শুক্রবার

১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চারঘাটে গুজব ছড়িয়ে বাড়ানো হচ্ছে প্যারাসিটামলের দাম

Paris
Update : শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

চারঘাট প্রতিনিধি : প্যারাসিটামল এবং একই গোত্রের নাপা, এইস, ফাস্টসহ ট্যাবলেটগুলোর কোনো সংকট নেই চারঘাট উপজেলায়। অথচ এক শ্রেণীর অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী গুজব ছড়িয়ে এই ট্যাবলেটগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, জ্বর সর্দিসহ ঠান্ডাজনিত ব্যাধিতে ওষুধগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা রোগীদের প্রাথমিকভাবে নাপা, প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। চিকিৎসার দ্বিতীয় পর্যায়ে এন্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট দিয়ে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চারঘাট উপজেলায় গত তিন দিনে ৩১ জনের করোনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৮০.৬৫ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে বেড়ে চলেছে রোগীর চাপ। প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার অধিকাংশই জ্বর-সর্দির রোগী। জ্বর-সর্দিতে মানুষ শুরুতেই নাপা বা প্যারাসিটামল গ্রহণ করছেন। ফলে এ ওষুধগুলোর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।

এই সুযোগে কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন বুধবার সকালে উপজেলা মেডিকেল মোড়ের কয়েকটি ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা গেছে, নাপা বা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট নেই। দুইটি ফার্মেসীতে এক পাতা (১০টি) নাপা ট্যাবলেট ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার মেডিকেল মোড় থেকে ১০০ মিটার দুরের বাজার মোড়ের ফার্মেসীতে ওষুধগুলো ১৫ টাকা পাতায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ সময় ওষুধ কিনতে আসা উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, নাপা ট্যাবলেট আগে ৮ টাকা পাতা (১০টি) ছিল।

কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর থেকে প্রতি পাতা দাম দ্বিগুণ হারে নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। আর নাপা এক্সট্রা প্রতি পাতা (১২টি) ৩০ টাকার বদলে দাম নেওয়া হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। ওষুধ ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। খেয়াল খুশিমত দাম নির্ধারণ করছে। চারঘাট সদরের পাইকারি ওষুধের বিক্রেতা ডালিম ফার্মেসীর মালিক মোসাদ্দেক হোসেন মানিক জানান, প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের সংকট নেই, শুধুমাত্র গুজব ছড়িয়ে এই গ্রুপের ওষুধের দাম বাড়িয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। তবে নাপা ওষুধের সরবারহ কিছুটা কম আছে। কিন্তু দাম বাড়েনি। নাপা এক্সটেন্ড ট্যাবলেট ১০ টির পাতা ৩০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ নাপা ৮/১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারী বেক্সিমকো কোম্পানীর চারঘাট বিপণন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন জানান, তাদের প্যারাসিটমল গ্রুপের ওষুধের দাম বাড়েনি। আপাতত ওষুধের সংকটও নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, গুজব ছড়িয়ে জ্বর-সর্দির কিছু ওষুধের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কথা শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের পর্যাপ্ত সরবারহ রয়েছে। জ্বর-সর্দির রোগীদের করোনা পরীক্ষা করিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন তিনি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris