শনিবার

১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

রাজশাহীর আদালতে বাদীনী আইনজীকে বিয়ে করে জামিন পেলেন ডাক্তার রানা

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে বিয়ে করে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়েছেন আসামি ডাক্তার এসএম সাখাওয়াত হোসেন রানা (৪৬)। বুধবার রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে আসামিকে জামিন দেন আদালতের বিচারক মো. মনসুর আলম। বিয়েতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা নগদে পেয়েছেন নববধূ। ২৫ লাখ টাকা রয়েছে বাকি। আসামির নাম এসএম সাখাওয়াত হোসেন রানা (৪৬)।

তিনি একজন চিকিৎসক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তিনি। আর যার সঙ্গে তার বিয়ে হলো তিনি একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এই নারীর (২৭) গ্রামের বাড়ি। তিনি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া মহল্লায় বান্ধবীর বাসায় সাবলেট থাকেন।

রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় ডা. রানা ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলায়। তার স্ত্রী-সন্তানও আছে। এই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৫ জুলাই তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। এরই মধ্যে গত ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। প্রায় ছয় মাস কারাগারে থেকে বিয়ের শর্তে জামিন পেলেন ডা. রানা।

আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডা. রানা বিবাহিত। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। আর ভুক্তভোগী নারী অবিবাহিত। তাদের দুই জনেরই বই লেখার অভ্যাস রয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীর এক ছাপাখানায় তাদের পরিচয়। সেদিনই ডা. রানা ওই নারীর ফোন নম্বর নেন। তার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেন। ফেইসবুকেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। এরই মধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর নানা কায়দায় বিশ্বাস স্থাপন করে চিকিৎসক রারা ওই নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু কিছুতেই বিয়ে করছিলেন না।

এ কারণে ওই নারী তাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। গত ২৫ জুলাই ডা. রানা ওই নারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দেখিয়ে বলেন, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে এ ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে ডা. রানা ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ওই ভিডিওচিত্র নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন ওই নারীর বান্ধবী বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকিয়ে জাতীয় জারুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ ডা. রানাকে সেখান থেকে আটক করে আনেন।

এরপর ওই নারী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় পর্নগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গ্রেপ্তারের দিন অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে ওই নারীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র উদ্ধার করা হয়েছিলো। সেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ভিডিও’র সঙ্গে ওই নারী এবং চিকিৎসকের তিন কপি করে ছবিও পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর সিআইডি মতামত দেয়, ভিডিও’র দুই নারী-পুরুষ এবং পাঠানো নারী-পুরুষের ছবির মধ্যে মিল রয়েছে।

ভিডিওটি এডিট করা নয়। এছাড়া ডা. রানাও জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাই তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিয়ের পর ওই নারী বুধবার দুপুরে বলেন, ‘ডা. রানার বাবা গত সোমবার তার ছেলেকে বিয়ে করতে আমাকে প্রস্তাব দেন। অনেক কিছু ভেবে-চিন্তে আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর সেদিনই আদালতে একটি পিটিশন করা হয় যে, মামলার বাদী এবং আসামি বিয়ে করতে চান। আসামিকে যেন জামিন দেয়া হয়। এ দিন বিচারক আসামিকে বুধবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বিচারক সিদ্ধান্ত দেন, আদালতেই তাদের বিয়ে হবে।

সে অনুযায়ী আজ ডা. রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর বিচারকের সামনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।’ তিনি আরও জানান, বিয়েতে তার পক্ষে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম এবং রানার বন্ধু মাসুদুজ্জামান কাজল স্বাক্ষী হয়েছেন। আর রানার পক্ষে তার বাবা মোখলেসুর রহমান, ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম এবং হুমায়ুন কবীর নামে আরেকজন স্বাক্ষী হয়েছেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালত ডা. রানার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি আদালতের হাজতখানায় ছিলেন। কাগজপত্র প্রস্তুত হলে বিকালেই তিনি ছাড়া পাবেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris