এফএনএস : সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর হয়েছে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর। এরপর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত (১৫ মাস) সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ২১০ জন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, আইন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। আর এতে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৯১ জন। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২০ সালে সড়কে হতাহতের একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সেখানে বলা হয়েছিল, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৬৮৬ জন নিহত এবং আট হাজার ৬০০ জন আহত হন।
গত বছর সড়কে চার হাজার ৮৯১টি দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরও জানায়, ২০২০ সালে রেলপথে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় মারা যান ৩১৮ জন, আহত হন ৭৯ জন। ১৮৩টি নৌ দুর্ঘটনায় মারা যান ৩১৩ জন, আহত হন ৩৪২ জন এবং নিখোঁজ হন ৩৭১ জন। বিগত বছরে দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের মধ্যে ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছিল বাস, ২৯ দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মোটরসাইকেল। পরিসংখ্যান বলছে, ৮০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো মামলা হয় না। ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে মামলা হলেও সাজা হয় মাত্র ১ শতাংশ। এ বিষয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবছর প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সেসব প্রতিবেদনের সমন্বয় করে সড়ক আইন কার্যকরের পরবর্তীতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের নগদ ৫ লাখ এবং নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি করেযাত্রী কল্যাণ সমিতি। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা তহবিল, ট্রাস্টি বোর্ড এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী এ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ রয়েছে। তবে আইন কার্যকর হলেও অর্থিক সহায়তা তহবিল ও বিধিমালা না প্রণয়ন হওয়াতে এ সহায়তা মিলছে না। কিন্তু নতুন আইনের আওতায় জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, আহতদের ক্ষতিপূরণ কমে ৩ লাখ ও নিহতদের ৫ লাখ করার পায়তারা চলছে।
এ কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে আমরা আইন অনুয়ায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। বিধিমালা না থাকায়, আইন হলেও সড়কের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। মালিকপক্ষের একচ্ছত্র আধিপত্যে সরকারের স্বদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কে আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে প্রেরণে ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে এ বোর্ড গঠন করে সহায়তা প্রদাণ করতে হবে। এ ট্রাস্টি বোর্ডে শুধু মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের কর্তৃত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথাযথ সহায়তা পাবে না।