স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২৮ এপ্রিল শেষ হবে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউনের নির্ধারিত দিনক্ষণ। কিন্তু ঈদকেন্দ্রিক দেশের সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্যের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিনির্ধারকেরা গতকাল রবিবার থেকেই দেশের সমস্ত মার্কেট ও দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছেন। রমজান আর ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িদের চাপের মুখে ব্যবসার গতি কিছুটা স্বচ্ছল করার অভিপ্রায়ে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার বিষয়টি কতটা সুফল কিংবা বিফল বয়ে আনবে সেটা নির্ভর করছে সময়ের উপর। যদিওবা মুখে মাস্ক, স্বাস্থ্যবিধি মান্য আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য চলমান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু সেই নিয়মনীতির কতটা মান্য হচ্ছে সেটিও এখন দেখার বিষয়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট এগারোদিন সকল প্রকার মার্কেট, বিপনীবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরে গতকাল প্রথমবারের মতো খুলে দেওয়া হয়েছে নগরীর বিপনীবিতান আর শপিংমলগুলো। প্রথমদিনেই নগরীর পোষাকপল্লীতে লক্ষ্য করা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা সমাগম আর আনাগোনা দেখে বোঝার যেনো কোন উপায়ই নেই দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি। গতকাল ২৫ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৫৯ জন। এপর্যন্ত এবিভাগে মৃত্যু বরণ করেছে ৪৬৩ জন। রাজশাহী জেলাতে এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭১৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ১২০ জন।
ট্রিপল মিউট্যান্ড করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভারতের শহরগুলো আজ নাজেহাল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেনের অভাবে ভারতে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে রাখ লাখ মানুষ। ভারতের দিল্লিতে এখন চলছে আর্তনাদ আর আহাজারি। দিল্লির আকাশে বাতাসে এখন শুধু লাশ পোড়ানোর গন্ধ। রাস্তাঘাটেও মরে থাকছে মানুষ। ভারতের এমন শোচনীয় অবস্থার পরেও ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের শপিংমল আর বিপনী বিতানগুলো খুলে দেওয়া আর ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড় দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে মন্তব্য আর সমালোচনার ঝোড়ো হাওয়া।
ভারতে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে জায়গা দিতে না পেরে কর্তৃপক্ষ করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাধ্য হয়ে খুলে দিয়েছে মসজিদ ও মন্দির। সেখানে সারি সারি বিছানা পেরে করোনা রোগী শুয়ে আছে। #ওহফরধহঘববফংঙীুমবহ ভারতের এই ওয়েব সাইটি দেখে চোঁখে পানি এসে যায়। ট্রিপল মিউট্যান্ড করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত ব্যক্তিরা অক্সিজেনের অভাবে দিশেহারা হয়ে মুহুর্তে মুহুর্তে মারা যাচ্ছেন। এযেনো সর্বোচ্চ হৃদয় বিদারক দৃশ্য বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকইে মন্তব্য করেন।
গতকাল রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট, কোর্ট নিউমার্কেটসহ অন্যান্য কাপড়রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা আর হুমরি খেয়ে ঈদের পোষাক কেনা দেখে হতভম্ব হতে হয়েছে।
অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের যেনো কোন বালাই নেই। একজনের শরীরের সাথে আরেকজনের শরীর যেনো চুম্বকের ন্যায় আকড়ে আছে। শিশু ও কিশোর কিশোরীদের মুখে মাঝেমধ্যেই মাস্কবিহীন দৃশ্যও চোঁখে পরে। আরডিএ মার্কেটে থাকা একজন পুলিশ সদস্য হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বারবার এ্যানাউন্স করছেন স্বাস্থ্যবিধি মান্য সাপেক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য সামগ্রী কেনার বিষয়টি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। যে যার মতো করে হুমরি খেয়ে কিনছেন ঈদের পোষাক-পরিধেয়। এই ধরনের অমান্যতার বিষয়টি আগাম বার্তা দিচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের মতো করোনা ভাইরাসের মহামারি আকার ধারণ করার বিষয়টিকে। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি ও নীতিনির্ধারকেরা যদি এখনি হাল টেনে না ধরেন তবে আসু বিপদ সংকেতকে নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট কষ্টকর হয়ে দাড়াবে বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।