গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : প্রচুর মানুষের জটলা। ভীড় ঠেলে এগোতে দেখা গেলো সেখানে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। তবে সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন প্রবনতা নেই। তাছাড়া সিরিয়াল নিয়েও রয়েছে তালবাহনা। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভ্যাকসিন না পেলেও স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিচয়ের সুবাদে কেউ কেউ পরে এসেও আগে ভ্যাকসিন পেয়ে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র এটি। মোট দুটি স্থানে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। এক জায়গায় প্রথম ডোজ, অপর স্থানে দ্বিতীয় ডোজ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেল জরুরি বিভাগ ও ডাক্তারদের চেম্বারের আশেপাশে ঔষুধ বিপনন প্রতিনিধিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মত। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিনিধিরা হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করে। অবস্থান করাকালীন সময়ে তারা রোগীদের নিকট এক প্রকার জোর করে প্রেসক্রিপশন দেখতে চায়। ঔষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ব এতোটাই চরমে যে অনেক সিরিয়াস রোগীরা তাদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অনেকেই এ বিষয়ে অভিযোগও করেছেন।
হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে আরো জানা গেলো, যেসব রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সেসব রোগী কিংবা তাদের স্বজনদের সাথে নার্সদের দূর্বব্যবহারের কথা। তাছাড়া হাসপাতালের খাবার মান নিয়ে অনেক রোগী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নার্সদের খারাপ আচরণ এবং খাবারের মান নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথোলজি বিভাগ রয়েছে সেখানে পরীক্ষা করা হয়।
ইসিজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ থাকলেও রোগীদের পরীক্ষা দেয়া হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষ টেকনিসিয়ানের অভাব কিংবা মেশিন অকোজো হয়ে থাকার কারণে এ অবস্থা। হাসপাতাল চত্বর ঘুরাকালীন সময়ে অপরিচ্ছন্ন অবস্থা, কুকুরের উপদ্রব, হাসপাতালে যত্র-তত্র, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি চোখে পড়েছে। হাসপাতালে রোগী পরিবহনের কাজে একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স থাকায় রোগীদের নানান সমস্যায় পড়তে হয়।
এ সব বিষয় নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ মাসুদ পারভেজ বলেন, ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সব নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। তবে কোন অনিয়ম চোখে পড়লে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঔষুধ বিপনন প্রতিনিধিদের হাসপাতালে অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের শুধুমাত্র রবিবার ও মঙ্গলবার ডাক্তার ভিজিট করার নিয়ম রয়েছে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালের খাবারের মান ভাল বলে তিনি দাবী করেন। নার্সদের দূর্ব্যবহারের বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
ইসিজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ থাকলেও মেশিনগুলো অকেজো থাকায় চালু নেই। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের গোচরীভুত করা হয়েছে। অচিরেই নতুন মেশিন পাবার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাছাড়া আরেকটি এ্যাম্বুলেন্স খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন বলে তিনি জানান।