স্টাফ রিপোর্টার : করোনার তৃতীয় ঢেউ অর্থাৎ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে আগাত আনার কয়েকদিন পর থেকে রাজশাহীর ফার্মেসীগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে জ্বরের প্রাথমিক ঔষধ নাপাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ বলে জানান ফার্মেসী ব্যবসায়িরা। গতকাল রবিবার নগরীর পাড়ামহল্লার ফার্মেসী থেকে শুরু করে সাহেববাজার, লক্ষীপুরসহ প্রায় সর্বত্রই সংকট দেখা দিয়েছে নাপা গোত্রের ট্যাবলেটগুলো। শহরের অধিকাংশ ফার্মেসী ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।
তবে, হাতে গোনা কয়েকটি ফার্মেসীতে এইগ্রুপের ট্যাবলেটগুলো পাওয়া গেলে দাম রাখা হচ্ছে বেশি। সংকটের সত্যতা স্বীকার করেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর রাজশাহীস্থ ডিপো অফিস ও কর্মকর্তরা। জ্বর, মাথা ব্যাথা কিংবা করোনার উপসর্গের প্রাথমিক ও চুড়ান্ত পর্যায়ে নাপাজাতীয় ট্যাবলেটের মধ্যে প্লেন নাপা, নাপা এক্সটা, নাপা এক্সটেন্ড, নাপা র্যাপিড, ছোটদের জন্য নাপা সিরাপ ছাড়াও একই কোম্পানীর আরো বেশ কয়েকটি ঔষধ অধিকাংশ ডাক্তাররাই প্রেসক্রাইব করে থাকেন বলে জানান ফার্মেসী ব্যবসায়িরা।
তবে, নাপা এইস ও নাপা এইচ ট্যাবলেট নগরীর কিছু কিছু ফার্মেসীতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে, রাজশাহীস্থ ডিপো ইনচার্জ রশিদ আহম্দে সংকটের কথাটি অস্বীকার করে বলেন, এখন আর সংকট নেই। গেল মাসের শেষের দিকে কিছুটা সংকট ছিল। কিন্তু, চলতি মাসের প্রথম তারিখ থেকে গতকাল রবিবার থেকে পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসীতে উক্ত শ্রেণীর ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।
গতকাল নগরীর নিউমার্কেট এলাকা, সাহেববাজার, লক্ষিপুর, নওদাপাড়া, গৌরহাঙ্গা, শালবাগান, বেলদারপাড়া, সাগড়পাড়াসহ আরো বেশ কিছু এলাকার ফার্মেসী ঘুড়ে নাপা জাতীয় ট্যাবলেটের সংকট দেখাগেছে। কেউ কেউ এই সংকটকে ঢাল করে বেশি দামে বিক্রি করছে ট্যাবলেটগুলো। বেক্সিমকো ফার্মার সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটেভ মাহমুদও জানান, কোম্পানী কোন ঔষধের দাম বৃদ্ধি করেনি। তবে, ফার্মেসী ব্যবসায়িরা হয়তো বেশি দামে বিক্রি করছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নাপা ট্যাবলেট ও সিরাপের সংকট বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান রয়েছে স্থানীয় খোলাবাজারে (ফার্মেসী)। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীদের সেই অভিযোগ অস্বীকার করছেন কোম্পানী সংশ্লিষ্টরা। পাড়ামহল্লার ফার্মেসীগুলোতে সংকটকে ঢাল করে গতকাল পর্যন্তও বেশি দামেই বিক্রি হয়েছে নাপাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ। সাদেকুর নামের এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী জানান, আট টাকার পাতা এখন আমাদেরকে কিনতে হচ্ছে চৌদ্দ টাকায়।
কিন্তু দাম বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করছেন কোম্পানী সংশ্লিষ্টরা। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর সংশ্লিষ্টরা উক্ত ট্যাবলেট ও সিরাপের সরবরাহের দীর্ঘ সংকট অস্বীকার করলেও বাস্তবীক অর্থেই নগরীর অধিকাংশ ফার্মেসীগুলোতে বিগত কয়েকদিন ধরে যোগান ছিল শূণ্যের কোঠায়। নগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকার মুমু ফার্মেসী ও নওদাপাড়া এলাকার রাসেল ফার্মেসীতে গতকাল বেলা বারোটায় গিয়ে নাপা ট্যাবলেটের মজুদ আছে কিনা জানতে চাইলে শহরের অন্যান্য স্থানের মতো তিনিও সংকটের কথাটি স্বীকার করেন।
নাপা ট্যাবলেটের সরবরাহ আসলেই সঙকটের মুখে পড়েছে কিনা বিষয়টি আবারো ডিপো ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফার্মেসীর নাম জানতে চান। তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন ফার্মেসীতে চলতি মাসের এক তারিখ থেকে ঔষধ নিয়মিত সরবরাহ করছি। কিন্তু, একজন সিনিয়ির রিপ্রেজেন্টেটিভ এবিষয়ে বলেন, বিগত একমাস ধরে কোন সংকট নেই।
অন্যদিকে, গতকাল দুপুর একটার সময় নগরীর লক্ষীপুরে ঔষধ সরবরাহ দিতে আসা কোম্পানীর একটি কাভার্ডভ্যানের দায়িত্বে থাকা দুইজন কর্মচারি সংকটের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে, শহরের ক্রেতারা বলছেন, নাপাজাতীয় ট্যাবলেটের সংকট বিগত এক সপ্তাহ ধরেই চলমান রয়েছে নগরীর ফার্মেসীগুলোতে। এদিকে, নগরীর সচেতনমহল বলছেন ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা হয়তো সংকটকে ঢাল করে বেশি দাম হাতিয়ে নেবার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।