স্টাফ রিপোর্টার : চৈত্র মাসের আজ ১৯ তারিখ। রাজশাহীর তাপমাত্রা হঠাৎ করেই যেনো বিরূপ আচরণ নিয়ে হাজির হয়েছে। এসময় জলবায়ু ও আবহাওয়ার নিয়মানুযায়ী স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে গড়ে থাকার কথা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে; সেখানে গতকাল থেকে হঠাৎ করেই রাজশাহী নগরীর তাপমাত্রার স্বাভাবিকতা পেরিয়ে পৌচ্ছে গেছে মাঝাড়ি ধরনের তাপদাহে। প্রবাহিত বাতাসের সাথে তাপদাহ মিশ্রিত হয়ে গরমের পরিমানটা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি। অত্যধিক গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ আর শিশুরা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়ির পর্যবেক্ষক এএসএম গাউসউজ্জামান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা নাগাদ নগরীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস যেটি ছিল চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তিনি আরো জানান, তার আগেরদিন ৩১ মার্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৫ সেলসিয়াস, ৩০ তারিখে ছিল ৩৬.৬, এবং ২৯ তারিখে ছিল ৩৫.৬। পর্যবেক্ষকের ভাষ্যমতে ৩৭.০ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা পৌছলে সেটিকে মাঝারি আকারের তাপদাহ বলা চলে। সেহিসেবে গতকাল ১ লা এপ্রিল রাজশাহী নগরীতে মাঝারি আকারের তাপদাহ প্রবাহিত হয়েছে।
যেটি আগামী কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনাও আছে। এই ধরনের তাপদাহের প্রধান কারণ হিসেবে তিঁনি উল্লেখ্য করেন জলবায়ুর পরিবর্তন কে। এছাড়াও তিনি আরো জানান, আকাশে কোন প্রকার মেঘ না থাকা আর বৃষ্টি না হবার কারণেই নগরীতে এমন তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাওয়া সাপেক্ষে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে বলেও জানান সিনিয়র পর্যবেক্ষক গাউসউজ্জামান।
অত্যধিক গরম আর তাপদাহের কারণে নগরীতে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে ডাবের দাম। কয়েকদিন আগে যে ডাব বিক্রি হয়েছে ষাট টাকা দরে সেটি গতকাল থেকে বিক্রি হচ্ছে আশি থেকে নব্বই টাকা করে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ে দেখাগেছে সবচেয়ে ছোট ডাবটির দাম পয়ষট্টি টাকা, যেটি কয়েকদিন আগেও ছিল চল্লিশ টাকা। নগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোডের ডাব বিক্রেতা খায়রুল জানান, কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে ডাবের চালান কম আসছে। যার কারণেই ডাবের দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, সাহেব বাজারে গিয়ে দেখাগেছে আশি ও নব্বই টাকার নিচে কোন ডাব নেই। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, গরমে ডাব কম আসে। যার কারণেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী শহরে ডাব আসে বরিশাল জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।
এদিকে, রাজশাহী নগরীর বহরমপুর এলাকার ডাবের পাইকারী বিক্রেতা টুটুল জানান, অত্যধিক গরম আর বৃষ্টি না হবার কারণে ডাবের মুকুল বা ফুলগুলো ঝোরে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাব না হবার কারণে রাজশাহীতে চাহিদানুযায়ী ডাব সরবরাহ হচ্ছেনা। যার কারণেই ডাবের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, ডাবের নিয়মিত ক্রেতাদের বক্তব্য অনেকটাই ভিন্ন। ক্রেতারা বলছেন, একদিনের মধ্যেই ডাবের দাম এতোটা বেশি হয়ে যাবার অন্যতম কারণ হলো হঠাৎ করে নগরীতে তাপদাহ বৃদ্ধি।
ক্রেতারা আরো বলেন, দেশের দুর্যোগকারীন সময়ে অসাধু ব্যবসায়িরা পণ্যের দাম কোন কারণ ছাড়াই বাড়িয়ে দেয়। ডাবের দাম বৃদ্ধি পেলেও কমতে শুরু করেছে রসালোফল তরমুজের দাম। সপ্তাহখানেক পূর্বে যে তরমুজের কেজি ছিল পয়তাল্লিশ টাকা, সেটি এখন খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা কেজি দরে।
নগরীর সাহেব বাজার, লক্ষীপুর, তালাইমারি এলাকায় দুপুর একটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদিনের চাইতে ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে লোকসমাগম কম। ব্যবসায়িরা বলছেন অত্যধিক গরম আর হঠাৎ করে তাপদাহ পড়ার কারণে ক্রেতার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ইজিবাইকের স্ট্যান্ডগুলোতেও দেখাগেছে, গাড়ির চাইতে যাত্রীর সংখ্যা অনেকটাই কম। পিচঢালা রাস্তাগুলো আরো বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তাপদাহের কারণে উন্মুক্ত রাস্তাদিয়ে চলাফেরা করাটা যেনো অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে পথচারিদের জন্য। সামান্য একটু ছায়ার জন্য ব্যকুলতা লক্ষ করা গেছে পথচারিদের মধ্যে। নগরীর রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করাতে রাস্তার উভয় পাশের্^র বড়বড় গাছগুলো কর্তন করাতে ছায়াশীতল পরিবেশ হারিয়েগেছে নগরীর অধিকাংশ স্থান থেকেই। যার কারণে গরমের তীব্রতার পরিমাণটাও বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে মন্তব্য নগরবাসির।