রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

বহাল তবিয়তে বড়াল দখলকারীরা

Paris
Update : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১

চারঘাট প্রতিনিধি : চারঘাট উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা বড়াল নদী ঘিরে ধরেছে এখানকার দখলদাররা। যদিও সীমানা নির্ধারণ, যৌথ জরিপ, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাতে অবৈধ নদী দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। বছরের পর বছর এভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগে অবৈধ দখলদাররা এখন স্থায়ীভাবে নদী দখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। ২০১৯ সালে রাজশাহী জেলার অবৈধ নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় ও পুকুর দখলকারী ১৯৬ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চারঘাট উপজেলারই রয়েছে ৫৬ জন দখলকারীর নাম। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই। এ কারনে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা।

জানা যায়, দখলদারদের তালিকা প্রকাশের পরেও পেশীশক্তির প্রভাব আর প্রভাবশালীদের বাধার মুখে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারছেনা স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে ফিরে এসেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা না পাওয়ায় পরবর্তীতে আর বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সরকারি কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। আর এ সুযোগে বছরের পর বছর দখলকারীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দখলদারদের তালিকা প্রকাশের পর গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি দখলের শিকার হয়েছে বড়াল। চারঘাট পৌরসভা কতৃপক্ষ বড়াল নদী দখল করে তিনটি পাবলিক টয়লেট ও রাস্তা নির্মাণ করেছে। এছাড়াও চারঘাট বাজার ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশে পাশেসহ বড়াল নদীর প্রায় সব স্থানে চলছে দখল। বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকার কিছু প্রভাবশালী যে যেভাবে পারছেন নদীর পাড় দখল করে বাড়ি,মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিস্কুট ফ্যাক্টরি,আড়ত স্থাপন করছেন।

চারঘাট বাসষ্ট্যান্ড এর পূর্ব পাশে বড়াল নদীর জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সু্বশিাল মার্কেট। এই মার্কেটের মালিক বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন। বাসস্ট্যান্ড এর ঠিক পেছনেই নদীর জমিতে গড়ে উঠেছে বাধন বিস্কুট ফ্যাক্টরি। এই বিস্কুট ফ্যাক্টরির মালিক আজিজুল ইসলাম। তবে তিনি এক ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ভাড়া দিয়ে জায়গাটা ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন।

নদীর পাড় ঘিরে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানান, তারা শুধু দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন, নদী দখলের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। তারা প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময় ভাড়া দিয়েই এসব জায়গায় ব্যবসা করছেন। বড়াল নদী রক্ষা আন্দোলনের চারঘাট উপজেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা জানান, চারঘাটে ৫৬ জন দখলদারের তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে সিংহ ভাগ দখলদারই তালিকার বাইরে থেকে গেছে। পুনাজ্ঞ তালিকা প্রস্তুত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নয়তো বড়াল নদী চারঘাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

বড়াল নদী রক্ষাণবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেসুর রহমান বলেন, বড়াল নদী পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। মাস খানেক পরে এই প্রতিবেদন হাতে পেলে তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরী বলেন, দখলদারদের তালিকা সৃজন করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পৌরসভার একটি পাবলিক টয়লেট আমি যোগদানের পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের কাজ বন্ধ করা হয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris