রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

মাহে রমজানের সওগাত

Paris
Update : শনিবার, ৮ মে, ২০২১

মুহম্মদ আলতাফ হোসেন : পবিত্র মাহে রমজানের আজ ২৫তম দিবস। দান-সদকা ও দয়ার মাস মাহে রমজান বিদায় নিচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। এই মাসের দয়া ও করুণার ফলগু ধারায় আমরা কতটা সিক্ত হতে পারলাম। এখন সেই হিসাব নিকাশের পালা। মহনবী (সা) এর বাণী ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণায় রমজান দয়া ও করুণার মাস। এই মাসে উপবাসরত মুসলমানরা অভাবী লোকদের দুঃখ সরাসরি অনুভব করতে পারেন। রোজাদার হবে সর্বাধিক দয়ালু। ক্ষুধা, পিপাসা ও কষ্টের দাবি হচ্ছে, অন্য মুসলিম ভাইয়ের অভাব দূর করা। দেশের অগণিত মানুষ ক্ষুধা ও জঠরজ্বালার শিকার, তাদের প্রতি নজর দেয়,া সহস্র লোক কাপড়হীন, তাদেরকে বস্ত্র দেওয়া হচ্ছে এ মাসের দান।

হাদীসে এই মাসকে রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস বলা হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহই মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তাই রোযাদারকেও অন্যের প্রতি দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহর একটি বিশেষ অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছে তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ দয়ালু লোকের উপর রহমত নাযিল করেন। আল্লাহ নিজেও দয়ালু এবং মেহেরবান। তিনি বান্দাদেরকে দয়া প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারাও যেন ধৈর্য এবং দয়ার উপদেশ দান করে। মানুষের অন্তরে দয়া না থাকার অনেক কারণ আছে।

অতিরিক্ত গুনাহ ও নাফরমানীর কারণে অন্তরে মরিচা পড়ে। ফলে, তা কঠোর বা পাষাণ হৃদয়ে পরিণত হয়। আল্লাহ ইহুদীদের পাপের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাদের অন্তর হয়ে গেছে পাথরের মতো, কিংবা এর চাইতেও বেশি (সূরা বাকারা-৭৪)। আল্লাহ আরো বলেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কারণে আমরা তাদের উপর অভিশাপ নাযিল করি এবং তাদের অন্তরকে শক্ত করে দেই (সূরা মায়েদা-১৩)।
অতিরিক্ত ভোগবিলাসের কারণেও অন্তর শক্ত হয়ে যায়। সেই জন্যই রমজানের আগমন, যেন মানুষের ক্ষুন্নিবৃত্তি ও ভোগবিলাসের উপর লাগাম দিতে পারে।

রমজানে সকল পর্যায়ের লোকের উপর দয়া ও মেহেরবাণীর অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পিত হয়। সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের জনগণের সাথে নম্রতা ও দয়া প্রদর্শন করা উচিত। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মাহর শাসনকর্তা নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সাথে কঠোরতা করে তুমিও তার প্রতি কঠোরতা করো, আর যে শাসনকর্তা তাদের সাথে নরম ব্যবহার করে তুমিও তার প্রতি নরম ব্যবহার করো।, (মুসলিম) সাহাবায়ে কেরাম অভাবী ও গরিবদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করতেন।

আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) কোন ফকীর মিসকীন ছাড়া ইফতার করতেন না। তিনি ইফতারের জন্য কোন গরিব লোক না পেলে সেই রাতে না খেয়ে থাকতেন। তিনি খানা খাওয়ার সময় কোন গরিব লোক সাহায্য প্রার্থনা করলে নিজের ভাগের খাবার টুকু দান করে দিতেন। কোন সময় ঘরে ফিরে দেখতেন যে আর কোন খাবার নেই। তখন তিনি না খেযে রাত কাটিয়ে দিতেন।

রমজান সকল নেক কাজের জন্য অধিক সওয়াবের মাস। দান-সদকা রমজানের একটি গুরুত্বকপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয়। রোজার উপবাসের মাধ্যমে গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট বুঝার পর তা দূর করার জন্য বাস্তব ব্যবস্থা হলো দান-সদকাহ করা। আর এ কারাণেই নবী করিম (সা) অন্যান্য মাসে বড় দাতা হওয়া সত্ত্বেও রমজানে তিনি আরো বেশি দান করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (সা) এমনিতেই সর্বাধিক দানকারী ছিলেন। কিন্তুু তিনি রমজানে জিবরীল (আ)-এর সাতে সাক্ষাতের পর প্রবাহমান বাতাসের মতো উন্মুক্ত হস্ত অধিকতর দাতা হয়ে যেতেন।’

(বোখারী) আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘রমযানের দান-সদকাহ সর্বোত্তম।’(তিরমিজী) যে কোন ঈবাদতের সওয়াব নিচে ১০ থেকে শুরু হয় এবং উপরের দিকে ৭শ বা আরো অধিক সম্প্রাসারিত। কিন্তুু একমাত্র আল্লাহর পথে দানের সওয়াব নিচে ৭শ থেকে শুরু হয় এবং উপরের দিকে আরো বেশি। ১০ থেকে শুরু হয় না। এটা দাস-সদকার বৈশিষ্ট্য। এ মর্মে আল্লাহ কোরআনে বলেন: ‘যারা আল্লাহর রাস্তা নিজেদের অর্থ-সম্পদ দান করে তাদের দানের উদাহরণ হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে ৭টি শিষ বা ছড়া জন্মায়।

প্রত্যেটি ছড়ায় একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরো বেশি দান করেন। আল্লাহ অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা-১৬১) আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো এবং তিনি তোমাদেরকে যে সম্পদের প্রতিনিধি বাণীয়েছেন- তা থেকে ব্যয় করো।’ (সূরা হাদীদ-৭)-আমিন


আরোও অন্যান্য খবর
Paris