স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইবাবগঞ্জ : মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষার আবাদ। যেদিকে দৃষ্টি যায় মাঠ জুড়ে শুধু সরিষার ফুলে হলুদের হাসি লক্ষ করা যায়। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল ও নদীর ধারে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামান্য পরিচর্যা আর অল্প খরচে সরিষা চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা। চাষীরা বলছেন, চরাঞ্চলের বেশীর ভাগ জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুথটোই কম হওয়ায় চাষীরা এ ফসলের দিকেই ঝুঁকেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৫ উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৫থশ ৮০ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৭থশ ২০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১হাজার ১৪০ হেক্টর বেশি। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৯০ হেক্টর, নাচোলে ৫ হাজার ১০ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৩ হাজার ৭থশ হেক্টর, গোমস্তাপুরে ২ হাজার ১থশ ৬৫ হেক্টর, ও ভোলাহাটে ৭থশ ৫০হেক্টর জমিতে সরিয়া চাষাবাদ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদ আর হলুদ, ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সরিষা খেত। কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর জমি কয়েক মাসের জন্য পরিত্যক্ত থাকে।
আর সেই জমিতেই অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোন কোন মাঠে সরিষার দানা বাঁধতে এবং আবার কোথাও পুরোদমে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সামান্য পরিচযার্ আর অল্প খরচে চাষাবাদ করা যায় বলে দিনদিন জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে সরিষার চাষ। এসময়ে আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগা-বালাই না হলে ভাল ফলনের আশা করছেন চাষিরা। নেজামপুর ইউনিয়নের সরিষা চাষী দুলাল হোসেন জানান, ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ১হাজার থেকে ১২থশ টাকা।
আর ফলন পাওয়া যায় বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ মণ, যার বাজারমূল্য মণ প্রতি ১ হাজার ৮থশ টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাঃ নজরুল ইসলাম জানান, সরিষা চাষে কৃষকরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে তা ইতিবাচক। এটি কৃষি ক্ষেত্রে আরেকটি সাফল্য। চাষাবাদে খরচের পরিমাণ কম, পানি একবার দিলেই হয়। দেশী জাতের সরিষার ৬০ থেকে ৭০ দিনে ফসল উৎপাদন এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের ৭৫ থেকে ৮০ দিনের ফলন হয়ে থাকে।