১৫ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

জন্ম প্রতিরোধ কাটি বহন করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পুঠিয়ার নারীরা?

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: স্পেশাল নিউজ, স্বাস্থ্য-পরিচর্যা-পরামর্শ
জন্ম প্রতিরোধ কাটি বহন করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পুঠিয়ার নারীরা?
বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার ডাক্তার চার বছর ধরে কর্মস্থলে না আসায় গ্রামাঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ডাক্তার না আসায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলের দুইশতাধিক নারীদের শরীরে জন্ম প্রতিরোধ কাটি বহন করে আসছেন। এতে করে উপজেলার শতশত নারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসাবে দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে,এই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ডা মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান যোগদান করেন ২৩ মার্চ ২০২৩ইং এবং সে চলে যান ১লা আগষ্ট ২০২৩ইং তারিখে। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন,রাজশাহী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র জরুরী সেবা বিভাগের ইন্স্তেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার হিসাবে রয়েছে। কিন্তু সে প্রতিমাসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন পুঠিয়া উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অফিস হতে। তার দ্বারায় এলাকার নারী-পুরুষরা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে কোনো প্রকার উপকার পাচ্ছেন না। একটি সূত্রে জানা গেছে, সে তার উপজেলার পদ ধরে রাখার কারণে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা তার পরিবর্তে ডাক্তার নিয়োগ করতে পাচ্ছেন না। এ উপজেলায় অনেক ডাক্তার পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাকরি করতে ই”চ্ছা পোষণ করছেন। এদিকে উপজেলায় ৩৩ জন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী থাকার বিধান থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১৫ জন। উপজেলায় তিন মাস ধরে কোনো জন্ম প্রতিরোধ বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু ডাক্তার না আসায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলের নারীদের শরীরে জন্ম প্রতিরোধ কাটি বহন করে জীবনযাপন করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, রেহেনা বেগম শিউলি খাতুন শাপলা খাতুন তামনিম খাতুন আলেয়া বেগম মতো দুইশতাধিক নারী জন্ম প্রতিরোধ কাটির মেয়াদ উত্তীর্ণের পরও শরীরে বহন করছে। গ্রামাঞ্চলের নারীরা প্রতিনিয়ত অফিসে আসছেন এবং শরীর হতে জন্ম প্রতিরোধ কাটি খোলার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। এই কাটি ডাক্তার ছাড়া নারীর শরীর হতে বাহির করা যায় না। পরিবার পরিকল্পনার একজন ডাক্তার স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিলে এই সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়ে যাবে। কিন্তু জেলা কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্য ডাক্তার নিয়োগ হচ্ছে না। সরেজমিনে গেলে দেখা গিয়েছে, ডা মোহাম্মদ সারোয়ার জাহানের কক্ষে সাদা কাগজ দিয়ে লিখে অফিস করছেন। উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহরাব উদ্দিন মোল্লা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ডা মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান অনুপস্থিত থাকার কারণে সম্প্রতি রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষ হতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো হাসানুজ্জামান খান বলেন, ডাক্তার না থাকায় এবং কর্মচারী সংকট হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী পরিবার পরিকল্পনা উপ পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, রাজশাহী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র জরুরী সেবা বিভাগের ইন্স্তেসিয়া (অজ্ঞান) ডা হিসাবে রাখা হয়েছে। কারণ উপজেলা পর্যায়ে আমাদের কোনো নারীদের সিজার করা হয় না। নারীদের শরীর হতে জন্ম প্রতিরোধ কাটি বাহির করার জন্য একজন ডাক্তারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন