সোমবার

৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

নগরীর কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

Paris
Update : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর টিকাপাড়াস্থ কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থায়ী কর্মচারিদের অবসরকালিন পাওনা টাকাসহ মেডিকেল ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ ছাড়াও অন্যান্য ভাতাদি ও শ্রমিকদের সাথে অসদাচরণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর পর পেনশনের পাওনা টাকা আটকিয়ে রেখে নামমাত্র বেতনে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে কাজ করিয়ে নেবার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়াও, ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের ওভার টাইমের বিলও আটকিয়ে রাখার অভিযোগ আছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

ভুক্তবোগীদের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মজুরী পরিশোধ আইন’ ১৯৩৬, ভবিষ্য তহবিল আইন’ ১৯২৫, ও বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারা বছরের পর ধরে অমান্য করার প্রবণতা লক্ষ্যনীয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র উৎপাদন সহকারি দেলোয়ারা বেগম ২০১৭ সালে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করলেও এখনো পর্যন্ত পাননি নিজের অবসরকালীন পেনশনের সামান্য অর্থটুকু। নানারকম টালবাহানায় কর্তৃপক্ষ তাকে ঘুড়াচ্ছেন বছরের পর ধরে বলে অভিযোগ দেলোয়ারা বেগমের।

দেলোয়ারা বেগম কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে ০২-৯-১৯৯১ তারিখে সিনিয়র উৎপাদন সহকারি পদে যার কোড নং-৩৭ হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে সেখানে কর্মরত অন্যান্য কর্মচারি ও শ্রমিকদের পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে সকলকে নিয়ে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু, অন্যদের জন্য কিছু করতে গিয়ে তিনি অবশেষে চাকুরী হারান। চাকুরি থেকে দেলোয়ারা বেগমসহ আরো বেশ কয়েকজনকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন কর্তৃপক্ষ বলেও জানান তারা।

চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের পেনশনকালীন পাওনার মাত্র একলাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এখনো পর্যন্ত দেয়নি বলে জানান দেলোয়ারা বেগম। বিষয়টি নিয়ে বেশি বারাবারি করলে ফল ভাল হবেনা বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অসদাচরণ করেন কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র উৎপাদন সহকারী দেলোয়ারা বেগম ২০১৭ সালে চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেননি। তিনি তখনও পরিপূর্ণভাবে যোগ্য ছিলেন প্রাত্যহিক কর্ম করে যাবার জন্য। কিন্তু, শ্রমিক ও কর্মচারিদের দাবি দাওয়া নিয়ে সড়েজমিনে আন্দোলনের নের্তৃত্ব দেওয়াতে কাল হয়ে দাড়ায় কর্তপক্ষের কাছে। শারীরিকভাবে যোগ্য থাকার পরেও আন্দোলনের কারণে দেলোয়ারাসহ আরো বেশকয়েকজন কর্মচারিকে কৌশল অবলম্বন করে জবরদস্তি চাকুরির ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে নেন কর্তৃপক্ষ।

চাকুরীর অবসরকালীন ভাতা ও পেনশনের পাওনা অর্থ দিতেও কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করেন। বেশ কয়েকবছর অতিবাহিত হবার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি স্থানীয় থানাকে অবগত করলেও তেমন কোন প্রতিকার পাননি আজ অবদি। উপরন্তু, বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফলাফল ভাল হবেনা বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেও জানান ভুক্তভোগী দেলোয়ার। গেল ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা রাজশাহী সাগড়পাড়াস্থ কার্যালয় ও কারখানা পরিদর্শনে আসেন।

তখন ভুক্তভোগী দেলোয়ারা বেগম প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে নিজের পেনশনের পাওনা টাকা নিয়ে কথা বলতে চাইলেও রাজশাহীস্থ ম্যানেজার জাকির তাকে বাঁধা প্রদান করে বলে জানান তিনি। তিন বছর পেড়িয়ে চার বছরের পারম্ভে এসেও অসহায় দেলোয়ারা নিজের পেনশনের টাকা না পেয়ে উচ্চমূল্যের এই বাজারে বেকার ছেলে শুভকে (৩০) নিয়ে বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। একদিকে, নিজের পেনশনের সামান্য টাকা পাওয়া থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত; তো অন্যদিকে, ছোট ছেলে শুভ করোনাকারীন সময়ে হয়েছেন বেকার। এযেনো মরার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা।

ছেলে শুভ রেলওয়ে মার্কেটের একটি ইউনানী ও হারবাল ফার্মেসিতে বেশ কেয়ক বছর ধরে কর্ম করলেও করোনার কারণে মালিক তাকে ছাঁটাই করেন। বেকার ছেলে আর উচ্চমূল্যের এই বাজারে প্রাত্যহিক ভিত্তিতে কর্ম করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন দেলোয়ার। সামান্য কিছু টাকার অভাবে তিনি নিজের ছেলেকে ছোট্ট একটি দোকানঘরও নিয়ে দিতে পারছেন না। কোম্পানী থেকে নিজের পাওনা টাকাটা পেলে হয়তো ছেলেকে ছোট্ট একটি দোকান করে দিতে পারতেন বলে জানান তিনি।

এই বৃদ্ধ বয়সে বেকার ছেলে আর অর্থনৈতিক কষ্টকে সঙ্গে নিয়ে জীবন চালানো যে কতটা কঠিণযুদ্ধ সেটা শুধু যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া পরিবারগুলোই অনুধাবন করেন বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দেলোয়ারা। ভুক্তভোগী দেলোয়ারা বেগম একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা। বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। মরহুম সেই মুক্তিযোদ্ধার নামে এখনো রাজশাহী পুলিশ লাইনস্ এ মাথা উচু করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে একটি অস্ত্রাগার ও স্মৃতি স্তম্ভ। মুক্তিযোদ্ধার নামে অস্ত্রাগার থাকার পরেও আজ পর্যন্ত গেজেটে নাম উঠেনি সেই মরহুম মুক্তিযোদ্ধার।

দেলোয়ারা বেগমের বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দীলশাদ বিশ^াস। গেল বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে অস্ত্রাগার, গেজেটে নেই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানাগেছে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিলশাদ বিশ^াসকে ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঐ মুক্তিযোদ্ধার আর কোন খবর পায়নি তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থপনা পরিচালকের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে অন্য একজন ধরেন। রাজশাহীস্থ কার্যালয়ের শ্রমিক অসন্তোষ ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় এবিষয়ে উনারা কোন কথা বলবেন না। তিনি রাজশাহীস্থ কর্মকর্তা ফজলুল হক ও জাকিরের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে বলেন।

কিন্তু একাধিকবার তাদের উভয়ের নাম্বারে ফোন দিলেও তাঁরা রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ পরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজশাহীস্থ কর্মকর্তা ফজলুলের নাম্বার একইসাথে ওয়েটিং পাওয়া যায়। প্রায় ঘন্টাখানেক পড়ে ফজলুল হক ফোন করে পত্রিকার প্রতিবেদকের করা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়টি অন্যদিকে নেবার চেষ্টা করেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris