ধামইরহাট প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটে গ্রামে বসে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পাঠাগার পেতে যাচ্ছে পাঠকরা। মানবিক মানুষ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পাঠাগারটি উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন বাজারে স্থাপিত হয়েছে। পাঠাগারটি চালু হলে শত শত শিক্ষার্থী ও বই প্রেমি মানুষ উপকৃত হবে। জানা গেছে, উপজেলার ২নং আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ওই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকস্তরে বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।
এছাড়া বিভিন্ন দূর্যোগ মূর্হুতে এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ওই ফাউন্ডেশনের অঙ্গ সংস্থা মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এব্যাপারে মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীণ ভয়েস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিবশেবিদ মো.আলমগীর কবির বলেন,বই পড়ার প্রতি আগ্রাহ সৃষ্টি এবং মানবিক মানুষ গড়ার লক্ষে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের উৎসাহ,আগ্রহ সৃষ্টি এবং জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল পেশার মানুষ বই পড়ার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা না থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।
তাছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মাদকের ভয়াল থাকা থেকে রক্ষা করতে হলে বই পড়ার প্রতি মনোযোগি হতে হবে। আগ্রাদ্বিগুন বাজার ধামইরহাট,পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার মধ্যস্থলে অবস্থিত। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারে বসে পড়ার মতো মানসম্মত কোন স্বতন্ত্র পাঠাগার নেই। বই পড়ার প্রতি মরহুম বাবার অনুপ্রেরণায় আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকায় গুণী মানুষ গড়ে তোলায় লক্ষে আগ্রাদ্বিগুন বাজারে নিজস্ব জায়গায় তিনতলা বাসার দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১হাজার ২শত বর্গফুট জায়গা জুড়ে এ পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। জায়গা বাদে প্রাথমিক অবস্থায় জায়গা বাদে এ পাঠাগার স্থাপন করতে প্রায় ১০-১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হয়েছে। সকল প্রস্তুতি শেষে নতুন বছরের জানুয়ারী মাসে পাঠাগারটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এ পাঠাগারে এক সাথে ৩৫ জন পাঠক পড়াশুনা করতে পারবেন। এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি,বিজ্ঞান, বিনোদন, শিশু সাহিত্য,বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকাসহ দেশ বিদেশের দূর্লভ বাংলা ও ইংরেজি বই থাকবে। পাঠাগারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্ণার,শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ কর্ণার, ক্রীড়া বিষয়ক ও শিশু কর্ণার থাকবে। ক্রীড়া বিষয়ক কর্ণারে যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবেন ঢাকার একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিকুর রহমান শুভ। সকল শ্রেণীর দূর্লভ পাঠ্যবই থাকবে। এছাড়া মাসে একবার সাহিত্য আসর এবং প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। বিভিন্ন ধরণের শিক্ষণ বিষয় সম্পর্কে প্রতি ১৫ দিন পর পর প্রজেক্টেরের বড় পর্দায় মাধ্যমে ডকুমেন্টরী,বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জন্য বই সংগ্রহ চলছে।
এলাকাবাসীর স্বপ্নের পাঠাগারে বই প্রদান করেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও লেখক আবুল মকসুদ,শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি এমপি,দেশ বরেণ্য স্থপতি মোবাােশ্বর হোসেন,স্থপতি ইকবাল হাবিব,সমাজকর্মী রিনা খানম,বিশিষ্ট সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া প্রমুখ। এব্যাপারে চকময়রাম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই-রব্বানী বলেন,মননশীল,বিবেকবান,উৎকর্ষ সাধিত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ গড়ার একমাত্র জায়গা হলো পাঠাগার। এক হাজার বই সমান একজন বন্ধু আর বই পড়া একজন বন্ধু সমান এক হাজার পাঠাগার। ভালো মানুষ তৈরি করতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। এলাকায় আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজসেবকদের নিয়ে পাঠাগার পরিচালনায় একটি যুগোপযোগি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।