স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলছে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। যার জন্য সড়কগুলোতে চলাচলরত যানবাহনকে কিছুটা হলেও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। রেলগেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে কয়েক মাস হলো। রেলগেট থেকে নওহাটা ব্রীজের উত্তর পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কাজটি করছে নগরীর ডন এন্টার প্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক সম্প্রসারণ এর পাশাপাশি সড়ক ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে গভীর ড্রেন ও ফুটপাত। সরকারি জায়গা দখলদারদের কবল থেকে অবমুক্ত করে নিয়মানুযায়ী রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করার পূর্বে উক্ত স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে গভীর ড্রেন।
কিন্তু, ঠিকাদারের লোকজন কর্তৃক অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনের কাজ করার জন্য ইতিমধ্যেই ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পূর্ববর্তী কোন প্রকার শতর্কবানী কিংবা বিকল্প কোন পন্থাবলম্বন না করেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খননের কাজ চালিয়ে যাবার জন্য নিজের ইচ্ছে মাফিক সৃষ্টি করা হয়েছে জনভোগান্তির মতো সমস্যার দেয়াল বলে মন্তব্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসির। রেলগেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় দশ কিলোমিটার সড়কটি চার গ্রুপের কাজের মধ্যে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছেন উক্ত কাজটি। এরমধ্যে বিমানবন্দরের পূর্বদিকের বর্তমান চলমান কাজটি করছেন নগরীর ডন এন্টার প্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকার হলেন হারুন-অর-রশিদ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছেন, এই জনভোগান্তি নিরসনের দায়িত্ব রাসিক ও সওজ কর্তৃপক্ষের। সড়কটির সম্প্রসারণ কাজ চলমানরতবস্থায় পূর্ববর্তী তেমন কোন নাগরিক ভোগান্তির সৃষ্টি না হলেও বিমান বন্দর সড়ক সংলগ্ন পোস্টাল একাডেমির উত্তর দিকের এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করার জন্য আশেপাশের পাড়ামহল্লার ড্রেনগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেবার ফলে উক্ত ড্রেনগুলো দিয়ে বাসাবাড়ীর পানি নিষ্কাশনের সকল পথ বন্ধ হয়েগেছে। যার কারনে, ড্রেনগুলো থেকে ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি রাস্তাসহ প্রতিটি মহল্লার গলিপথ ও বাসাবাড়ীতেও প্রবেশ করছে। ঐ এলাকার একটি মাদ্রাসার ভেতরেও প্রবেশ করেছে ড্রেনের ময়লা পানি।
উপচে পড়া ড্রেনের দূর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানির জন্য স্বাভাবিক চলাচল তো দূরের কথা; কষ্ট করে সেই পানি ডিঙ্গিয়ে চলাচল করাটাও কষ্টকর পন্থায় রূপ নিয়েছে বল অভিযোগ এলাকাবাসির। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে স্যালোমেশিন ও বিশালাকার পাইপ থাকার পরেও কেনো তারা জলাবদ্ধতা নিরসন করছেন না সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ আকারে রূপ নিয়েছে ভুক্তভোগি এলাকাবাসির কাছে। প্রায় সপ্তাখানেক হলো এই জনভোগান্তির সাথে যুদ্ধ করেই প্রাত্যহিক জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকায় বসবাসকারি জনগণ।
নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত রোডপাড়া, মহলদার পাড়া, ভাড়ালীপাড়া, রায়পাড়া, ছায়ানীড় আবাসিক এলাকাসহ আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন চরম ভোগান্তির মধ্েয। এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও বসবাসকারিদের দেয়া তথ্য মতে, ১৭ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ জনগণ বাসকরেন বিমানবন্দর সড়কের পূর্বপাশ্বে। প্রায় হাজার খানেক পরিবারের প্রাত্যহিক গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টার প্রাইজের কর্মীরা। এলাকার বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক ভোগান্তি কমানোর জন্য পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোন ব্যবস্থা তৈরি করার কথা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলার পরেও বিষয়টি তারা কর্ণপাত না করে গত কয়েকদিন আগে নিজস্ব ড্রাম্পারে মাটি এনে ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কিশনের পথগুলো বন্ধ করে দেয় বল জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্যালোমেশিন ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে উক্ত জলাবদ্ধতা নিরসন করার অনুরোধ করা হলে সেটিতেও কর্ণপাত না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসি। বিষয়টি সম্পর্কে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে প্রশ্ন করা হলে, তারা বলেন, উন্নয়ন কাজের সময় কিছুটা ভোগান্তিতো পোহাতেই হবে। কিন্তু সচেতন মহলের মন্তব্য অন্যরকম। তাঁরা এসম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হ্রাস করে বিকল্প পন্থাবলম্বনে উন্নয়নমূলক কাজ করা উচিত। তারা হয়তো কিছু অর্থ বাচানোর জন্য উক্ত কাজে বিকল্প কোন পন্থা অবলম্বন করছে না। জনভোগান্তি সৃষ্টি করে উন্নয়নমূলক কাজ করলে সেটা কখনোই দায়িত্ববান কিংবা যোগ্যতার পরিচয় বহন করে না বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার হারুণ-অর-রশিদ এই জনভোগান্তি সম্পর্কে বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে যেভাবে ডিজাইন দিয়েছেন আমরা সে মোতাবেকই কাজ করছি। রাস্তার উভয় পার্শ্বে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দ স্বল্পতার জন্য আমার এখন একদিকে ড্রেন নির্মাণ করছি। তিনি আরো বলেন, ড্রেনতো পানি নিষ্কাশনের জন্যই নির্শাণ করা হয়। তবে, বর্তমান চলমান কাজের প্রেক্ষিতে যদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তবে সেটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও সওজ কর্তৃপক্ষ সেটির সমাধান করবেন। তিনি আরো বলেন, ড্রেনের মুখ বন্ধ করে কাজ করার প্রেক্ষিতে ঐসকল ড্রেনে জমে থাকা পানিগুলো নওহাটা বারনই নদী কিংবা শহরের পদ্মানদীর দিকে বিকল্প পন্থায় পানি নিষ্কাশন করার করা। তবে, বিষয়টি তিনি দেখবেন বলেও জানান।