এফএনএস : করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে অনলাইনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রীরা সচিবালয় থেকে বৈঠকে অংশ নেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জানান, বিশ্বের অনেক দেশেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কোনও কোনও দেশ করোনা প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আমাদেরও এসব বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিসÑএ নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।’ উল্লেখ্য, এর আগে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে পথচারীদের জরিমানা ও জেল দেওয়া হয়। বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। সরকারি অফিসগুলোতে মাস্ক না পরলে সেবা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও মাস্ক পরা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে করোনা ভ্যাকসিন কিনতে ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত রোববার স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবের কাছে অর্থ বরাদ্দের পাঠানো চিঠিতে এ তথ্য জানান অর্থ বিভাগের (বাজেট অনুবিভাগ-১) যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। অর্থ বিভাগের চিঠিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ হতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন ক্রয়ের লক্ষ্যে পরিবহন খরচসহ কোল্ড চেইনে পৌঁছানো পর্যন্ত তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার বিভাজন অনুমোদনসহ কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রমে সম্মতি দেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিভিন্ন খাতে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাবিত করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ (ওষুধ ও প্রতিষেধক) বাবদ এক হাজার ২৭১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৬৪৩ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আপ্যায়ন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
প্রস্তাবিত হায়ারিং চার্জ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার পরিপ্রেক্ষিতে কোনও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১ কোটি ২ লাখ টাকার পরিপ্রেক্ষিতেও কোনও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৬ কোটি ৭৬ লাখ ১৯ হাজার টাকার পরিপ্রেক্ষিতেও কোনও বরাদ্দ হয়নি। স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রীর জন্য প্রস্তাবিত তিন কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয়ের প্রস্তাবিত ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার মধ্যে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মধ্যে ১২ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বাবদ প্রস্তাবিত ৫৮ কোটি ৫৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিপরীতে ৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৬ কোটি ২৬ লাখ এক হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জরিপের জন্য প্রস্তাবিত ৯৫ লাখ টাকার বিপরীতে কোনও টাকাই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সম্মানি বাবদ প্রস্তাবিত ১০ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি বাবদ প্রস্তাবিত ১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডাটাবেজ বাবদ প্রস্তাবিত ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রস্তাবিত ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার বিপরীতে কোনও টাকাই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কিনতে ইতোমধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার।
চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বা টিকা কিনে জনগণের মাঝে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এ টিকার ভারতীয় উৎপাদক সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৫ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।