রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

রাজশাহীর কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের দিনকাল

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

আর কে রতন : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ১ বছর বেশি সময় ধরে সারাদেশে ন্যায় শিক্ষানগরী রাজশাহী সদরসহ ৯টি উপজেলার সকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিন্ডারগার্টেন পরিচালিত স্কুলগুলো ও প্রাইভেট সেন্টার এবং গৃহ শিক্ষকতা পুরোপুরি বন্ধ। এগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কর্মরত শত শত শিক্ষক-কর্মচারীরা। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা বলছেন সরকারি-এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষকরা মাস শেষে বেতন-ভাতা পেলেও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি।

কারণ তাদের বেতন শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন থেকে পরিশোধিত হয়ে থাকে। তাই অস্বচ্ছল পরিবারের এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী এবং অন্যদিকে গৃহ শিক্ষদের পরিবারে নীরব নিভৃতে চলছে দুর্ভিক্ষ। রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৪২৪টি কিন্ডারগার্টেন (কেজি স্কুল) রয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে (বোয়ালিয়া) কিন্ডার গার্টেন রয়েছে ১৩৩টি, পবায় ৭৩টি, গোদাগাড়ীতে ৪৫টি, চারঘাটে ২৩টি, তানোরে ১৩টি, দুর্গাপুরে ১৮টি, পুঠিয়ায় ১৮টি, বাগমারায় ৫৪টি, বাঘায় ২৩টি ও মোহনপুর উপজেলায় ২৪টি।

জানা গেছে, ৪২৪টি কিন্ডারগার্টেন (কেজি স্কুল) শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ৫ হাজারের অধিক। তারা কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা থেকে শুরু করে সব ধরণের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের অর্থ দিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকে। কিš‘ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারী নির্দেশে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে বন্ধ রয়েছে গৃহ শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক কিন্ডারগার্টেন ও গৃহ শিক্ষক জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল, প্রাইভেট দু’টোই ১ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। কষ্টের কথা হলো আমাদের অর্থবিত্ত না থাকলেও সমাজে আমরা শিক্ষক হিসেবে সম্মানীয়। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে বা কারো নিকট সাহায্য চাইতেও পারছিনা। এতে করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে’। রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি খালিদুজ্জামান খালিদ জানান, সরকারী স্কুলগুলোর পাশাপাশি আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শতভাগ নিশ্চিত করে যাচিছ।

কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সব কার্যক্রম সরকারের বিধি মোতাবেকই পরিচালিত হয়। কিন্ত এসব স্কুল শিক্ষকদের বেতন থেকে সব কিছু শিক্ষার্থীদের বেতন থেকেই চলে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছে। চলমান দুর্যোগে আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris