সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী সেনানিবাসে স্টেশন কমান্ডার-এর সাথে রাসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ আরডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে প্রদ্ধাঞ্জলী বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আম বাজারে ‘আম তোলা’ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার চিকিৎসকদের পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত ও ‘অ্যাগ্রো-বেজড’ ইপিজেড স্থাপন করা হবে : ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভা প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি : ড. মজিবুল হক গোদাগাড়ীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ ‘আলুর গোল্লা’ খেতে বাগমারায় আসছেন দুর-দুরান্তের মানুষ

অবশেষে বদলি হলেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড’র বিদ্যালয় পরিদর্শক

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার : গত ৩০ মার্চ ২০২২ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে যার স্মারক নম্বর:৩৭.০০.০০০০.০৬৭.০২.০০৯.২০১৭-১০২। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশীষ রঞ্জন রায় (৮৬০১) কে প্রেষণে প্রত্যাহারক্রমে কিশোরগঞ্জস্থ সরকারি গুরুদয়াল কলেজে বদলি করা হয়েছে এবং তদস্থলে প্রেষণে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহা. জিয়াউল হক (১৫৯৭৩) কে। বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশীষ রঞ্জন তিন বছরের জন্য প্রেষণে নিয়োগ পাবার পরেও একই শাখাতে তিনি ছিলেন প্রায় নয় বছরের মতো।

প্রথমদিকে তেমন কোন অভিযোগ না থাকলেও পরবর্তী সময়গুলোতে নানা প্রশ্ন ও অসংখ্য অভিযোগে অবর্ত ছিল তার দপ্তর ঘিরে। বিভিন্ন জেলা থেকে সেবা নিতে আসা শিক্ষকরা অতিষ্ট হয়ে পড়তেন লালফিতার দৌড়াতে বলে অভিযোগ ছিল প্রায় বছরজুড়েই। শিক্ষক হয়রানি, মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা, শিক্ষকদের সাথে অসদাচরন, নিজস্ব ডিলিংস অফিসারদের ফাইলগুলো প্রাধান্য দেয়া, সিডিউল টাইমে অফিসে না আসা ছাড়াও ক্ষমতার নানামুখী অপব্যবহার প্রয়োগ করতো বদলী হওয়া বিদ্যারয় পরিদর্শক দেবাশীষ বলে জানান বিদ্যালয় শাখায় কর্মরতরা।

নানামুখি অনিয়মের জন্য পূর্ববর্তী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান কর্তৃক হয়েছেন একাধিকবার শোকজ। শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য ভোগান্তির শাখার মধ্যে অন্যতম ছিল এই বিদ্যালয় শাখা বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। দেবাশীষ রঞ্জন ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে নিয়মবহির্ভূতভাগে উক্ত শাখার দায়িত্ব দিয়ে যেতেন অন্যকোন শাখার কর্মকর্তা কিংবা বোর্ড কন্ট্রলারকে। যার কারণে তিনি ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে লাল ফিতার দৌড়াৎ বৃদ্ধি পেতো কয়েকগুণ বলে অভিযোগ ছিল অনেকের। নিয়মানুযায়ী কাজের গতি স্বচল রাখতে উক্ত শাখার ডেপুটিকে দায়িত্ব দেবার কথা থাকলেও তিনি ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে সর্বদাই এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন বলেও জানান উক্ত শাখায় কর্মরতরা।

এদিকে; নানাবিধ ভোগান্তির আবর্তে জর্জরিত বিদ্যালয় শাখার সেবারমানে গতি কি ফিরবে, নাকি পূর্বের ন্যায় লাল ফিতার ঘৌড়দৌড়েই চলবে নতুন কেউ দায়িত্ব নেবার পরেও বলে প্রশ্ন অনেকের ? বর্তমানে উক্ত শাখার সার্বিক দায়িত্বে আছেন উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক হোসনে আরা আরজু। বেশ কয়েকমাস পূর্বে তিনি এই শাখায় যোগদান করেন। প্রথমাবস্থায় উনার কাজের গতির বেগ ভাল থাকলেও হঠাৎ করেই কেনো যানি সেই গতিতে পড়েছে ভাটা বলে মন্তব্য অনেকের। প্রমথ প্রথম তিনি দিনে ত্রিশটির উর্দ্ধে ফাইল স্বাক্ষর করলেও এখন সেটি নিম্মমুখি হয়ে দাড়িয়েছে সর্বোচ্চ দশ থেকে বারোতে বলে জানাই কর্মরতরা।

এছাড়াও নিজের পছন্দসই ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একজন শাখা কর্মকর্তাকে নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যান পরিদর্শনে। যেটি অনেকের কাছেই স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার এর মতো বলেই মনে করছেন কর্মরতরা। এছাড়াও ঐ কর্মকর্তাকে দেয়া হয় নানামুখী সুযোগ সুবিধা বলেও অভিযোগ উঠেছে। আজ যোগদান করবেন নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক। নতুনকে ঘিরে বিদ্যালয় শাখার ভোগান্তি আর লাল ফিতার দৌড়াৎ কতটা হ্রাস-বৃদ্ধি পাবে সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মন্তব্য কর্মরতদের।

দেশের বাইরে থাকার কারণে এবিষয়ে, সদ্য বদলি হওয়া বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশীষের কোন প্রকার বক্তব্য নেওয়া না গেলেও শিক্ষা বোর্ডে কর্মরত অনেকেই বলেন, দেবাশীষ সাহেব চলে গেলে বোর্ডে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারির খুব ভাল হবে। তারা নিয়মিতভাবে অনিয়ম করে নিজেদের পকেট ভারি করতে পারবে। এছাড়াও দেবাশীষ সাহেব কাজ খুব ভাল বুঝতেন। যেসকল আবেদিত ফাইলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্বল্পতা থাকে কিংবা আইনী কোন জটিলতা থাকে ঐসকল ফাইলগুলোই তিনি আটকে রাখতেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris