এফএনএস : কোষাগার ছিল শূন্য, ভিত্তি ছিল নড়বড়ে। দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল সেই সময়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন যারা, তাদেরই একজন রাইসউদ্দিন আহমেদ। অসংখ্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন যিনি, তিনি এবার পাড়ি জমালেন পরপারে। ৮২ বছর বয়সে মারা গেছেন বিশিষ্ট এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন রাইসউদ্দিন। পরে কোভিড নেগেটিভও হন। তবে আক্রান্ত হয়ে পড়েন নিউমোনিয়ায়। পাশাপাশি শারীরিক জটিলতা ছিল আরও। বুধবার সকালে হাসপাতালেই মারা যান তিনি। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সেই সময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিবি) জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন রাইসউদ্দিন।
পরে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন বোর্ডের সহ-সভাপতি। বাংলাদেশে প্রথম কোনো বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ জানানো, আইসিসির সদস্যপদ পাওয়া, সবই ছিল তার উদ্যোগে। বাংলাদেশ বিমানের চিফ অব অ্যাডমিন ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে লন্ডন যাওয়া হতো তার প্রায়ই। এমসিসিতে (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) তার যাতায়াত ছিল নিয়মিত। সেই সম্পর্ক থেকেই তিনি এমসিসি দলকে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশে। ১৯৭৭ সালে সফরে আসে অভিজাত এই ক্লাব। বাংলাদেশ বিমান থেকে টিকেটের ব্যবস্থাও করেছিলেন তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্পন্সর প্রথাও শুরু হয় তখন থেকে। সেই সফর থেকে ফিরে এমসিসি দল ইতিবাচক রিপোর্ট দেওয়ার পরই বাংলাদেশের আইসিসি সহযোগী সদস্যপদ হওয়ার পথ খুলে যায়। শুধু এমসিসিই নয়, রাইসউদ্দিনদের উদ্যোগে সেসময় শ্রীলঙ্কা, হায়দরাবাদ ব্লুজ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন বিদেশি দল আসে বাংলাদেশ সফরে।
ক্রিকেট দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেই দলগুলির সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা হয় ঢাকার বাইরেও। দেশে স্কুল ক্রিকেট চালু হয়েছিল তার উদ্যোগেই। ২০১৭ সালে দৈনিক দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইসউদ্দিন তুলে ধরেছিলেন তাদের শুরুর সময়ের লড়াইয়ের কথা। “১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে যখন দায়িত্ব নিই, তখন অবস্থা খুব খারাপ। বোর্ডের কোষাগার শূন্য। এমনও দিন গেছে যে বিদ্যুতের বিল দেওয়ার টাকা পর্যন্ত বোর্ডের নেই। মোমবাতি জ¦ালিয়ে কাজ করেছি আমরা।