মঙ্গলবার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীর নওহাটা গুদামে অনিয়ম, ৫ ট্রাক চাল আটক প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় কমিটি ভূমি সেবায় হয়রানি বন্ধে জবাবদিহি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলেন ভূমিমন্ত্রী রাসিকে যোগদান করলেন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম নাচোলে সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত প্রশাসক রিটনের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসে রাজশাহী নগরীর উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন

রামেবিতে তিন আত্মীয়র চাকরি রহস্য

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

নাজমুল হোসেন। রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে সহকারী কলেজ পরিদর্শক। এর আগে তিনি ২০১৭ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে চাকরিতে যোগদান করেন। একই সমেয় তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউ এ সরকারি প্রজেক্টে তৃতীয় শ্রেণীর চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই বেতন তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সদস্য স্ত্রী শারমিন আক্তার নুরকেও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে চাকরি নিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি অফিস করেন না। চাকরিতে যোগদানের পরে আট মাসে (২৬২ দিনে) এখন পর্যন্ত অফিস করেছেন মাত্র ৬৮টি দিন। মাঝে কয়েকদিন ছুটি নিয়েছেন। আর ছুটি ব্যতিত নিজের খেয়াল-খুশিমতো অনুপস্থিত থেকেছেন স্বামীর দাপটে। অথচ একই কারণে মাত্র এক মাস অনুপস্থিত থাকায় চাকরি গেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহফুজুল রহমানের। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন শারমিন আক্তার নূর। নাজমুল তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকার আমিন বাজারে গড়ে তুলেছেন যমযম নূর আবাসিক এলাকা। সরকারি চাকরি করে জমি ও স্থায়ী সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। তবে সেই অনুমতিও নেননি তাঁরা। এমনই নানাকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে স্বামী-স্ত্রী দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়াও চাচা শরিফুল ইসলামকেও পাইয়ে দিয়েছেন ক্যাশিয়ার পদে চাকরি। আর তাঁদের এসব কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।

সূত্র মতে, নাজমুল হাসানের বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট এলাকায়। তিনি ওই উপজেলার আড়নগর গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে। সামান্য একজন কৃষক পরিবারের সন্তান নাজমুল আগে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একটি প্রজেক্টে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে চাকরি করতেন। ঢাকার একটি তৃতীয় সারির বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা নাজমুল ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি পান। তৎকালীন দুর্নীতিবাজ ভিসি মাসুম হাবিবের কল্যাণে সেকশন অফিসার পদে চাকরি পেয়েই বদলে যেতে থাকে নাজমুলের ভাগ্যেও চাকা। এর পর বর্তমান ভিসি উপাচার্য এ.জেড. এম মোস্তাক হোসেনের সময়ে গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি চলতি দায়িত্ব হিসেবে সহকারী কলেজ পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। এর পর একই বছরের ২৮ নভেম্বর নাজমুল নিজের স্ত্রী শারমিন আক্তার নূরকেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি পাইয়ে দেন। তিনিও ঢাকার একটি তৃতীয় সারির পাবলিক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তবে শারমিন চাকরিতে যোগদানের পরে মাত্র ৬৮ দিন অফিস করেছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছুটি পেয়েছেন ১৩ দিন। গত ঈদের পরে একদিনও অফিস করেননি তিনি। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট ছুটির দিনে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন এ কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ছুটি ছাড়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কলেজ পরিদর্শক স্বামী নাজমুলের স্বামীর দাপটে অফিস না করেই সরকারি কষাগার থেকে বেতন তুলছেন শারমনি। তবে এরই মধ্যে গত ২৫ জুন তাঁর এসব কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সম্মানী হিসেবে ৭ হাজার ৬৫০ টাকার একটি বিলও যোগ হয়েছে শারমিনের হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এ.জেড. এম মোস্তাক হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতেই ওই বিলটি যোগ হয় সারমিনের হিসেবের খাতায়।

সূত্র মতে, নাজমুল তাঁর চাচা শরিফুল ইসলামকেও পাইয়ে দিয়েছেন ক্যাশিয়ার পদে চাকরি। শরিফুলের বাড়িও নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আড়নগর গ্রামে। এছাড়াও সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দুজন গাড়ী চালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গাড়ী চালক ছিলেন। এ নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবকে সরিয়ে প্র্যাক্টিকেল পরীক্ষার দিনে সদস্য সচিব করা হয়েছিল নাজমুলকে। মূলত নাজমুল ওই দুই গাড়ী চালককে চাকরি দিতেই তিনি রাতারাতি সদস্য সচিব হয়েছিলেন।

সূত্র মতে, নাজমুল তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার নূরের নামে গড়েছেন ঢাকায় সাভারে হেমায়েতপুরে যমযম নূর নূর সিটি আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছেন। যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর ১৭ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমোদন ছাড়া, সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। অন্য কোনো চাকরি বা কাজ গ্রহণ করতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রী-সন্তানও ব্যবসা করতে পারবেন না। কিন্তু সে নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো অনুমতি ছাড়ায় নাজমুল স্ত্রীর নামে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলে প্লট বিক্রি করছেন।

নাজমুল হোসেন আরও একটা কেলেঙ্কারি পাওয়া গেছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়ে চাকরিরত অবস্থায় ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের ধানমন্ডি শাখায় কর্মরত ছিলেন। সেখান তিনি মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করতেন। এছাড়াও তিনি সহকারী কলেজ পরিদর্শকের দায়িত্ব পেয়ে বিভিন্ন অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে না গিয়েও সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রামেবির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কলেজ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী অফিস করেননি বেশকিছুদিন এটা ঠিক আছে। তবে কতদিন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন বলতে পারব না। তিনি ছুটিতেও ছিলেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেয়নি। এটি ভুল তথ্য। একটিতে চাকরি ছেড়ে আরেকটিতে যোগদান করেছি। আর আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে যেহেতু জানতে চেয়েছেন, কাজেই সেটির জন্য অফিসে আসেন সাক্ষাতে কথা বলবো।’ এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এ.জেড. এম মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমি এসব নিয়ে কাজ করছি। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris