২৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

নওগাঁয় কৃত্রিম সংকটে ‘নাপা’

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: স্বাস্থ্য-পরিচর্যা-পরামর্শ
নওগাঁয় কৃত্রিম সংকটে ‘নাপা’
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ : ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি, কাশি-হাঁচি ও ব্যথায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর কারনে হঠাৎ করে ঔষুধের দোকান থেকে ‘নাপা’ ট্যাবলেট উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রচুর ব্যবহৃত এ ঔষুধটি পাওয়া না যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। করোনাভাইরাসের প্রর্দুভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বর-সর্দি বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গেলেই পরামর্শ দিচ্ছেন প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ সেবনের। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু করোনাভাইরাস নয়, ঋতু পরিবর্তনেরও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এ কারণে সবখানেই এখন জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলে জানান তারা। তবে এর প্রভাব পড়েছে ওষুধপাড়ায়। চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে প্রয়োজনীয় নাপা ট্যাবলেটের দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি কৃত্রিম সংকট নয়, বরং কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাময়িক এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তভোগীদের দাবী অসাধুরা ব্যবসায়ীরা এই সংকট সৃষ্টি করে দ্বিগুন দামে বিক্রি করছেন নাপা ট্যাবলেট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ছোট ওষুধ দোকানী জানান, পাইকারী দোকান থেকে ১৫টাকায় (১০টি) এক পাতা ন্যাপা ট্যাবলেট কিনে বিক্রি করছি ১৮/২০টাকায়।

ওষুধ প্রতিনিধিরা নিচ্ছে না ছোট ছোট দোকানীদের অর্ডার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা-উপজেলার ফার্মেসিগুলোয় সহজে মিলছে না জ্বর-সর্দি, কাশি-হাঁচির ওষুধ। চাহিদা বাড়ায় অনেক ফার্মেসিতে নাপা, নাপা এক্সটেন, জি-ম্যাক্স, এইচ, এইচ প¬াসসহ প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেটের সংকট রয়েছে। তবে চাহিদার অজুহাতে দামও বাড়িয়েছেন ফার্মেসির মালিকরা। বিশেষ করে পাড়া-মহল¬ার ফার্মেসিগুলোতে বেশি দামে প্যারাসিটামল বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় ফার্মেসিতে ওষুধ না পেয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ মিলছে ফার্মেসি-মালিকদের বিরুদ্ধে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় লাভের আশায় ফার্মেসি-মালিকেরা এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছেন। ওষুধ-সংকট সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট উদ্বেগজনক। আমরা বিভিন্ন সময়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তা-ই করা হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এ দুর্যোগের সময় কেউ যদি ওষুধের সংকট তৈরি করে বা বেশি দাম নেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন