শামীম রেজা : খসে গেছে অনেকের চাকা। স্ট্যান্ডটাও গেছে ভেঙ্গে। নেই দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি। তারপরও কাটা তারের বেড়ায় থাকতে হচ্ছে। টানতে হচ্ছে মামলার ঘানি। দোষ চালকের হলেও বন্দি হতে হয় গাড়িগুলোকে। রাজশাহীর বাগমারা থানা চত্তরের ভেতরের ঠিক পশ্চিম ধারে রাখা হয়েছে মটরসাইকেলসহ আটককৃত বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। এগুলো অনেক মামলার আলামত। কখনো মাদকদ্রব্য সহ জব্দ আবার অনেকের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজ পত্রাদী না থাকায় এর মূল কারণ।
প্রচন্ড রোদ আর বৃষ্টিতেই থাকতে হচ্ছে পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময় আটককৃত মটর সাইকেল সহ প্রাইভেটকার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই সকল গাড়ির রং।
এদের কোনোটা নতুন আবার কোনোটা পুরতন। সময় মতো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া অবাদে নষ্ট হচ্ছে ওই সকল যানবাহন। মামলার দীর্ঘ সূত্রিতার কারনে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িগুলো ফেরত পাচ্ছেনা মালিকরা। কয়েক বছর পার হলে গাড়িগুলোর যে হাল হয় তাতে গাড়ির মালিকই নিতে ইতোস্তত বোধ করেন। দেশের প্রতিটি থানায় মামলা জটে এভাবেই নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যানবাহন। থানা থেকে মহামান্য আদালতে নিলামের জন্য আবেদন করলেও ফল হয়না কোন।
কয়েক বছর পরপর যদি থানায় আটককৃত গাড়িগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হতো তাহলে নষ্ট হতো না ওই সকল যানবাহন। এর ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন পড়ে থেকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে অনেক গাড়ি। পুলিশের দাবি প্রতিটি গাড়ি কোন না কোন মামলার আলামত। থানা থেকে চাইলেই নিলাম দেয়া যায় না। এটা নির্ভর করে মহামান্য আদালতের উপরে। কাগজপত্র না থাকলেও দাম কম হওয়ায় অনেকে কিনেন চোরাই গাড়ি। সেই গাড়িগুলোর নিয়ে যখন রাস্তায় বের হয় পুলিশের চেকপোস্ট বসলে সে সকল গাড়িগুলো থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে গাড়ির কাগজপত্র না থাকায় রেজিস্ট্রশনও করতে পারেন না। ফলে থানাতেই নষ্ট হয় ওই সকল গাড়ি। এছাড়া অনেক গাড়ি দুর্ঘটনার কারনে দুমড়েমুচড়ে ব্যবহার অনুযোগী হয়ে যায়। পুলিশ সেই নষ্ট গাড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় রেখে দেয়। গাড়িগুলো মেরামত করতে যে পরিমান অর্থ ব্যয় হবে তাতে নতুন করে মটর সাইকেল ক্রয়করা সম্ভব। এমন চিন্তা করেও অনেকে থানা থেকে গাড়ি নেন না। দীর্ঘ দিনের ওই সকল যানবাহন যেন লোকজন ব্যবহার করতে পারে সে জন্য দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা দরকার। দ্রুত মামলা খারিজ করে নিলাম দেয়া হলে সরকারী কোষাগারে অনেক টাকা জমা পড়বে।
অযথা দিনের পর দিন মামলা না রেখে অল্প সময়ের মধ্যে মামলা শেষ করে নিমালে দেয়ার দাবি জনসাধারণের। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ জানান, থানায় আটককৃত প্রতিটি গাড়িই একটা না একটা মামলার আলামত। এদের মধ্যে যে গাড়ির মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হচ্ছে সেটা তার মালিক নিয়ে যাচ্ছে। অনেক দিন থেকে বেশ কিছু গাড়ি পড়ে আছে। আদালতে আবেদন করা আছে থানায় আটককৃত গাড়িগুলোর নিলামের জন্য। আদালত যেটা করে সেটাই। এতে আমাদের করার কিছুই নেই।