এফএনএস : ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডে নাসির উদ্দিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর-তেজগাঁও, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরা) এবং সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নাসির উদ্দিন মাহমুদের বাসায় অভিযানকালে বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পরীমণি কেন ওই ক্লাবে গিয়েছিলেন, তা জানতে চাইলে হারুন-অর-রশীদ বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসব বিষয় নজরে এনে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এর আগে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি। সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এতে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে সকালে রূপনগর থানার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন পরীমণি। ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মোট ছয়জনের নামে এ মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-৩৮। এর আগে গত রোববার রাতে প্রথমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বিচার চান পরীমণি। ফেসবুক পেজে পরীমণি লেখেন, ‘বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র।
আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদের পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়! পরীমণি আরও লেখেন, আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ।
আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুনি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করার থাকবে তখন! আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে! আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা।
আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাচঁতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।’ পরীমণির স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা বলেছিলেন, তিনি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। আমরা তার ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করব। তবে, কেন তিনি আইজিপি স্যারের নাম উল্লেখ করেছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।
আমরা নিশ্চিত, তিনি মোটেই আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আইজিপি স্যার সর্বদা নারী ও শিশুদের অধিকারের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে ‘নির্যাতনকারীদের’ নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন পরীমণি। তিনি দুজনের নাম প্রকাশ করে জানান, তাদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমণি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী।
পরীমণি বলেন, গত বুধবার রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাসির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। ওই সময় নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
এফএনএস : অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বাসায় ‘উঠতি বয়সী নারীরা’ এসে মদ পান করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর-তেজগাঁও, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরা) এবং সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানকালে নাসিরের বাসা থেকে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। তার বাসায় উঠতি বয়সী নারীরা এসে মদ পান করতেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।
নাসিরের বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন ছিল। হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হবে। পরীমনি কেন ওই ক্লাবে গিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসব বিষয় নজরে এনে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
এফএনএস : ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমণি ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের শিকার উল্লেখ করে বিএনপির এমপি হারুনুর রশিদ এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, সত্যিকার অর্থে যে বিষয়গুলো আজকে বিরাট আকারের সরকারকে নাড়া দিয়েছে সেই বিষয়গুলোকে সরকার দৃষ্টিতে নেবেন। পরীমণি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিল্পী। তিনি যে ঘটনার শিকার হয়েছেন, চার দিন থেকে তিনি বিচারপ্রার্থী। কিন্তু বিচার পাচ্ছেন না।
এটা কি অসত্য মাননীয় স্পিকার? গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১ আইনটি পাসের সময় জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব ও সংশোধনীর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে জনমত যাচাইয়ের সময় হারুন বলেন, বাংলাদেশে আইন আছে কিন্তু তার ব্যবহার নেই। অভিনেত্রী পরীমণির মতো ব্যক্তি ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের শিকার। কিন্তু আইন থাকার পরও বিচার পাচ্ছেন না তিনি। হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই।
অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গতকাল এ ব্যাপারে সমস্ত মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে আমার আর কী বলার আছে। প্রসঙ্গত, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিনেত্রী পরীমণি। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে গত রোববার প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাতে সাংবাদিকদের বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
এফএনএস : গত রোববার সন্ধ্যায় ফেসবুকে মর্মান্তিক এক ঘটনার স্ট্যাটাস দেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। জানান, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। এদিন রাতেই সংবাদসম্মেলনে বিচার ও নিজেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতাও কামনা করেন অশ্রুসজল এ তারকা। যা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশ। সহকর্মীর ওপর এমন নির্যাতনে শিল্পীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন তার। অনেকে ফেসবুকে জানিয়েছেন নানা মতামত।
ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর : আমরা কোথায় আছি! এ কোনও দেশে আমরা বাস করছি। স্বনামধন্য চিত্রনায়িকা পরীমণির সাথে যে অন্যায় হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। নারীর প্রতি কোনও সহিংসতা ও অত্যাচার সহ্য করবো না, মানবো না। দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, আমার মামনি’র (পরীমণি) জন্য বিচার চাই!
সাইদ হাসান টিপু বলেন, নগদ অ্যাকাউন্ট খুলসি একটা- পরীমণি কেন গেসিলো আর তার কী কী দোষ ছিল- এইসব যাদের মনে হয় তারা আমার লিস্টে থাকলে বিদায় নেন তাড়াতাড়ি। নগদে ব্লক খাইবেন; এই ধরনের পোষ্ট আমার টাইমলাইনে দেখলে। শাওন মাহমুদ জানান, মুহূর্তের জন্য হতাশ হই তখন, যখন দেখি আমার পরিচিত একজন সভ্য, সুশিক্ষিতা, ঢাকা ক্লাব ও আওয়ামী লীগ উপকমিটির সদস্য ইনিয়েবিনিয়ে ক্লাবের কোড অব কন্ডাক্টের সাথে পরীমণি যা বলছেন, তাতে অমিল খুঁজে পান।
এবং তিনি একজন নারী হয়েও তার কন্যাসন্তান থাকবার পরও পরীমণিকে দোষারোপ করবার পন্থা খুঁজে খুঁজে বের করেন। তথাকথিত সভ্যরা যখন অসভ্যতা শুরু করে তখন তারা নিজেদের অপ্রতিরোধ্য মনে করে। সেই মুহূর্তের হতাশা কেটে যায় যখন শুনি পরীমণি ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি মাথা উঁচু এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে এই মামলার শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। এক পা পেঁচাবেন না। পিশাচেরা নিপাত যাক, মানুষের জয় হোক। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক জানান, একজন মানুষের সাথে এমন অসভ্যতার তীব্র নিন্দা জানাই।
একজন নারীর সাথে এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। চলচ্চিত্র পরিবারের একজনের সাথে এমন ব্যবহারের তীব্র ঘৃণা জানাই। পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা প্রচেষ্টার বিচার চাই। কোনাল বলেন, আমরা যে কোনও কিছুতেই হাসি! কেউ ধর্ষিত হলেও হাসি, কেউ মরে গেলেও হাসি, কেউ কান্না করছে তা দেখেও হাসি, কেউ কষ্ট পাচ্ছে তা দেখেও হাসি। হাসাহাসি খুবই ভালো ব্যাপার। কিন্তু আপনার আমার এই স্বার্থপরতার হাসিটা বোধহয় আসে নিজের অক্ষমতা, নিজের ব্যর্থতা থেকে।
মানে আমি যে একজন লুজার, তা ঢাকতে জোরে জোরে হাসতে থাকবো আরেকজনের দিকে আঙুল তুলে। এটাই শ্রেষ্ঠ উপায় নিজেকে বাঁচানোর। ব্রাভো! পরিমণির এই আর্তনাদ, এই কান্না দেখে, ‘রেইপ’ এবং ‘আত্মহত্যার’ মতো এক্সট্রিম অনুভূতির কথা শুনেও যারা হাসেন, অভিবাদন আপনাদের। আপনি একজন সফল লুজার! আশা করছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরীর পাশে দাঁড়াবে।
সঠিক বিচার পাবেন পরী। আবার সেই প্রাণোচ্ছল, প্রাণচঞ্চল সুন্দর পরীকে আমরা পর্দায় দেখব। কায়েস আরজু, আমার বন্ধুর (পরীমণি) ওপর অন্যায়ের বিচার চাই। অপরাধী যেই হোক যত বড়ই হোক, তার বিচার হতেই হবে। অনেকে যা পারেন না পরিমণি তার প্রতিবাদ করে দেখিয়েছে। আর প্রতিবাদ নয়, এখন প্রয়োজন কঠিন প্রতিরোধ!