মঙ্গলবার

২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
৬-৮ ঘন্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে: রাসিক প্রশাসক চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মান্দার ৯ যুবক, শোকে স্তব্ধ তিন গ্রাম প্রবাসীর রেমিট্যান্স দেশের অন্যতম আয় হলেও জনশক্তি রপ্তানিতে ধস রাজশাহী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে পশু নিতে পথে পথে দিতে হচ্ছে চাঁদা ভুয়া দলিলে অতিরিক্ত সম্পত্তি নামজারী মামলায় দলিল লেখক-শিক্ষক কারাগারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭ পরিচ্ছন্নতাকর্মী টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের ১০ জন মান্দার, পরিবারে শোকের মাতম রাসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চেক হিসাব বিভাগে হস্তান্তর রাজশাহী বিসিক-১ বিসিক-২ এর অচলবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায়

মান্দায় তিন বছর অবৈধভাবে চলছে ব্যক্তি মালিকানার গভীর নলকূপ

Paris
Update : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মান্দা প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৩ বছর আগে ব্যক্তি মালিকানার একটি গভীর নলকূপের ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করা হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে সেচকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম নামের একব্যক্তি। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের গাংতা গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, শফিকুল ইসলামের স্থাপনকৃত গভীর নলকূপের আশপাশে অনেক আগে থেকেই একাধিক সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এরপরও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে স্থাপন নীতিমালা উপেক্ষা করে একই এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেন তিনি। এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

ছাড়পত্র বাতিলের পরও গভীর নলকূপটি কিভাবে চালু রয়েছে এনিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে স্থাপনকৃত নলকূপটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হলে এলাকায় সেচকাজে কোনো প্রভাব পড়বে না। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, উপজেলার গাংতা মৌজার ২৫১ নম্বর দাগে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য উপজেলা সেচ কমিটিতে আবেদন করেন শফিকুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা সেচ কমিটির সভায় তাকে সেচযন্ত্র স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কিন্তু আবেদন ও ছাড়পত্রের উল্লেখিত ২৫১ নম্বর দাগে সেচযন্ত্রটি স্থাপন না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ১৭২ নম্বর দাগে সেটি স্থাপন করেন তিনি।

সুত্রটি আরও জানায়, বিষয়টি প্রকাশ হবার পর এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঠিক জায়গায় সেচযন্ত্র স্থাপন না করায় ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বরের সভায় তার লাইসেন্সটি বাতিল করে উপজেলা সেচ কমিটি। অথচ ছাড়পত্র ছাড়াই গত ৩ বছর ধরে ওই গভীর নলকূপের সাহায্যে অবৈধভাবে সেচকাজ চালিয়ে আসছেন তিনি। গাংতা গ্রামের তমসের আলী, বেলাল হোসেন, মকছেদ আলী, শমসের আলীসহ আরও অনেকে জানান, শফিকুল ইসলামের উল্লেখিত ২৫১ নম্বর দাগের অদুরে ২৫৫ নম্বর দাগে অনেক আগে থেকেই রুবেল হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি একটি অগভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচকাজ পরিচালনা করে আসছেন। এ অবস্থায় ছাড়পত্রের ২৫১ নম্বর দাগে জটিলতার আশঙ্কায় সুচতুর শফিকুল ইসলাম অনিয়মের মাধ্যমে ১৭২ নম্বরে তার গভীর নলকূপটি স্থাপন করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, ১৭২ নম্বর দাগ থেকে মাত্র ৬শ ফুট দুরে এলাকার শমসের আলীর আরও একটি অগভীর নলকূপ রয়েছে। সেচযন্ত্র স্থাপনের নীতিমালা না মেনে গায়ের জোরে ১৭২ নম্বর দাগে গভীর নলকূপটি স্থাপন করেন শফিকুল। এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএমডিএর সহকারি প্রকৌশলী ও সেচ কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, মাত্র ২ মাস হয়েছে এখানে যোগদান করেছি। উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। অবৈধভাবে স্থাপনকৃত গভীর নলকূপটির ছাড়পত্র ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর বাতিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি পত্র ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ইস্যু করা হয়। বিষয়টি অবহিত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম, মান্দা জোনাল অফিসের ডিজিএমসহ সংশ্লিস্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছিল।

ছাড়পত্র বাতিলের পরও কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিষয়। কেন তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি সেটি তারাই ভাল বলতে পারবেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মান্দা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, এটি অনেক আগের বিষয়। ওই গভীর নলকূপের ছাড়পত্র বাতিল ও সেচ কমিটির এ সংক্রান্ত পত্রের বিষয়ে অবহিত নই। তবে সংযোগ বিচ্ছিন্নের পত্র পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris