স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার ছোট বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ও বর্ণনা দিয়ে মায়ের নামীয় প্লট ও অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার ছোট বোন ডাক্তার নাসরিন ৫নং কাউন্সিল-এর কার্যালয় থেকে ওয়ারিশন সনদ গ্রহণও করেন।
পরবর্তীতে সেটি বৈধ সনদ হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলে মায়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক রাজশাহীর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ও ডেলিগেট আদালতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা বর্ণনায় প্রতারণা মূলকভাবে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বড় বোন শাহানাজ কাসেমকে তার অংশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও বাবা মার রেখে যাওয়া অন্যান্য অর্থ-সম্পদ থেকে বিতাড়িত করার অপচেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। বিষয়টি জানাজানি হবার পরে ভুক্তভোগী ও পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া বড় বোন শাহানাজ কাসেম গত ১-৯-২০২০ ইং তারিখে নগরীর রাজপাড়া থানায় উভয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২।
পরবর্তীতে এই মামলায় যথাযথ নিয়মে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোতালেব হোসেন অভিযোগের সত্যতা পাওয়াতে চার্জশীট প্রদান পূর্বক রাজশাহীর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ দন্ডবিধি আইনের ১৯৩/১৯৮/৪০৬/৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৭১/৩৪ ধারাতে একটি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং ৩১সি/২০২০(রাজপাড়া)। মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নেবার বিষয়টি রাসিকের ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
বাদীনির দেওয়া তথ্য, থানার এজাহার ও মামলার কপি থেকে জানা গেছে, নগরীর রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মরহুম ডাঃ আবুল কাশেম ও মরহুমা নূরমহল খাতুনের দুই মেয়ে এক ছেলে। ডাঃ আবুল কাশেম গত ১৬-৫-২০০৮ তারিখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর গত ০৪-০৩-২০০৯ ইং তারিখে অভিযুক্ত ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার আরেক বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীন উভয়ে যোগসাজসে বাদীর পৈত্রিক সম্পত্তি ও বিভিন্ন ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে তাদের বড় বোনকে না জানিয়ে রাসিকের ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক শুধুমাত্র এক কন্যা এক পুত্র ও মাতা নূরমহল খাতুনকে অংশীদার দেখিয়ে একটি জাল, ভূয়া ও অবৈধ ওয়ারিশন সনদ গ্রহণ করেন।
এক নং আসামী ডাক্তার ইকবাল কাসেম বিজ্ঞ আদালতে প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা জবানবন্দী ও এফিডেভিট প্রদান করে বাদীর অজ্ঞাতে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উক্ত সাকসেশন সার্টিফিকেট মিথ্যা জ্ঞাত হওয়া সত্বেও সেটি ব্যবহার করে অভিযুক্তরা বৃদ্ধা মাকে উন্নত চিকিৎসা কথা বলে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে মায়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আইসিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেডের ১৩ হাজার নয়শটি শেয়ার, যার ফেস ভ্যালু ৫০ হাজার, বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা ও বাদীর পৈত্তিক সূত্রে প্রাপ্ত অংশ আত্মসাৎ করে নিজেদের নামে করে নেন।
এছাড়াও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সম্প্রসারিত উত্তরা ৩য় পর্ব আবাসিক এলাকার ১৭-জি ১নং সেক্টরের ৬ নং রাস্তার প্ল¬টটির যাবতীয় নথিপত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারী করণের জন্য মিথ্যা বর্ণনার একটি অঙ্গিকারনামা প্রদানসহ দরখাস্ত করেন এবং গত ৩০-৮-২০১২ ইং তারিখে রাজউক হতে আসামীদ্বয় ও তাহাদের মাতা নূরমহল খাতুনের নামে উক্ত প্ল¬টটি বরাদ্দ নেন। গত ৩০-৬-২০২০ ইং তারিখে মামলার বাদী শাহানাজ কাসেম ও আসামিদ্বয়ের মাতা নূরমহল খাতুন মৃত্যুবরণ করার পর অভিযুক্তরা পৈত্তিক সম্পত্তি ও ব্যাংকের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেবার হীন উদ্দেশ্যে পূর্বের ন্যায় আবারো রাসিকের ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নেবার আশায় বড় বোন ও মামলার বাদীনি শাহানাজ কাসেমকে বাদ রেখে একটি আবেদন করেন।
বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে বঞ্ছিত হওয়া বড় বোন শাহানাজ কাসেম যথাযথ নিয়মে উভয় প্রতারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ডাক্তার ইকবাল কাসেম ও তার বোন ডাক্তার নাসরিন ইয়াসমীন উক্ত মামলার অগ্রীম জামিন নিয়ে মামলা তুলে নেবার জন্য বাদীনিকে নানা পন্থাবলম্বনে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী শাহানাজ কাসেমের।