রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

প্রশংসা কুড়ালেন নওদাপাড়া তরুণরা

Paris
Update : শনিবার, ১ মে, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া হাট এলাকায় তরুণদের উদ্যোগে রাস্তা পারাপারে জীবনের ঝুঁকি কমলো। দিনের পর দিন ঠিকাদারের অবহেলা আর গাফলতির কিছুটা ইতিটানালো রোডপাড়া এলাকার তরুণরা। নিজেদের অর্থ খরচ করে কালভার্টবিহীন বড় ড্রেনের উপর দিয়ে ঝুঁকিহীনভাবে পারাপারের উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি কিছুটা হলেও নিরাপদ হলো বলে মন্তব্য করলেন স্থানীয়রা। উক্তস্থানটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে প্রায় হাজার খানেক মানুষ। স্থানীয় তরুণদের এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন ঐস্থান দিয়ে যাতায়াতকারীরা।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য থেকে জানাগেছে, বিমানবন্দর সড়কটি দুইলেন থেকে চারলেনে উন্নীত করার নিমিত্তে প্রথম ধাপে রাস্তার পূর্বদিকে বড় ও গভীর ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টার প্রাইজ। নির্মাণ কাজের প্রথমদিকে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোন পন্থা না করেই আকস্মিকভাবে তারা পাড়ামহল্লার প্রতিটি ড্রেনের মুখ বালি ও মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। যার কারণে ড্রেন উপচে ময়লা আর নোংরা পানিতে একাকার হয়ে যায় বেশ কয়েকটি এলাকা। রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি ছাড়াও ড্রেনের ময়লা পানি ঠোকে মসজিদ আর মাদ্রাসাতেও।

ঐসময় বেশ কয়েক সপ্তাহ এলাকাবাসি ভোগান্তি পোহানোর পর পানি নিষ্কাশনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিসহ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানালেও কষ্ট লাঘোব হয়নি ভুক্তভোগীদের। অবশেষে ভোগান্তি চরমে ওঠার পর এলাকাবাসি ও মসজিদ মাদ্রাসার সকলে একত্রিত হয়ে মুখবন্ধ ড্রেন থেকে মাটি সরিয়ে দেবার পরের দিনই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন স্যালোমেশিন দিয়ে বেশ কয়েকদিন নিয়মিতভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় স্থানীয়রা। গেলবারে জমাটবদ্ধ নোংড়া পানির ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবার সাথে সাথে নতুন করে আবারো ভোগান্তিতে পরেন ১৭ নং ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ।

আবারো পূর্বের ন্যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার কারণে এবার চলাফেরার ভোগান্তির পাশাপাশি যুক্ত হয় জীবনের ঝুঁকিও। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে বিমানবন্দর সড়কের সাথে সংযোগ সড়কটি সম্পূর্ণ কেঁটে উক্তস্থানে ড্রেন নির্মাণ করাতে ঐস্থান দিয়ে যাতায়াত করা গাড়ি ও পথচারিদের পড়তে হয়েছে বিপদে। সামান্য কয়েক গজ যাবার জন্য গাড়িচালকদের প্রায় অর্ধ কিলোর বেশি ঘুরে যেতে হয়। রোডপাড়া, মহলদারপাড়া ও ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বাবু, আকাবর, মজিবর, আকবর, রাব্বানি, রানা, রাশেদ, সজিব, সবুজসহ আরো অনেকেই জানান,

সামান্য অংশ বাদ রেখে অবশিষ্ট অংশের কাজ চলমান রাখলে চলাচলে বিঘ্নতা হ্রাস পেতো; বিমানবন্দর সড়কের অনেক স্থানেই বিকল্প রাস্তা কিংবা কিছু অংশ ছেড়ে অবশিষ্টাংশের কাজ চলমান রাখার মতো কাজও তারা করেছেন। কিন্তু এখানে মানা হয়নি সেই নিয়ম। উপরন্তু, ড্রেন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হলেও ড্রেন পারাপারের জন্য তেমন কোন উপযুক্ত ব্যবস্থাও করে দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এলাকাবাসির দাবির মুখে নামকে ওয়াস্তে একাধিকস্থানে ভঙ্গুর আর ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি মোটা পিচ্ছিল টিনের পাত উক্ত ড্রেনের উপর বসিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেছেন ঠিকাদারের লোকজন।

যার কারণে প্রায় প্রতিনিয়ত উক্ত ঝুঁকিপূর্ণস্থান দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারিদের। ইতিমধ্েযই উক্তস্থান দিয়ে যাতায়াতকারীদের অনেকেই পড়েছেন দূর্ঘটনার কবলে। আহত হয়েছেন অনেকেই। পিচ্ছিল টিনের পাতটির উভয় প্রান্তে সরুভাবে আকাশের দিকে মুখ করে লোহার রডগুলো জানান দিচ্ছে পথচারিদের জীবন কেড়ে নেবার মতো বিষয়টি।

পাঁ ও মটর সাইকেলের চাঁকা পিছলে অনেকেই দূর্ঘটনার কবলে পরলেও জানে বেঁচে গেছে আল্লাহর রহমতে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। ঠিকাদারের লোকজনকে একাধিকবার বলেও এই অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়াতে গতকাল স্থানীয় তরুণেরা নিজেদের অর্থ দিয়ে বাঁশ কিনে পাড়াপাড়ের স্থানটিকে কিছুটা মজবুদ ও ঝুঁকিমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris