এফএনএস : ক্রিস গেইল নিজেকে বলেন ‘ইউনিভার্স বস।’ একসময় তার ব্যাটেও থাকত ‘ইউনিভার্স বস’ লেখা স্টিকার। আইসিসির বাধায় সেটা চালিয়ে যেতে পারেননি। এখন তার ব্যাটে স্টিকার থাকে শুধু ‘দা বস।’ তবে মাঠের ভেতরে-বাইরে বরাবরই বিনোদনদায়ী এই তারকা মজা করে বললেন, আইসিসির নিদের্শনা মেনে চললেও ক্রিকেটের সত্যিকারের বস তিনি নিজেই। ব্যাটে ‘ইউনিভার্স বস’ স্টিকার লাগানো থেকে বছর দুয়েক আগে থেকেই গেইলকে বিরত রেখেছে আইসিসি।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার পলিসি অনযায়ী, ক্রিকেটাদের পোশাকে বা ক্রিকেট সামগ্রীতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও কোনো বার্তার সুযোগ নেই। সেন্ট লুসিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টির পর পুরনো সেই প্রসঙ্গ আবার জিজ্ঞেস করা হলো গেইলকে। ৭ ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৭ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে গেইল বললেন তার ব্যাটের স্টিকার নিয়ে। “এখানে শুধু লেখা ‘দা বস।’ আসলে তো এটা ‘ইউনিভার্স বস।’ তবে আইসিসি চায় না আমি ‘ইউনিভার্স বস’ ব্যবহার করি।
তাই সংক্ষপ্তি করে শুধু ‘দা বস’ করে নিয়েছি। কারণ আমিই তো বস!” গেইলকে তখন বলা হলো, টেকনিক্যালি ‘ইউনিভার্স বস’ তো আসলেই আইসিসিই, তারাই ক্রিকেট চালায়! স্বভাবসুলভ হাসিতে গেইলের উত্তর, “না না না, তারা নয়, আমিইৃ. আইসিসি নয়, টেকনিক্যালি আমিই ক্রিকেটের বস।” ‘ক্রিকেটের বস’ ২০ ওভারের ক্রিকেটে তার শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটা নমুনা এই ম্যাচে রেখেছেন। শুধু ম্যাচ জেতানো বিধ্বংসী ইনিংসই নয়, এই ম্যাচে তিনি পূরণ করেছেন টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রান।
আর কোনো ব্যাটসম্যানের এমনকি ১১ হাজার রানও নেই। মাইলফলক ছুঁয়ে ৪১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, এখন তিনি তাকিয়ে ১৫ হাজারের দিকে। “১৪ হাজার টি-টোয়েন্টি রান করতে পারা দারুণ অর্জন। এখন আমার নিজেকে লক্ষ্য দেওয়া উচিত ১৫ হাজার। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৪ হাজার করতে পারা খুবই তৃপ্তির। আশা করি, আরও অনেক রান আসবে এবং দেখিয়ে দিতে পারব, এখনও আমার সামর্থ্য কতটা আছে।”
‘ইউনিভার্স বস’ : বয়স ৪২ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু ব্যাট হাতে ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইলের দাপট কমেনি। তবে ধারাবাহিকতা কমে গিয়েছিল। দলে ফেরার পর থেকেই ব্যাটে রান আসছিল না। অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ‘ইউনিভার্স বস’ দেখা দিলেন চেনা চেহারায়। তার ঝড়ো ফিফটিতে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া ৫ ম্যাচের সিরিজে টানা তিন জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট লুসিয়ায় অজিদের তারা ৬ উইকেটে হারিয়েছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৪১ রান সগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।
বল হাতে ক্যারবীয় বোলাররা ছিলেন দুর্দান্ত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে তারা অজিদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন। ২৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোইসে হেনরিক্স। এ ছাড়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ৩১ বলে ৩০, অ্যাস্টন টিউনা ২২ বলে ২৪ আর ওপেনার ম্যাথু ওয়েড ১৬ বলে ২৩ রান করেন। ২ উইকেট নেন হেইডেন ওয়ালশ। বাকি তিন উইকেট তিন বোলার ভাগ করেন। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৪ রানেই আন্দ্রে ফ্লেচারকে (৪) শন মার্শের তালুবন্দি করেন মিচেল স্টার্ক।
উইকেটে আসেন ক্রিস গেইল। জস হ্যাজেলউডকে ছক্কা মেরে তিনি রানের খাতা খোলেন। ৩৩ বলে ফিফটিও করেন ছক্কা মেরে। অবশেষে ৩৮ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় গেইল যখন ৬৭ রানে আউট হন, তার দল তখন জয়ের বন্দরে। অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ২৭ বলে ৩২* রানে অপরাজিত থাকেন। আন্দ্রে রাসেল (৭*) দুই বল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, এক বলে মারেন ছক্কা। ২৫ বল হাতে রেখে জিতে যায় উইন্ডিজ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরা হয়েছেন ক্রিস গেইল।
১৪ হাজার রান : এমনি এমনিই তো তাকে টি-টোয়েন্টির ‘ইউনিভার্স বস’ বলা হয় না। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র ফরম্যাটে তিনি যে সব কীর্তি গড়েছেন, তার ধারেকাছে কেউ নেই। মঙ্গলবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ক্রিস গেইল প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১৪,০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালীন ‘ইউনিভার্স বস’ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার ৭ ছক্কার বিধ্বংসী ইনিংসেই ক্যারিবিয়ান ব্রিগেড ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়।
৪১ বছর ২৯৫ দিন বয়সী এই ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার ১৪২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ৩৮ বলে ৬৭ রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিস গেইল কার্যত ব্যাটিং ঝড় তুলেছিলেন। তিনি ৭টি ছক্কা এবং ৪টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। এমন একটা বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর গেইল বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, ব্যাট হাতে আমাকে সম্প্রতি যথেষ্ট স্ট্রাগল করতে হয়েছে।
এবার রান পেয়ে কিছুটা স্বস্তি লাগছে।’ ২০১৬ সালের পর এই প্রথম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হাফসেঞ্চুরি করলেন ক্রিস গেইল। তিনিই এখন টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রানের মালিক। ১০ হাজার ৮৩৬ রান নিয়ে অনেক পেছনে থেকে দুইয়ে আছেন তার ক্যারিবিয়ান সতীর্থ কাইরন পোলার্ড। গেইল আরও যোগ করেন, ‘এটা একটা অসাধারণ যাত্রা। তবে আমি খুব খুশি। এই সিরিজটা জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি দলের অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে এমন একটা সিরিজ জয়ের শুভেচ্ছা জানাতে চাই।’