স্টাফ রিপার্টার : রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হিসেবে আব্দুল জলিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন গত ৫.৭.২০২০ ইং তারিখে। জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্তা হিসেবে প্রথম থেকেই জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সকলশ্রেণীর মানুষের কাছে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই খ্যাতি অর্জন করেন। সেই খ্যাতি আর সুনামের বাস্তবচিত্র ফুটে ওঠে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকার এগারো তম বর্ষপূর্তি ও একযুগে পদার্পণ উপলক্ষে ডিসি’র দপ্তরে শুভেচ্ছা প্রদান ও সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকারের এক আলাপচারিতায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, সিনিয়র সহকারী কমিশনার সামিমা শারমিন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শারমিন আক্তার, ডেপুটি কালেক্টর আব্দুল্লাহ আল রিফাত নেজারত, স্টাফ অফিসার সুমন চৌধুরী, সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে দৈনিক আমাদের রাজশাহী’র সম্পাদক ও প্রকাশক আফজাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার শাহানুর রহমান রানা, ফটোসাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান সোহাগ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক আমাদের রাজশাহী পরিবারের সাথে আলাপচারিতার প্রথমেই জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল রাজশাহী মহানগরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি রাজশাহী শহরটিকে বসবাস উপযোগী ছাড়াও অত্যন্ত আরামদায়ক একটি নগরী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। অযাচিত কারণে রাজশাহীর সাধারণ মানুষ ছাড়াও সাংবাদিক কমিউনিটিও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সময় ক্ষেপন না করায় তিনি বিষয়টিকে প্রশংসার দাবিদার বলেও উল্লেখ্য করেন।
তিনি আরো বলেন, শীতের সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে শীতার্ত, দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে নিজেদের অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। শীতবস্ত্র বিতরণকালে ফটোশেসনের বিষয়টি তিঁনি প্রথম থেকেই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিঁনি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকঢোল পিটিয়ে ফটোসেশন করে পত্রিকার শিরোনাম হবার মতো চীফ পপুলারিটি পাবার জন্য সরকার আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন নাই।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমাকে যে কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেছেন আমি সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে চাই। সে কারণে আপনাদের সকলের সহোযোগিতা আমার কাম্য। অনেক এনজিও আছে যারা সারাবছর মানবাধিকার নিয়ে গলা ফাটিয়ে দেশজুড়ে সমাবেশ করে। কিন্তু, তাদেরকে আমি বলতে চাই, আপনারা মানবাধিকারের কথা সারাবছর না বলে বাস্তবতা দেখে কিছু করার চেষ্টা করেন।
দিনের আলো হিজড়া সংঘের অনুরোধে রাজু ও মারুফ নামের দুজনকে ডিসি অফিসে চাকুরী দিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছুটা আবেগালুপ্ত হয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, যারা ছেলেও না মেয়েও না তাদের যে দুঃখ এই পৃথিবীতে সেটা শুধু তারাই অনুভব করেন; আমরা সেটা কখনোই অনুভব করতে পারবোনা।
স্থানীয় পত্রিকার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় পত্রিকার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো আমাদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে নাস্তার টেবিলে আমি সর্বপ্রথম স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রতি নজর দিয়ে থাকি। কারণ, আমি যেহেতু দাপ্তরিকভাবে রাজশাহী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি তাই, নিজের আওতাভুক্ত অঞ্চলের কোথায় কি হচ্ছে সেটা স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমেই জানা সম্ভব। কক্সবাজার কিংবা খুলনাতে কি হচ্ছে সেটি একজন ডিসি হিসেবে আমার জানা প্রয়োজন হলেও অত্যাবশক নয়। স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অনেক তথ্য-উপাত্ত থাকে যেগুলো স্থানীয় প্রশাসনের অনেক কাজে লাগে।
তাছাড়া রাজশাহী থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মানও ভাল। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর সাংবাদিক কমিউনিটি অত্যন্ত ভদ্র, নম্র। তাঁরা অযাচিত কোন কারণে ডিসি অফিসে এসে ঝামেলা কিংবা বিভ্রান্ত করেন না। রাজশাহীর মানুষের চাওয়া পাওয়া অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে অনেক কম। এরা খুব নিরীহ আর মিতব্যয়ী। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের তেমন কোন আগ্রহ নেই বললেই চলে।
তিনি দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকার একযুগ পদার্পণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে সমাজের অসংগতি আর সমস্যাগুলো পত্রিকার পাতায় তুলে ধরে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা ও সহোযোগিতার করার কথা বলেন। এর পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ অপসাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছেন। যেটা কারোই কাম্য নয়।
আলাপচারিতায় তিনি আরো বলেন, ‘আমার সমালোচকরা আমার বন্ধু, কারণ সমালোচনা যার আছে তার সেদিকটা সুধরিয়ে নেওয়ার সুযোগটাও আছে’। অর্থ্যাৎ সমালোচনা আছে বলেই সেটি ওভারকাম করার সুযোগও তৈরি হয়। একজন মানুষ সবার কাছে কখনোই ভাল হতে পারেন না। তিনি আরে বলেন, আমার ইচ্ছে ছিল স্থানীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদক ও প্রকাশকদের সাথে আমি সাক্ষাৎ করবো। কিন্তু কাজের চাপে সেটি এখনো হয়ে উঠেনি। গণমাধ্যম সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, “সরকার ও জনগণের মধ্যে যে সম্পর্ক সেটা ব্রিজিং হিসেবে কাজ করে গণমাধ্যমগুলা”।
তিনি আরে বলেন, সংবাদমাধ্যম ছিল বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এতো স্বল্প সময়ে সম্ভব হয়েছে। কারণ সমাজের অসংগতি আর স্থানীয় ও জাতীয় অপরাধগুলো সংবাদমাধ্যম নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে বারবার প্রকাশ করে বলেই আজ সমাজের অপরাধ প্রবণতা আর কলুষিত বিষয়গুলো অনেকটাই কমে গেছে। গণমাধ্যমগুলোই সরকারকে বাধ্য করেছে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধি কর্তৃক অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য। যেটি অবশেষে সম্ভবও হয়েছে।
সর্বশেষে তিনি বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পর্কীত আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কোন পাওনাদার যেনো অযথা হয়রানির স্বীকার না হন; এবং উপরন্তু তাদের কাজ সম্পন্ন করতে যেনো অনৈতিকভাবে কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারিকে টাকা দিতে না হয় সেবিষয়টির প্রতি আমি দাপ্তিরিকভাবে যথেষ্ট সোচ্চার রয়েছি। যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণ বাবদ জমির প্রকৃত মালিকদেরকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। ডিসি অফিসে এসে কেউ যেনো কোন প্রকার ভোগান্তির সম্মুখিন না হন সেবিষয়ে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকি বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, আগত মহান স্বাধীনতা দিবসে যেনো অন্যদের কাছ থেকে অনুদানপূর্বক কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা নিতে না হয়, মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঢাল করে কাউকে যেনো আর্থিক বিষয়ে কন্ট্রিবিউশন করার জন্য কোন প্রকার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ চাপ দেওয়া না হয় সেবিষয়েও আমি সোচ্চার রয়েছি। আমি কারো কাছ থেকে টাকাও তুলবো না, কারো কথাও শুনবোনা। তাই, ডিসি অফিসের নিজস্ব ফান্ড থেকেই মহান স্বাধীনতা দিবসটি আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে চাই বলেও জানান তিনি।