আর কে রতন : রাজশাহীর মোহনপুর-তানোর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁসে বয়ে চলা একমাত্র শীবনদী। নদীটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা নওগাঁ এবং রাজশাহী জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭১ কিলোমিটার, গড়প্রস্থ ৩৭ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শিবনদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর ১০৬। নদীটির উৎস আত্রাই নদী হতে আর মোহনা বারনই নদীর। বিলুপ্তপ্রায় এই নৌপথ দিয়ে এক সময় অত্র অঞ্চলের মানুষের শহর-বন্দরে যাতায়াত করার একমাত্র উপায় ছিল নৌপথ। কিন্তু নদীর বেশি ভাগ অংশ ভরাট এবং দখল করে সেখানে চাষাবাদ হচ্ছে। ফলে নদী হারিয়েছে তার নিজস্ব রুপ।
শিব নদের ওপর দিয়ে সারি সারি পাল তোলা নৌকা ও লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। সেই সময়ের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা নৌঘাটগুলো এখন বিপন্ন। পানিশূন্যতায় সবগুলো নৌঘাট বন্ধ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সে দিনের যৌবন ভরা শীবনদীর বুকে দেখা মেলেনা আর সারি সারি পালতোলা বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ। কালের বিবর্তনে শীবনদ হারিয়েছে তার যৌবন। ভরাট হওয়া শীবনদীর বুকে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করছে। ফলে বর্তমানে নদীর বুকে সবুজের সমাহার দেখা যাচ্ছে। তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি দরশনাথ হালদার জানান, বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা শিব নদের বর্তমান চেহারা দেখে ভাবতেই পারবে না, এক সময় এই শিব নদের ওপর দিয়ে পাল তোলা নৌকা ও লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল ছিল।
ধীরে ধীরে নদী ভরা হওয়ার কারনে নৌঘাটগুলো বন্ধ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাই নেই আগের মত নদী পথ মানুষের বিচরন। তিনি আরো বলেন, নদী ভরাটের ফলে স্থায়ী মৎস্যজীবীরা এখন তাদের নৌকা ভাসিয়ে আগের মত মাছ ধরতে পারে না। যার জন্য মৎস্যজীবীদের বাপ-দাদার আদি পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে জীবিকার জন্য পেশা পরিবর্তন করছে। কৃষিতে জাতীয় বঙ্গবন্ধু পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, অতীতে রাস্তা-ঘাট না থাকায় এই এলাকার মানুষের জেলা শহর বা ঢাকায় যাতায়াত করার একমাত্র উপায় ছিল নৌপথ। বর্তমানে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে দু-একটি নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। ভরা বর্ষা মৌসুম পেরোতে না পেরোতেই নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ে।
একসময় স্রোতধারা এই নদীকে ঘিরে হাজারও পরিবার জীবন-জীবিকা চালিয়ে আসত। ছোট-বড় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের দেখা মিলত। কিন্তু আর সে রকম দৃশ্য চোখে পড়ে না। আজ সেই প্রানোবন্ত নদীর বুকে চাষিরা বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছে। তানোর সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক রহমান বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র উপায় ছিল নৌপথ। সারা বছর পাল তোলা নৌকায় কিংবা লঞ্চে খুব সহজেই শিব নদের ওপর দিয়ে নওহাটা ব্রীজঘাটে পৌঁছানো যেত। কিন্তু নদী ভরাট হওয়ায় পানি সংকটে নৌ যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নদী সংস্কার করা করে সেই পূর্বের ন্যায় পরিবেশ ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।