ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : নিজের জমিতে নিজে বাড়ি। তাও সেমি পাকা বাড়ি। এটা ছিল আমাদের কাছে দিবাস্বপ্ন। বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজা, শীতের কনকনে ঠান্ডায় জীর্নশীর্ন। লোকজন চলে গেলে রেলওয়ে স্টেশন, রেললাইনের ঢালে পলিথিন টাঙ্গানো। তারপর পরিজনদের নিয়ে জড়োসড়ো হয়ে ঘুমানো। আবার কাক ডাকা ভোরেই জনতার কোলাহলে উঠে পড়া। গৃহহীন থাকায় কতই না করেছি কষ্ট। জমি না থাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করাটা ছিলো স্বপ্নের মতো।
সৃষ্টিকর্তার নিকট কতই যে করেছি প্রার্থনা। সেই প্রার্থনা কবুল করেছেন। শেখের বেটি শেখ হাসিনা আমাদের সেই কষ্ট দুর করেছেন। দিলেন সেমি পাকা বাড়ি। যা আমাদের নিকট স্বপ্নের মতো। এভাবেই নিজেদের অনুভুতির কথা জানালেন বাড়ি পাওয়া প্রতিবন্ধি আলমগীর হোসেন, বয়োবৃদ্ধ সুকজান বেওয়া, জুলেখা বেগম, দেলোয়ার প্রামানিক প্রমুখ। এরা সবাই ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় অন্যের জমিতে, রেলওয়ের লাইনের ঢালে, স্কুল কলেজ কিংবা অন্যের বাড়ির বারান্দায় বসবাসকারী সুবিধা বঞ্চিত ও আশ্রয়হীন মানুষ। এদের মতো প্রথম ধাপে বাড়ি পাবেন ৫০ পরিবার।
আধাপাকা নতুন বাড়ি পাওয়া এসব ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মানুষগুলো এখন গভীর স্বপ্নে বিভোর। গতকাল শনিবার সকালে ঈশ্বরদীসহ সারাদেশে একযোগে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারদের নতুন বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারদের বিনা টাকায় ঘর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় ঈশ্বরদীতেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২ আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে নতুন ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঈশ্বরদীতে প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষের সেমিপাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি বাড়িতে একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে। এই উপজেলার জন্য সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে ‘ক’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৯৬টি পরিবারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরদী উপজেলায় ৫০টি পরিবারকে জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, মনোরম পরিবেশে মানসম্মত টেকসই করে এসব ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ রাস্তার ধারে ফুটপাত বা অন্যের আশ্রয়ে বসবাস করতেন তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ইউএনও আরোও বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নেই, তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি দেওয়া হবে।