শনিবার

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

বিলকুমারী শতশত জেলে পরিবারের ভরসা

Paris
Update : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

আর কে রতন, মোহনপুর : জলে মাছ, আর উপরে পাখির অবাধ বিচরন। যেন মাছ আর পাখির মিলিত অভয়াশ্রম। এই বিলের একপাশে মাছ ধরে চলে ৫০০ জেলের পরিবারের জীবিকা। আর অন্যপাশে নিরাপদ থাকে মা মাছ। সেখানে খাবার সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে হাজার হাজার পাখি। প্রকৃতি আর জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ যাপন সঙ্গীও।
রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরের পাশেই বিল কুমারী বিল। শিব নদী আর এই বিল যেন অভিন্ন শরীর। শীবনদী বয়ে গেছে বিলের মধ্যখানে দিয়ে। আরও দু-তিনটি নদীর নিবিড় সম্পর্ক এই বিল কুমারীর সঙ্গে। সারা বছর বিলজুড়ে শত শত ছোট-বড় নৌকা নিয়ে নবীন-প্রবীন মৎস্যজীবি তাদের কর্মযজ্ঞ চালায়।

কয়েকটি গ্রাম মিলে প্রায় পাঁচ‘শ জেলে নিয়ে গঠিত রয়েছে বিল কুমারী বিল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। বছরব্যাপী মাছ ধরেই তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে বহু বছর ধরে। বর্ষায় নদী আর বিল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। শীতে শুকিয়ে যায় এর অধিকাংশই। এখনকার জেলেদের জীবন ও জীবিকার মূল চালিকাশক্তিই যেন এই বিপুল জলাধার।
উপজেলা সদরের পূর্ব দিকে অবস্থিত ১৫৭ হেক্টর আয়তনের ঐতিহ্যবাহি বিল কুমারী বিল। এই বিলকে কেন্দ্র করে পাড়ে গড়ে উঠেছে শত শত জেলে পরিবারের বসতি।

তাদের আয়ের একমাত্র ভরসা এই জলাশয়ের মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্ভর করা। বিল ঘেঁষে তানোর সীমান্তের পশ্চিম সংলগ্নে গোল্লাপাড়া, কুঠিপাড়া, শীতলীপাড়া, ধানতৈড়, গোকুল, কামারগাঁ গ্রামের এবং মোহনপুর উপজেলার মেলান্দি ও ঘাসিগ্রাম গ্রামের মৎস্যজীবিরা সারা বছর এই বিলে মাছ শিকার করে তাদের সংসার চলে। সরকার জেলেদের কথা চিন্তা করে ও বিলে আরো বেশি দেশীয় মাছের বিস্তার ঘটে যার সে লক্ষে বিলের মাঝামাঝি ২০০৮ সালে স্থাপিত করে দুটি মাছের অভয়ারণ্য। সেখানে মাছ ধরা নিষেধ। এই অভয়ারণ্যে নির্বিঘ্নে মাছ ডিম পাড়ে, বড় হয়ে ওঠে। মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, শোল,পাবদা,শিং, মাগুড়, খরি মাছসহ ইত্যাদি। অভয়ারণ্যের চারিপাশে সারা বছর মাছ ধরেই চলে জেলেদের দৈনন্দিন জীবন।

শীতলীপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি এন্তাজ আলী জানান, এই বিলে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরন করি এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আমরা আমাদের পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিই। তিনি আরো সৃষ্টিকর্তার কি দয়া প্রতিদিন এত জেলে মাছ মারে। কিন্তু কেই খালি হাতে ঠিরে না। বিল কুমারী বিল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শ্রী দর্শনাথ হালদার এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রচীনতম এই বিলে যুগযুগ ধরে জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন মাছ শিকার করে আসছে। আমার বাপ-দাদারা করেছে এখন আমরা করছি। এভাবেই এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে। প্রতিবছর সরকারী ভাবে বিলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়ে থাকে। বিল কুমারী বিলের পাখির কথা না বললেই নয়।

খাচোখী, বক, নারিকেল, গাঙচিল, গাঙ শামুখখোলা, হাঁস পানকৌড়ি, সহ নানা জাতের পাখির দেখা মেলে। বুক চিড়ে দেয়া হয়েছে বিশাল বাঁধ। ফলে শুকনো মৌসুমে বিলের বেশি অংশ শুকিয়ে যায়। জলাভূমি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি-মৎস্যবিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিলের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বিল কুমারী তার প্রাচীনতম অস্থিত হারাতে পারে। এটি শুধু পানি-মাছ-পাখি-কৃষির জন্য নয়; বরং এই অঞ্চলের মিষ্টি পানি, প্রকৃতি ও মানুষের সুস্থতা এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি হয়ে আছে। পাশাপাশি অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে এই বিল কুমারী।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris