স্টাফ রিপোর্টার
তৃতীয়বারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন শপথ নিলেও নগর পিতার মসনদে ফিরতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ১২ অক্টোবর তিনি নতুন মেয়াদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিশু মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকেলে প্রতিবেদককে জানান, ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর লিটন স্যার শপথ নিলেও দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৫ অক্টোবর। নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সাধারণ সভা যেদিন অনুষ্ঠিত হয়, সেদিন থেকে তাঁদের পাঁচ বছর মেয়াদকালের শুরু। সে হিসেবে ২০১৮ সালে ওই পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ১১ অক্টোবর। ফলে ওই হিসেব মতে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলরদের মেয়াদ আছে। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১২ অক্টোবর থেকে মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
এদিকে, কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পুনরায় নির্বাচিত মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে রাসিকের পুনরায় নির্বাচিত এই মেয়রকে শপথ পাঠ করান। পরে একই স্থানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের ৩০জন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ১০টি নারী আসনের কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ প্রতিবেদন মঙ্গলবার বিকেলে লেখা অবস্থায় জানা যায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মযজ্ঞ চলমান রাখতে রাসিকের এই নগর পিতা লিটন রাজধানী ঢাকাতেই অবস্থান করছে।
এর আগে গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোটে জয়লাভ করেন। আর ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখার প্রার্থী মো. মুর্শিদ আলম নির্বাচন থেকে সরে গেলেও ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট পাওয়ায় নৌকার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। আর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রাজশাহী সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন। আগের তিনটি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রথমবার মেয়র পদে জয়লাভ করেন খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও মেয়র নির্বাচিত হন। তবে এ সময়ের মধ্যভাগে অর্থাৎ ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে হেরেছিলেন লিটন।