এফএনএস : পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-এর পাঁচ বিভাগের সাত প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার এই এক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব প্রোগ্রামের ভর্তির ক্ষেত্রে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো বিএ (অনার্স) ইন বাংলা, এমএ ইন বাংলা, এমএসএস ইন ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, বিএ (অনার্স) ইন ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, এমএ ইন ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, বিএড এবং এমএড।
এর আগে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করে ইউজিসির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিটি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইউজিসিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রোগ্রামেই নূন্যতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক নেই। বিএড-এমএড প্রোগ্রামে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। বিএড-এমএড প্রোগ্রামে শিক্ষকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যদিও একমাত্র শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। একইভাবে বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের প্রতিটিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি থাকার পরও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন করে। ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। যদিও ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রোগ্রামে কমপক্ষে ৪ জন স্থায়ী শিক্ষক থাকতে হবে।
এর মধ্যে একজন কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার হতে হবে। এ প্রসঙ্গে পরিদর্শন কমিটি ও ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নূন্যতম যে জনবল কাঠামো প্রয়োজন, তার ধারেকাছেও নেই এইউবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ছয়শ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। অনিয়ম বন্ধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।