রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

স্বপ্ন ছিলো বড় শিল্পি হওয়ার কিন্তু কলস বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে অন্ধ মিজান

Paris
Update : শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : ‘এই দুনিয়াই সবারইতো আছে ক্ষুধার জ্বালা, একটু খানি দয়া করো ও ভাই পয়সা ওয়ালা, সেই দয়াতে বেঁচে যাবে আমার কচি সোনা, আমার কচি সোনা। একটি টাকা দাওনা ও ভাই, একটি টাকা দাওনা, একশ টাকা, পাঁচশ টাকা, হাজার টাকা চাই না”। সৈয়দ আব্দুল হাদী ও বেবী নাজনীন এর কন্ঠে গাওয়া গানটি দিয়েই শুরু করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান মিজান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা চৌডালা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের আব্দুল জাব্বারের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)। জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন হাট-বাজারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, জনসমাগম স্থল, খেলার মাঠে ও বিভিন্ন মেলাতে কলস বাজিয়ে গান গেয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের দেয়া অর্থ দিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিষয়ে মিজানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জন্ম থেকে আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আমার স্ত্রীসহ ২ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে।

আমি মাসিক ৭০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। আর যে টাকা উপার্জন করি তা দিয়ে কোন রকমে আমার সংসারটা চলে। আমার বড় ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে, মেয়েটি ৩য় শ্রেণীতে পড়ে ও ছোট ছেলের বয়স ৫ বছর। তাদের চাওয়া-পাওয়া আমি কখনো পূরণ করতে পারিনা। মহান আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন! মহান আল্লাহ আমাকে চোখের দৃষ্টি না দিলেও, আমি একটি গান ১-২ বার শোনার পরে আয়ত্ত করে ফেলি।

এখন পর্যন্ত আমি ২০০-২৫০টি গান গাইতে পারি। বাস ও যানবাহনসহ রেডিও মহানন্দাতে ২ বছর আগে একটি গান করেছিলাম এবং জেলার বাইরেও কুয়াকাটায় ১৬ ডিসেম্বরের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। মিজান বলেন, করোনাকালীন তার পরিবার খুব কষ্টে দিনযাপন করছে। দেখার মত কেউ নেই। সরকার কর্তৃক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৭’শ টাকা করে পেয়ে থাকে। তার একসময় স্বপ্ন ছিল বড় শিল্পি হওয়া।

বর্তমানে তার অভাব অনটনের সংসার চালাতে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেউ যদি তাকে সহায়তা করত তাহলে এলাকায় একটি দোকান দিয়ে পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত ভাল করে তুলে দেয়াসহ ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারতো। ওই এলাকার নন্দলালপুর মাদ্রাসার সুপার এনামুল হক, চৌডালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাবুল হক ও প্রতিবেশী আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, জন্ম থেকেই আমরা তাকে এরকম দেখে আসছি।

সে হাটবাজারে কলস বাজিয়ে গান শুনিয়ে দর্শকদের মাঝে আনন্দ দিয়ে যে টাকা পাই তাতে তার সংসার চলে। ছোট একটা ভাঙ্গাচোরা বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা তাকে যতটুকু পারি সহযোগিতা করে থাকি। এ বিষয়ে চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, মিজানুর রহমান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে ভাতা পায়।

আমি তাকে পরবর্তীতে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্টা করবো। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সমাজসেবা অফিস থেকে মিজানকে দেয়ার মত এখন বরাদ্দ নেই। আসলে পরবর্তীতে দেয়া হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris