স্টাফ রিপোর্টার : দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণের পরিধি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বিগত সময়ের চাইতে। যার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে খুলে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। সড়ক, মহাসড়কসহ বিভিন্ন বিপনীবিতান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে, সবচাইতে বেশি আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে নগরীর ক্লিনিক ও ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতে। রাজশাহী শহরের অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডাক্তারদের চেম্বারগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষের আগমন এতোই বেশি যে, সেখানে যেনো তিল পরিমাণও জায়গা নেই দাড়িয়ে থাকার। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সেবাগ্রহীতার আগমনের কারণে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দাড়িয়েছে জিরো টলারেন্স পর্যায়ে গিয়ে বলে মন্তব্য সেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ভুক্তভোগী আর বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর লক্ষিপুরস্থ বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সত্যতার চিত্র ধরা পরে পত্রিকার প্রতিনিধির ক্যামেরায়। এছাড়াও অতিরিক্ত ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেম্বারগুলোতে ডাক্তার না আসার কারণটিও। সিডিউল সময়ের চাইতে অনেক ক্লিনিকেই প্রায় দেড় থেকে পোনে দুই ঘন্টা পর চেম্বার আসেন ডাক্তাররা বলে অভিযোগ দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের। গত কয়েকদিন নগরীর বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুড়ে দেখাগেছে, একাধিক সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের একোমোডেশন এর চাইতে কয়েকগুণ বেশি রোগীর উপস্থিতি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো।
ডাক্তারের চেম্বারের দড়জায় লিখা আছে ‘বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়।’ অথচ বেলা গড়িয়ে ঘড়ির কাটা বিকেল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই করলেও দেখা মেলেনা সেই কাঙ্খিত ডাক্তারের। সিডিউল সময়ে অনেক পড়ে এসে তোরিঘরি করে রোগী দেখাতে রোগীরাও পাচ্ছেনা তাদের কাঙ্খিত সেবা বলেও অভিযোগ অনেকের। এছাড়াও ক্লিনিকগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে, আগত অনেক ব্যক্তির মুখেও নেই মাস্ক। অতিরিক্ত রোগীর আগমণ ঘটাতে একজনের শরীরের সাথে অন্যজনের শরীর ঘেষে দাড়িয়ে থাকাও বিষয়টি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ইঙ্গিতও বহন করছে বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের। ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী আসাতে সেখানে বসার স্থানে পড়েছে টানাপোড়ান। বসার আসন অপর্যাপ্ত হওয়াতে অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ঘন্টার পর ঘন্টা। বেশি টাকা খরচ করে দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই ধরণের অব্যবস্থাপনার জন্য।