স্টাফ রিপোর্টার
আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে তিনদিন আগে থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে রাজশাহীতে যাওয়া শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গণসমাবেশের তিনদিন আগে থেকেই তারা রাজশাহীতে চলে আসতে শুরু করেছেন। তবে সমাবেশস্থলে এখনও প্যান্ডেল করতে না পারায় তারা রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে উঠেছেন। অনেকেই আবার সমাবেশস্থলের পাশেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়ে রান্না-বান্না করে খাচ্ছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে রাজশাহী বিভাগে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। আর এরমধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ঢুকছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত বুধবার রাত থেকেই তারা গণসমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। কিন্তু সমাবেশ স্থলে পুলিশ প্রবেশ করতে না দেওয়ায় অবস্থান নিয়েছেন উত্তরে থাকা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। সকালে ওই মাঠে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর কেউ খোলা আকাশের নিচে, কেউ গাছতলায় কিংবা কাপড়ের তাবু বানিয়ে মাঠে খড়ের ওপর জটলা করে শুয়ে রয়েছেন। তাদের শৌচকার্যের জন্য অদূরেই বাধের ওপারে নদীর বালুর ওপর তৈরি করা হয়েছে সারি সারি অস্থায়ী শৌচাগার। মাঠের ভেতর রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকেই আসা নেতাকর্মীদের দেখা মিলেছে। তবে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ থেকে আসা কর্মী এখন পর্যন্ত বেশি। আবু বক্কর নামের এক ব্যক্তি নওগাঁ থেকে রাতে রাজশাহী এসে পৌঁছেছেন। পরনে কাফনের কাপড় করা ওই ব্যক্তি বলছেন, সমাবেশ স্থলে দাবি আদায় করেই তবে ঘরে ফিরবেন তিনি। এতে প্রাণ যায় যাক, প্রস্তুত হয়েই এসেছেন। বগুড়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে দেখা গেল ঘুরে ঘুরে খোলা আকাশের নিচে থাকা কর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আজকের (গতকাল বৃহস্পতিবার) মধ্যেই তাদের জেলা থেকে ট্রাকে করে শত শত মানুষ চলে আসবেন। পথে পথে পুলিশি বাধা রয়েছে। তারপরও নেতাকর্মীরা ২০/৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চলে আসছেন। সিরাজগঞ্জ জেলার নুরুন্নবীকে দেখা গেল মুড়িভর্তি বড় পলিথিন হাতে নিয়ে কর্মীদের ডেকে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই তার কাছে এসে চিড়া ও মুড়ি খেয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি ও পানি মজুদ রয়েছে। অনেকেই চাল, ডাল, সবজি, তেল একসঙ্গে বেঁধে নিয়ে এসেছেন। মাঠের বিভিন্ন স্থানে শুয়ে থাকা জটলার পাশে অস্থায়ী চুলায় রান্না ওঠানো হয়েছে। মাঠে বসে কেউ রান্না করছেন খিচুড়ি, কেউবা সবজি ভাত। এই তিনদিন কী খাবেন জানতে চাইলে সমাবেশে আসা বৃদ্ধ মোতালেব জানান, পেলে খাবো না পেলে খাবো না। পরিবারের কী হবে এই তিন দিন, এমন প্রশ্নে তার উত্তর-আল্লাই দেখবেন। এমন অনেক নেতাকর্মীর তিন দিনের আবাস এখন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। এদিকে রাজশাহী মহানগরীর নিরাপত্তায় এরইমধ্যে প্রতিটি প্রবেশমুখে পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে। মাদ্রাসা মাঠ সমাবেশ কেন্দ্রের পাশেও পুলিশের সদস্যদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিএনপির এই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টের সবকিছু ছাপিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা যেন আবারও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ হবে আগামী শনিবার। এরে আগে সমাবেশস্থল মাদ্রাসা মাঠে ঢুকতে পারবেন না বিএনপি নেতাকর্মীরা। যদিও বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সমাবেশস্থলের পাশে ঈদগাহ মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের মাদ্রাসা মাঠের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মাঠের দক্ষিণ পাশে ঈদগাহ মাঠ এবং রাস্তায় অবস্থান করছেন নেতাকর্মীরা। মাঠের ভিতরে তাবু টাঙ্গিয়ে নেতাকর্মীরা বুধবার রাতযাপন করেন। বৃহস্পতিবার (০১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আরও ভিড় বাড়তে থাকে।