এফএনএস : ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটকে আগামী কয়েক মাসের জন্য করোনাভাইরাস টিকার রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ভারত। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দরিদ্র দেশগুলোকে করোনা টিকার প্রথম ডোজের জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। সংবাদমাধ্যম এপি’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটি জানান সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়াল্লা। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ অবৈধ মজুদ ঠেকানো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে শুধু ভারতীয় সরকারের কাছে টিকা হস্তান্তর করতে পারবে সিরাম ইন্সটিটিউট।
পুনাওয়াল্লা জানান, বেসরকারি বাজারেও এই টিকা বিক্রি করতে পারবে না সিরাম। সিরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা তৈরির প্রতিষ্ঠান। উন্নয়নশীল তথা দরিদ্র দেশগুলোর টিকা নিশ্চিতের জন্য সংস্থাটি বড় অবদান রাখতে পারে। এমনটাই আশা করা হচ্ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে দরিদ্র দেশগুলোর টিকা পেতে আরও কয়েকমাস অপেক্ষা বাড়বে। এদিকে শুক্রবার দেশটিতে সিরামের টিকাটির জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয় ভারত।
এরই মধ্যে দেশটির করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই পর্যন্ত দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। টিকার প্রথম ১০ কোটি ডোজ ভারত সরকারকে ২০০ রুপির বিশেষ মূলে দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দাম আরও বাড়বে। অন্যদিকে বেসরকারি বাজারে প্রতি ডোজের দাম এক হাজার রুপি মূল্যে বিক্রি হবে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুরুতেই ৩০ কোটি ডোজ টিকা দিতে চায় সরকার। অগ্রাধিকার পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশসহ করোনা যোদ্ধারা।
এদিকে, ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনকার করোনা ভ্যাকসিন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। রোববার দেওয়া এ ঘোষণার ফলে দরিদ্র দেশগুলোর ভ্যাকসিন পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। খবর এপির। সিরাম ইন্সটিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা রোববার জানান, কয়েক মাসের জন্য ভ্যাকসিন রপ্তানির অনুমতি দেবে না ভারত। ভারতীয়রা যাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভ্যাকসিন পায় সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন পরিকল্পনার শুরুতেই ভারত কমপক্ষে ৩০ কোটি জনগণকে টিকা দিতে চায়। যার মধ্যে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশসহ সামনের সারির যোদ্ধারা। প্রসঙ্গত, আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৩ লাখ ৪১ হাজার ২৯১ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৬৮৬ জন।