শাহানুর রহমান রানা : তৃতীয় ধাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আবারো বিপর্যস্ত সমস্ত দেশ। তবে, দেশের অন্যান্য স্থানের চাইতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ভয়াবহতা অনেকটাই বেশি। আক্রান্ত ও মৃত্যু হারের পরিসংখ্যান পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে অতিসহসায় বলা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর রাজশাহী মহানগরীর করোনা সংক্রমণের হার ও ঝুঁকি পূর্বের চাইতে অনেকটাই ভয়াবহতার দিকেই ধাবিত হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৩ জনের মতো মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহীর হাসপাতাল থেকে।
অন্যদিকে, করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার হার অনুযায়ী কোভিড ব্যাধীর আক্রান্তের হার নগরীতে প্রায় ৫৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মাসখানেক আগেও যেটার হার ছিল দশ থেকে বারো শতাংশ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা টেস্টে মানুষের ভীড় কমানো আর তৃর্ণমূল পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) শনাক্তের জন্য রাসিক কর্তৃক প্রথম পর্যায়ে নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ‘ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের’ ব্যবস্থা করা হলেও চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সেটির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে শহরের বারোটি পয়েন্টে।
নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে গড়ে প্রতিদিন প্রায় একশ জনের অধিক ব্যক্তি করোনা টেস্ট করালেও বেশ কিছু স্থানে এর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক স্থানেই চোখে পড়ার মতো। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কামারুজ্জামান চত্বরের উত্তর পার্শ্বের পয়েন্টে গত ১৪ ও ১৫ জুন দুপুর একটা পর্যন্ত একশজন ব্যক্তির টেস্টের বিপরীতে পজিটিভ ফলাফল এসেছে গড়ে ১৮ জন করে। যার অধিকাংশই হচ্ছে মহিলা।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে রাসিক কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা হলেও সেই ব্যবস্থা কোথাও কোথাও করোনার ঝুঁকি ও হুমকি হিসেবে হচ্ছে প্রতীয়মান! নগরীর আমচত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উক্ত ‘ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের’ সেন্টারটির পাশেই (গা ঘেঁষে) টিসিবি’র ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) এর ট্রাকসেল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
করোনা ভাইরাস টেস্টের ব্যবহৃত স্টীক, তুলা, টিস্যুসহ অন্যান্য উপকরণগুলো পার্শ্ববর্তী প্লাস্টিকের যে বক্সে ফেলা হচ্ছে সেটির কয়েক ইঞ্চি দূরত্বে কেউবা দাঁড়িয়ে আছে কেউবা বসে আছে নির্দ্বিধায়! এছাড়াও কোভিড টেস্টের কার্যক্রম যারা পরিচালনা করছেন তাদেরও দায়িত্ব ও সচেতনার অভাব দেখে হতভম্ব হতে হয়েছে। রাসিক কর্তৃক সরবরাহকৃত পর্যাপ্ত জীবানুনাশক লিকুইড ও অন্যান্য জরুরী উপকরণ নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গেছে অবহেলা।
রাসিকের স্বাস্থ্য বিভিাগের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, নিয়মানুযায়ী একজন ব্যক্তির কোভিড টেস্ট করানোর পর পরবর্তী ব্যক্তির টেস্ট করার পূর্বে উক্ত স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা দায়িত্বরত ব্যক্তিকে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ভাল করে জীবানুমুক্ত করার নিয়ম থাকলেও অত্যন্ত জরুরী ও অত্যাবশ্যক কাজটি করছেন না দায়িত্বরতরা। যার কারণে, কোভিড টেস্ট করতে এসে সচেতন অনেক ব্যক্তিই ফিরে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসের ‘ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের’ সেন্টার থেকেই।
আনারুল হক, মিনা খাতুন ও খায়রুল আলম নামের তিনজন ব্যক্তি এবিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, টেস্টের পর যাদের ফলাফল পজিটিভ আসছে তাদের নাক থেকে নির্গত নিশ্বাস উক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর হাতের উপরীভাগেই থেকে যাচ্ছে। তারা নিজেদের হাত যেহেতু স্যানিটাইজ কিংবা জীবানুমুক্ত করছেন না সেহেতেু বিষয়টি অবশ্যই স্পর্শকাতার। তাই এমন ঝুঁকি নিয়ে করোনা টেস্ট করার চাইতে না করাই ভাল বলে মনে করেন তাঁরা। এই চিত্র নগরীর অধিকাংশ পয়েন্টেই দৃশ্যমান।
বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য অনেকের। অন্যদিকে, রেলগেট ট্রাফিক অফিসের পার্শ্বের পয়েন্টে গিয়ে দেখ াগেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘ফ্রি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের’ কার্যক্রম শেষ হবার পরে টেস্টে ব্যবহৃত অত্যন্ত স্পর্শকাতর উপকরণগুলো ট্রাফিক অফিসের নিচেই অর্ধাবস্থায় পোড়ানো হয়েছে কিছু অংশ।
কোথাও কোথাও লক্ষ্য করা গেছে, যাদের ফলাফল পজিটিভ এসেছে ঐসকল ব্যবহৃত উপকরণগুলো উন্মুক্ত টেবিলে রেখে দেওয়া হয়েছে, আর সেই টেবিলের পার্শ্বেই ছোট ছোট বাচ্চারা হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে! অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা কেনো অবহেলার চোখে দেখছেন সেটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নগরীর সচেতন ব্যক্তিরা।