আরিফ সাদাত, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নান্দনিক পাকা ঘর নির্মাণ কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরই মধ্যে নির্মিত কয়েকটি ঘরের দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। আর ওই ফাটলকৃত স্থান গুলোতেরসিমেন্ট-বালির মিশ্রণে ঢেকে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় আশ্রয়িতাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাণ ভয়ে অনেকই নতুন এই ঘর গুলোতে বসবাসের জন্য এখনই আসতে চাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কাজে অতিনিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঘর গুলোতে ফাটল শুরু হয়েছে। পুরো বর্ষা শুরু হলে নির্মিত ঘর গুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ ছাড়া অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় ঘর করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের অধিনে ‘ক’ শ্রেণিভূক্ত জমিতে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে ৬টি ইউনিয়ন এলাকায় দ্বিতীয় দফায় ১১০টি ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রতিটি পবিরারের জন্য দুটি রুম বিশিষ্ট পাকা ঘরের মধ্যে আরো রয়েছে একটি বাথরুম ও রান্নার স্থান। সেই সাথে ওই পরিবার গুলোর আধুৃনিক সুবিধার জন্য থাকছে আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহের পাশাপাশি ওই এলাকায় স্থাপন করা হচ্ছে আলোকবাতি।
আর তাদের যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নতুন সড়ক। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় ঘর নির্মাণ কাজেও কোনো গাফলতি বা অনিয়ম করা হয়নি। সকল ঘরে সঠিক গুনগত মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্ষা শুরু হওয়ায় নির্মিত এলাকায় মাটি ভরাট কাজ এখনো শেষ করা যায়নি। আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন ঘর নির্মাণকারী কারিগর বলেন, প্রথম পর্যায়ের ঘর গুলোর তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নির্মিত ঘরের গুনগত মানে অনেক ফারাক রয়েছে।
এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, নির্মিত স্থানটি সাধরণত ফসলি ক্ষেত ছিল। আর ওই নরম মাটিতে ঘরের ভিত শক্ত না করেই ইটের গাথুনি শুরু করা হয়েছে। এরপর ফাটলকৃত ঘর গুলো নির্মাণের সময় সিমেন্টের পরিমাণ অনেক কম দেয়া ছিল। অতিরিক্ত বালু দেয়ার কারণে ঘরের দেয়াল গুলোতে ফাটল শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে ফাটলকৃত স্থানে সিমেন্ট-বালির মিশ্রণে লেপে দেয়া হচ্ছে।
মধুখালি এলাকার জামাল উদ্দীন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গৃহহীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রথম দফার ঘর নির্মাণ অনেক ভালো হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় ঘর নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি করা হয়েছে। প্রথম দফার চেয়ে সরকার দ্বিতীয় দফায় টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন অথচ কাজ হয়েছে নিম্নমানের। যার কারণে নির্মাণ শেষ হতে না হতে বেশীর ভাগ ঘরের দেয়ালে বড় ফাটল শুরু হয়েছে।
ঘর গুলো সঠিক ভাবে নির্মাণ কাজ না হলে এই বর্ষার মধ্যে ধরে পড়ে প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে মধুখালি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার একাধিক আশ্রয়িতা বলেন, আমাদেরকে ঘরের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হলেও এখানে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার মধ্যে মাটি ভরাট ও পায়খানার নির্মাণ কাজও শেষ করেনি।
আমরা বসবাস শুরু করার আগেই বেশীর ভাগ ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। মনে হয় বর্ষার পানি বেড়ে গেলে ঘর গুলো ভেঙ্গে পড়তে পারে। এখানে জঅনেকেই প্রাণ ভয়ে এখন বসবাসের জন্য এই ঘরে আসতে চাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, ঘরগুলো তৈরিতে অনেক উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে নির্মিত ঘরের সাথে পায়খানার স্লাভ বসানোর গর্তের কারণে দেয়ালের কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছিল। পরবর্তিতে ওই স্থান গুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে বাড়ি গুলো ঝুঁকিপূণ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রতিটি ঘর তদারকি করানো হয়েছে।