রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয় পবার ৬৬৯ পরিবার পেলো ফ্যামিলি কার্ড হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার

বাগমারার বিলসতী বিলে কথিত ‘জ্বীন’ বাহিনীর তাণ্ডব!

Paris
Update : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বড়বিহানলী ইউনিয়নে কথিত ‘জ্বীন’ বাহিনীর আবির্ভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এর আগে গত সোমবার আরেকটি মামলা হয়। তবে গ্রেফতার বা আটক হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল রাতে ‘জ্বীন’ বাহিনীর সদস্যরা ‘অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে কৃষকদের পাঁচটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে উপজেলার বড় বিহানালী গ্রামের বিলসতী বিলের প্রায় ১০০ একর জমির ধানখেতে সেচ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার রাতেই বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আজাহার আলী বিলসতী বিলের মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতিসহ দুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলায় রূপান্তরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটার দিকে ১০ থেকে ১২ জন বড় বিহানালী গ্রামের বিলসতি বিলে যান। তারা সাবেক ইউপি সদস্য আজাহার আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচটি শ্যালো মেশিনের ঘরে হামলা চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলেন। এ সময় তারা ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন’ বলে স্লোগান দেন। হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পাহারাদাররা পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে দুর্বৃত্তরা পাঁচটি মেশিনে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও আশপাশের খেতের ধানগাছ নষ্ট করে।

পালিয়ে যাওয়া পাহারাদাররা ঘটনাটি সাবেক ইউপি সদস্যকে জানালে তার লোকজন প্রতিরোধ করতে আসেন। এর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাগমারা থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিলসতী বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি অমূল্য হাওলাদার, সদস্য আলাউদ্দিনসহ আরও আট থেকে দশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আজাহার আলীর অভিযোগ, তিনিসহ আরও কয়েকজন বিলসতী বিলের খাসজমি ইজারা নিয়ে ধানখেতে পানি সেচ ও মাছ চাষ করে আসছিলেন। মৎস্য চাষ প্রকল্পের লোকজনের সেখানে জোর করে মাছ ধরেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

তারাই সেচযন্ত্র পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত। এর আগে গত ১০ এপ্রিল আজাহার আলীর দীঘি থেকে মাছ চুরির চেষ্টা করে ‘জ্বীন’ বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় এলাকাবাসী ১০ জনকে গণপিটুনি দেয়। আহতদের মধ্যে জ্বীন বাহিনীর ৩ সদস্যকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন, বড়বিহানালী ইউনিয়নের বড়বিহানালী গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), রুবেল হোসেন (৩০) ও বিপুল মিয়া (১৬)। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, বড়বিহানালী ইউনিয়নের বিলসুতি বিলে আজাহার আলী দীঘি খননের মাধ্যমে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ওই ইউনিয়নের আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতার গঠন করা জ্বীন বাহিনীর সদস্যরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিতে জাল নামিয়ে মাছ লুট করছিল। জানতে পেরে দীঘির মালিক আজাহার আলী এলাকার লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল যান। দীঘিতে গিয়ে তারা দেখতে পান, জ্বীন বাহিনীর ১০-১৫ জন্য সদস্য বেড়জাল নামিয়ে মাছ শিকার করছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ‘চোর’, ‘চোর’ বলে চিৎকার দিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। তখন জ্বীন বাহিনীর সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। গ্রামবাসীর হামলায় জ্বীন বাহিনীর ১০ সদস্য আহত হয়। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে জ্বীন বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পদে আসার পর থেকেই ওই প্রভাবশালী নেতা এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হামলা অথবা মামলার শিকার হতে হয়।

এছাড়াও এলাকার খালবিল ও সরকারী পুকুর গুলো জবরদখলের মাধ্যমে নিজের আয়ত্বে নেয়। দলীয় পদে আসায় তার ক্ষমতা বেড়ে যায়। এলাকায় অপকর্ম করার জন্য তিনি একটি বাহিনী গঠন করে তার নাম দেন ‘জ্বীন বাহিনী’। জ্বীন বাহিনী এলাকায় তান্ডব চালিয়ে অন্যে জমি জবরদখল ও পুকুরে মাছ লুটসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের ওই প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে এলাকার একাধিক বিল ও পুকুরের মাছ লুট করেছে বলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

দীঘির মালিক আজাহার আলী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ওই প্রভাবশালী নেতার কারণেই এলাকার পুকুর ও বিলে মাছ চাষ করার সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা রাতের আঁধারে তার জ্বীন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে পুকুর ও বিলের চাষ করা মাছ গুলো লুট করে নিয়ে যায়। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris