবি মারান্ডির (২৭) এমন আত্মত্যাগের ঘটনা দেশের ইতিহাসেও প্রথম বলে দাবি কৃষকদের। নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা সেচযন্ত্রটি মেরামত করার কার্যত কোন পদক্ষেপ না নেয়াতে বিপাকে পরেছেন প্রায় অর্ধশত কৃষক। নিজ জমিতে আবাদ করা কৃষকদের চাইতে বেশি ভোগান্তি আর ঝুঁকির মধ্যে পরেছেন জমি বর্গা নেয়া কৃষকেরা। এবিষয়ে, গোদাগাড়ী জোন-২ এর সহকারি প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েও কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ ডীপ অপারেটর সালেহা বেগমের। তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ঐ গভীর নলকূপটির ডীপ অপারেটর হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। সেচযন্ত্রটি নষ্ট হবার পরেরদিনই মৌখিকভাবে বিষয়টি সহকারী প্রকৌশলীকে অবগত করেন ডীপ অপারেটর সালেহা বেগম। মৌখিকভাবে দেয়া অভিযোগে কাজ না হওয়াতে অপারেট লিখিতভাবে গত ০১ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করলেও বিশেষ একটি কারণে সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বিষয়টি নিয়ে অবহেলা ও কালক্ষেপন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। কি সেই বিশেষ কারণ? জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে দায়িত্বরত অপারেটরকে জোড়পূর্বক অপসারণ করে সেখানে নিজের পছন্দমত অপারেটর নিয়োগ দেয়ার অভিপ্রায়েই নষ্ট হয়ে যাওয়া সেচযন্ত্রটি মেরামতে কালক্ষেপন করছেন সহকারী প্রকৌশলী। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে অপারেটর সালেহা বেগম পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, কোন কারণ ছাড়াই প্রকৌশলী সাহেব আমাকে ডীপের চাবি হস্তান্তর করতে বলেন। আমি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এখানে দায়িত্বে আছি। আজ পর্যন্ত কোন কৃষক আমার বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ দেয়নি। রাজনৈতিক কারণে পরিকল্পিতভাবে জোড়পূর্বক আমাকে অপসরাণ করার পক্রিয়া চলছে। আর একারণেই নষ্ট হয়ে যাওয়া সেচযন্ত্রটি মেরামতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন মেকানিক জহুরুল। গভীর নলকূপটির মেশিন কেনো মেরামত করা হচ্ছে না জানতে মেকানিক জহুরুল বলেন, অফিস থেকে আমাকে ঠিক করতে না বললে আমি কিভাবে মেরামত করবো। তিনি আরো বলেন, এইস্থানে নতুন করে অপারেটর নিয়োগ নিয়ে একটা ঝামেলা চলছে। আর সেকারণেই হয়তো ঠিক করা হচ্ছে না। সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বলেন, সাতজন কৃষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে। নতুন করে কোন অপারেটর নিয়োগ হওয়া না পর্যন্ত ঐকমিটির সদস্যরাই ঠিক করবেন ডীপটি কে চালাবে। নতুন করে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত সেটি মেরামত করা যাবেনা!